Home Page

Is it verified id......? 114

কিভাবে আপনার প্রথম চলচ্চিত্রটি বানাবেন ?

Details : 8.

সামান্য কৈফিয়ত : কথা ছিল, বইটি বেরুবে এই বছরের বই মেলায়। কিন্তু আয়োজনটা বড় বলেই নানা কাজের ফাঁকে আর লেখাটা শেষ হয়েও শেষ করা হয়ে ওঠেনি। এত বেশি সম্পাদনা করতে হচ্ছে যে, নিজেই অবাক হয়ে যাচ্ছি। যাই হোক, ব্লগে আবারও লেখাটা দেয়া শুরু করলাম। তবে এবার মাঝখানে অনেক অনেক অংশ বাদ দিয়ে সরাসরি চলে যাচ্ছি ফ্রেম কম্পোজিশনে। আরেকটা কথা, লেখার কোথাও ভুল থেকে গেলে দয়া করে ধরিয়ে দেবেন। ভীষণ কৃতজ্ঞ হব। শুরুর আগে : শুটিং শুরুর আগে ক্যামেরায় গৃহীত শট সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান অর্জন করে নেই। বিশেষত কম্পোজিশন সম্পর্কে মৌলিক ধারণা না থাকলে সমস্যায় পড়তে হবে। আসুন জেনে নেয়া যাক, কম্পোজিশনের মৌলিক নিয়মগুলো। তার আগে জেনে নেই কম্পোজিশন কী ? কম্পোজিশন : একটা ফ্রেমের মধ্যে কোথায় কোন জিনিসটা রাখবেন, কিভাবে রাখবেন, কোনটাকে গুরুত্ব দেবেন, কোনটাকে দেবেন না, কোনটা বড় হবে, কোনটা ছোট হবে ইত্যাদি ব্যাপারগুলো সাজানোই কম্পোজিশন। কম্পোজিশনের কিছু মৌলিক নিয়ম : আপনি জীবনে কখনও না কখনও অবশ্যই আপনার পরিচিত জনের ছবি তুলেছেন। যখনই ছবি তুলেছেন, তখনই না জেনেই কিছু নিয়ম-কানুন মেনে নিয়েছেন। যেমন : যার ছবি তুলেছেন, তাকে ফ্রেমের মাঝখানে রেখে ছবি তুলেছেন, তার চেহারা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, তাকে চেনা যাচ্ছে, তার মাথা কাটা যায় নাই ইত্যাদি ইত্যাদি। কোন নিয়ম-কানুন না জেনেই যে কেউ এই রকম ফ্রেমে ছবি তুলতে পারে। কিন্তু যেহেতু আপনি জীবনের প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন, স্বভাবতই আপনি আর না জেনে কাজ করবেন না। আসুন, জেনে নেয়া যাক সাধারণ নিয়মগুলো --- ০১) হেড রুম : যখনই কারো ছবি তুলতে গেছেন, তার মাথা উপর সামান্য জায়গা ছেড়েছেন যাতে করে তার মাথা না কাটা যায়। ফ্রেমের উপরের দিকে শেষ সীমানা থেকে তার মাথা পর্যন্ত ছেড়ে দেয়া এই জায়গাটাকে বলে হেড রুম। এই ক্ষেত্রে আপনার মডেল ক্যামেরার দিকে সরাসরি তাকিয়ে আছেন। এইভাবে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছবি তোলাকে বলে সাবজেকটিভ স্টাইল। আমরা পাসপোর্ট সাইজ ছবি তোলার সময় সব সময় সাবজেকটিভ স্টাইলে ছবি তুলে থাকি। হেড রুম কতটুকু হবে ? হেড রুম হিসেবে ছেড়ে দেয়া জায়গাটি অনেক বেশি হলে আপনার মডেলের ছবি ভালো লাগবে না। আবার হেড রুম অনেক কম হলেও ভালো লাগবে না। মাথা কাটা গেলে তো বাজে লাগবে। সাধারণত উপর নিচে ফ্রেমে মোট জায়গার তিন ভাগের একভাগের থেকে ছোট হয় হেড রুম। এর বেশি হলে বাজে লাগে। তবে একটা কথা মনে রাখবেন, চলচ্চিত্রে বিশেষ উদ্দেশ্যে মাথা কাটা গেলেও সেই ছবি নিয়ম মেনে তোলা। এই রকম ছবি আমরা অহরহই চলচ্চিত্রে দেখে থাকি। সেই নিয়ম আমরা পরে শিখব। আদর্শ মাপের হেড রুম ০২) সাবজেকটিভ ও অবজেকটিভ স্টাইল : ইতিমধ্যে আপনি জেনে গেছেন, মডেল ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকলে সেটা সাবজেকটিভ স্টাইল। তাহলে ক্যামেরার দিকে না তাকিয়ে ছবি তুলতে সেটাকে কোন স্টাইল বলব ? বুঝে গেছেন, জানি। সেটা অবজেকটিভ স্টাইল। টিভি রিপোর্টাররা যখন সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে পিটিসি দেন, তখন সেটা সাবজেটিক স্টাইল শট হয়। অন্য দিকে কোন মডেল ক্যামেরার দিকে না তাকালেই শটটি অবজেকটিভ হয়ে যায়। এবার নিচে দুটি উদাহরণ দেখুন । সাবজেকটিভ স্টাইল অবজেকটিভ স্টাইল ০৩) লুক রুম : অবজেকটিভ স্টাইলে ছবি তুললে মডেল ক্যামেরার দিকে তাকায় না। ফলে সে তাকায় ফ্রেমের কোন এক দিকে। সেটা ডান বা বায়ে হতে পারে। যেমন নিচের ছবিতে মডেল তাকিয়ে আছে ডান দিকে। লুকরুমের সাধারণ কম্পোজিশন (রুল অব থার্ড না মেনে) সে যে দিকে তাকায় সে দিকে যে ফাকা জায়গা রাখা হয় সেটাই লুক রুম। ফ্রেমের যে দিকে তাকিয়ে আছে মডেল, সেই দিকের সীমানা থেকে মডেলের নাক পর্যন্ত ফাকা জায়গাটাকে বলে লুক রুম। সাধারণত মডেলের পেছনের দিকে কম জায়গা রাখা হয়, সামনে বেশি জায়গা রাখা হয়। নিচের ছবিতে দেখুন, মডেলের ডানপাশে বেশি জায়গা রাখা হয়েছে। লুকরুমের সাধারণ কম্পোজিশন (রুল অব থার্ড মেনে) কিন্তু যদি এর উল্টোটা করা হয়, অর্থাৎ মডেলের পেছনে বেশি জায়গা রাখা হয়, তবে মডেলের পেছনের এই ছেড়ে দেয়া জায়গাটিকে অনর্থক শূন্য জায়গা বলে মনে হয়। যেমন নিচের ছবিতে দেখুন, মডেলের সামনে জায়গা না রেখে পেছনে জায়গা রাখা হয়েছে, ফলে ছবিটিতে মডেলের পেছনের জায়গাটিকে অস্বাভাবিক শূন্য মনে হচ্ছে। কোন কারণ ছাড়াই লুক রুম না রেখে পেছনে বেশি জায়গা ছেড়ে দেয়াটা ঠিক নয়। তাতে করে পেছনে যে অস্বাভাবিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়, সেটা ফ্রেমের সৌন্দর্যহানি ঘটায়। অন্য দিকে সামনে জায়গা ছাড়তে ছাড়তে অতিরিক্ত জায়গা ছাড়লেও সেটা ভালো দেখায় না। যেমন নিচের ছবিতে মডেলের সামনে লুক রুম রাখতে হিয়ে অতিরিক্ত জায়গা ছাড়া হয়েছে। লুক রুম কতটুকু হবে ? লুক রুম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরী নিয়মটি হল দ্যা রুল অব থার্ড। আসুন এবার এই নিয়মটি বুঝি। ০৪) দ্যা রুল অব থার্ড : গোটা ফ্রেমটাকে ডানে বামে এবং উপর নিচে তিন ভাগ করে ফেলার পর সেটা ধরে ছবি তোলার নিয়মকে বলে দ্যা রুল অব থার্ড। সাধারণত এই রুল অব থার্ড মেনে লুক রুম রাখা হয়। ডানে বা বায়ে যে দিকে মডেল তাকায়, সে দিকে তিন ভাগের দু’ভাগ জায়গা ছেড়ে দেয়া হয়। বাকী এক ভাগ জায়গা মডেলের পেছনে রাখা হয়। মডেলের মাথার উপর হেডরুম রাখার ক্ষেত্রেও অনেক সময় রুল অব থার্ড মানা হয়। নিচের ছবিটি ভালো করে দেখলেই রুল অব থার্ড বুঝে যাবেন । লুক রুম রাখার ক্ষেত্রে বর্তমানে এই রুল অব থার্ড প্রায় সকল ক্ষেত্রেই মেনে চলা হয়। মডেল : স্মৃতি আঁচল। ফটোগ্রাফি : এটিএম জামাল। (চলবে) আমি চেষ্টা করছি এই টেকনিক্যাল বিষয়গুলো যতটা সহজ করে লেখা যায়, ততটা সহজ করে লিখতে। যাতে করে যে কেউ এই ধরনের বিষয় খুব সহজে বুঝে ফেলে। আমি কি সহজ করে লিখতে পারছি ? **********************************

9.

০৫) ক্যামেরা কোণ : আনুভূমিক ক্যামেরা কোণ : সাধারণত আমরা কোন চরিত্রের সামনে থেকে ছবি তুলতে অভ্যস্ত। কিন্তু কেবল সামনে থেকে ছবি তোলা নয়, চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য চরিত্রের বিভিন্ন দিক থেকে ছবি তোলার দরকার হয়। সে ক্ষেত্রে চরিত্রের চারপাশে ক্যামেরা ঘুরে আসতে পারে। চরিত্রের পাশে যখন ক্যামেরা থাকে, তাকে বলে প্রোফাইল এঙ্গেল বা কোণ। এই কোণে ক্যামেরা রেখে যে শট নেয়া হয়, তাকে প্রোফাইল শট বলে। চরিত্রের পেছনের যখন ক্যামেরা থাকে, তাকে বলে ব্যাক এঙ্গেল বা কোণ । এই কোণে ক্যামেরা রেখে যে শট নেয়া হয়, তাকে ব্যাক শট বলে। আনুভূমিকভাবে ক্যামেরা বিভিন্ন কোণে রেখে কিভাবে শট গ্রহণ করা যায়, সেটা নিচের ছবিতে দেখুন। আনুভূমিকভাবে ক্যামেরার বিভিন্ন কোণ আনুভূমিক ক্যামেরা কোণ ব্যবহার করে বিভিন্ন দিক থেকে ছবি তুলতে পারা যায়। ক্যামেরা ক্রমশ ডান দিকে কোণ করে সরতে শুরু করলে নিচের ছবিগুলোর মতো ছবি তোলা যাবে। এই ভঙ্গিতে ডান দিকে ক্যামেরা সরে যাওয়াকে বলা হয় পজিটিভ এঙ্গেল। যেমন : অন্য দিকে ক্যামেরা ক্রমশ বাম দিকে কোণ করে সরতে শুরু করলে নিচের মতো করে ছবি তোলা যাবে। এইভাবে ক্যামেরা বাম দিকে ক্যামেরা সরে যাওয়াকে বলে নেগেটিভ এঙ্গেল। যেমন : আনুভূমিক এই কোণগুলিতে কতগুলি নামে ডাকা হয়। নামগুলো জেনে নিলে কাজ করতে সুবিধা হবে। আসুন উদাহরণসহ নামগুলো জানি। নিচের ছবিটি দেখুন। সামনে থেকে মডেলের ছবি তোলা হয়েছে। একে বলে ফ্রন্টাল ক্যামেরা এঙ্গেল বা সামনের ক্যামেরা কোণ। ফ্রন্টাল ক্যামেরা এঙ্গেল বা সামনের ক্যামেরা কোণ চারভাগের তিনভাগ কোণে ক্যামেরা ডানে বা বামে সরালে দুটি বিশেষ কোণ পাওয়া যায়। ক্যামেরা ডানে সরালে তাকে বলে ত্রি ফোর্থ ফ্রন্ট রাইট ক্যামেরা এঙ্গেল বা ৩/৪ ডান কোণের সামনের শট। অন্য দিকে চারভাগের তিনভাগ কোণে ক্যামেরা বামে সরালে তাকে বলে ত্রি ফোর্থ ফ্রন্ট লেফট ক্যামেরা এঙ্গেল বা ৩/৪ বাম কোণের সামনের শট। আবার এই দুই প্রকার শটকেই সংক্ষেপে ৩/৪ প্রোফাইল নামেও ডাকা হয়। এই শটের ক্ষেত্রে রুল অব থার্ড মেনে লুক রুম রাখা ভালো । সাধারণত চলচ্চিত্রে যে কোন চরিত্রের কোজ আপ শট নিতে গেলে এই কোণ বেছে নেয়া হয়। এই কোণের ক্ষেত্রে বিশেষ কতগুলো সুবিধা আছে। এই কোণে ছবি তুললে ছবিটি ত্রিমাত্রিক দেখা যায়। নাক, চোখ, মুখ, ঠোঁট ইত্যাদিতে আলোর খেলা ও অভিব্যক্তি পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। নিচে পাশাপাশি দুটি শট আমরা দেখি। ৩/৪ ফ্রন্ট লেফট ক্যামেরা এঙ্গেল ৩/৪ ফ্রন্ট রাইট ক্যামেরা এঙ্গেল ক্যামেরা আরও ডানে বা বামে সরিয়ে ৯০ ডিগ্রি কোণে নিয়ে গেলে যে কোণের শট পাওয়া যায়, তাকে বলে প্রোফাইল শট। নিচে দুটি প্রোফাইল শট দেখুন। প্রথমটি বাম দিকে ক্যামেরা সরিয়ে তোলা এবং দ্বিতীয়টি ডান দিকে ক্যামেরা সরিয়ে তোলা। লেফট প্রোফাইল শট রাইট প্রোফাইল শট এ ছাড়াও ৩/৪ প্রোফাইল শট পেছন দিক থেকেও হতে পারে। এটাকে বলা হয় থ্রি ফোর্থ ব্যাক প্রোফাইল শট। যেমন : ৩/৪ লেফট ব্যাক প্রোফাইল শট ৩/৪ রাইট ব্যাক প্রোফাইল শট ৩/৪ ব্যাক প্রোফাইল শটের সাহায্যে মডেল বা চরিত্র কী দেখছে সেটা একটা শটের মাধ্যমে খুব সহজে ফুটিয়ে তোলা যায়। তাছাড়া অন্য কেউ তাকে পেছন থেকে দেখছে এই ধরনের শটের েেত্র এই শট দুর্দান্তভাবে ব্যবহার করা যায়। পরিপূর্ণ ১৮০ ডিগ্রি ক্যামেরা ঘুরে গেলে দেখা যায় ফুল ব্যাক শট। এই ধরনের শটে মডেলের মুখ পুরোপুরি দেখা যায় না। বরং মডেলের পিঠ বা পিছন দিক দেখা যায়। ফুল ব্যাক শট উল্লম্ব ক্যামেরা কোণ : উপর নিচে ক্যামেরা উঠানোর েেত্র বিবেচনা করা মানুষের চোখ । মানুষের চোখ আনুভূমিকভাবে তাকায়। আমরা সাধারণভাবে ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার সময় ক্যামেরা আনুভূমিক কোণে রাখি। মডেলের দিকে আনুভূমিকভাবে তাক করি। কিন্তু ক্যামেরাকে উল্লম্বভাবে মডেলের চারপাশে ঘুরিয়ে আনা সম্ভব। ক্যামেরা উপরে এবং মডেল নিচে থাকলে তাকে বলে হাই এঙ্গেল শট। ক্যামেরা ও মডেল আনুভূমিক থাকলে তাকে বলে ন্যাচারাল এঙ্গেল শট। ক্যামেরা নিচে এবং মডেল উপরে থাকলে তাকে বলে লো এঙ্গেল শট। যেমন : ক্যামেরার বিভিন্ন উল্লম্ব কোণ : এবার বিভিন্ন উল্লম্ব ক্যামেরা কোণ সম্পর্কে জানা যাক। আগেই বলেছি, ক্যামেরা উপরে এবং মডেল নিচে থাকলে তাকে বলে হাই এঙ্গেল শট। হাই এঙ্গেল শটে মডেল বা অভিনেতা সরাসরি সামনের দিকে তাকিয়ে থাকলে সেেেত্র লুক রুম দরকার নাই। তবে হেড রুম থাকবে। তবে মডেল ডান বা বামে তাকালে সেেেত্র লুক রুম রাখার দরকার আছে। হাই এঙ্গেল থেকে গৃহীত শট নিচের ছবির মতো দেখায়। হাই এঙ্গেল শট চলচ্চিত্রে হাই এঙ্গেল শট দ্বারা কোন চরিত্রকে ছোট, তুচ্ছ, শোকগ্রস্ত, অসহায় ইত্যাদি মনে হয়। ফলে ওই রকম কোন পরিস্থিতিতে হাই এঙ্গেল শট ব্যবহার করা হয়। ক্যামেরা নিচে এবং মডেল উপরে থাকলে তাকে বলে লো এঙ্গেল শট। লো এঙ্গেল শটে চলচ্চিত্রের চরিত্রকে বড়, অহংকারী, প্রতাপশালী, প্রভাবশালী ইত্যাদি বলে মনে হয়। ফলে ওই ধরনের পরিস্থিতি বা চরিত্রকে উপস্থাপন করতে লো এঙ্গেল শট ব্যবহৃত হয়। লো এঙ্গেল শট এই ধরনের শট ছাড়াও সরাসরি মাথার উপর ক্যামেরা বসিয়ে যেই শট নেয়া হয়, তাকে বলা হয় টপ শট। টপ শটে কেবল মাথা দেখা যায় এবং চারপাশের পরিবেশ বড় হয়ে দেখা দেয়। টপ শটের আরেকটি ধরণ হল এরিয়াল শট। হেলিকপ্টার বা বিমান থেকে এই শট নেয়া হয়। টপ শটের ক্ষেত্রে ক্যামেরা একটা স্থানে স্থির রাখা হয়। কিন্তু এরিয়াল শটের ক্ষেত্রে ক্যামেরাসহ হেলিকপ্টার বা বিমান চলমান থাকে। মডেল : স্মৃতি আঁচল। ফটোগ্রাফি : এটিএম জামাল। (চলবে) আমি চেষ্টা করছি এই টেকনিক্যাল বিষয়গুলো যতটা সহজ করে লেখা যায়, ততটা সহজ করে লিখতে। যাতে করে যে কেউ এই ধরনের বিষয় খুব সহজে বুঝে ফেলে। আমি কি সহজ করে লিখতে পারছি ? আরেকটা কথা, অনেকে এই বিষয়গুলো অনেক ভালো জানেন, তারা যদি মন্তব্যের আকারে আমাকে পরামর্শ দেন, খুবই খুশি হব। ********************************** 10. এর আগের পর্বে আমরা ফ্রেমের ভেতর কেবল একজন অভিনেতাকে রেখে ফ্রেম কম্পোজিশন বিবেচনা করেছি। এবার একের অধিক অভিনেতাকে রেখে কিভাবে ফ্রেম কম্পোজিশন করতে হয় সেটা শিখি। টু শট : যদি ফ্রেমের ভেতর একের অধিক ২ ব্যক্তি থাকে, তবে সেটাকে টু শট বলে। দু’ব্যক্তিকে রেখে ফ্রেম কম্পোজিশনের সাধারণ কিছু নিয়ম আছে। টু শট সাধারণত ৩ ধরনের : ০১। ডাইরেক্ট টু ক্যামেরা টু শট ০২। প্রোফাইল টু শট ০৩। ওভার দ্যা শোল্ডার টু শট এবার বিস্তারিত আলোচনা করা যাক : ০১) ডাইরেক্ট টু ক্যামেরা টু শট : দুজন মডেল পাশাপাশি থাকে এবং ক্যামেরা তাদের সামনে থেকে ধরা হয়। এই শটকে ডাইরেক্ট টু ক্যামেরা টু শট বলে। ক্যামেরা দুরত্ব অনুসারে এই শট নানা রকম হতে পারে। হতে পারে মিড শট। যেমন : ডাইরেক্ট টু ক্যামেরা টু শট (মিড শট) আবার হতে পারে ক্লোজ শট। যেমন : ডাইরেক্ট টু ক্যামেরা টু শট (ক্লোজ শট) ০২) প্রোফাইল টু শট : দু জন মডেল মুখোমুখি থাকলে এবং ১৮০ ডিগ্রি কোণে ক্যামেরা বসিয়ে পাশে থেকে ছবি তুললে তাকে বলা হয় প্রোফাইল টু শট। প্রোফাইল টু শটও ক্যামেরা দূরত্ব অনুসারে নানা রকম হয়। হতে পারে লং শট। যেমন : প্রোফাইল টু শট (লং শট) আবার শট হতে পারে মিডিয়াম শট। যেমন : প্রোফাইল টু শট (মিডিয়াম শট) শটটি হতে পারে ক্লোজ আপ। যেমন : প্রোফাইল টু শট (ক্লোজ আপ শট) ০৩) ওভার দ্যা শোল্ডার টু শট : এই শটেও দু জন মডেল মুখোমুখি থাকে। একজনের কাঁধের উপর দিয়ে অপরজনের মুখের উপর ক্যামেরা তাক করা হয়। এ ই শটকে বলা হয় ওভার দ্যা শোল্ডার টু শট। ওভার দ্যা শোল্ডার শট বা ওএস শট বা ওটিএস শট মডেল : স্মৃতি আঁচল ও পারভেজ শরীফ ফটোগ্রাফি : এটিএম জামাল। আমি চেষ্টা করছি এই টেকনিক্যাল বিষয়গুলো যতটা সহজ করে লেখা যায়, ততটা সহজ করে লিখতে। যাতে করে যে কেউ এই ধরনের বিষয় খুব সহজে বুঝে ফেলে। আমি কি সহজ করে লিখতে পারছি ? আরেকটা কথা, অনেকে এই বিষয়গুলো অনেক ভালো জানেন, তারা যদি মন্তব্যের আকারে আমাকে পরামর্শ দেন, খুবই খুশি হব।

Source link: Plz, click here to show
--------------------------------

Is it verified id......? 113

কিভাবে আপনার প্রথম চলচ্চিত্রটি বানাবেন ?

Details : 5.

আরও কিছু ব্যবহারিক শট : এস্টাবলিশিং শট : কোন ঘটনা কোথায় ঘটছে সেটা বোঝানোর জন্য যে শট বা শটগুলো নেয়া হয় সেটা এস্টাবলিশিং শট। এই শট বা শটগুলো সাধারণত আউটডোর হয়। এক্সট্রিম লং শট বা লংশট ব্যবহার করে এক বা একাধিক শট গ্রহণ করা হয়। সাধারণত কোন গল্পের শুরুতে বা দৃশ্যের শুরুতে এস্টাবলিশিং শট নেয়া হয়। রি-এস্টাবলিশিং শট : কোথায় ঘটনাটি ঘটছে সেটা দৃশ্য শেষে আবারও দর্শককে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য রি-এস্টাবলিশিং শট ব্যবহৃত হয়। মূলত এস্টাবলিশিং শট ও রি-এস্টাবলিশিং শট একই রকম ও একই উদ্দেশ্যে গৃহীত। সাধারণত বড় কোন ঘটনার ক্ষেত্রে দর্শক ঘটনাটি কোথায় ঘটছে সেটা ভুলে যেতে পারে বা ভুলে যায়। সে ক্ষেত্রে দৃশ্যের শেষে রি-এস্টাবলিশিং শট ব্যবহৃত হয়। ছোট দৃশ্যের ক্ষেত্রে রি-এস্টাবলিশিং শট ব্যবহার করা দরকার নাই। মাস্টার শট : ইনডোর দৃশ্যের শুরুতে বা শেষে পুরো সেটের একটি শট নেয়া হয়, এটি মাস্টার শট। এই শটে ওই দৃশ্যের সকল চরিত্রকে দেখা যায়। মাস্টার শট কেবল একটি শট হয়। ধারাবাহিকতায় কোন সমস্যা এড়ানোর জন্য মাস্টার শট নেয়া হয়। মাস্টার শট কখনও এক্সট্রিম লং শট হয় না, লং শট বা মিড শট হয়। ওভার দ্যা শোল্ডার শট বা ও.এস শট : দু’জন ব্যক্তির কথোপকথনের সময় একজনের ঘাড়ের উপর দিয়ে অপর জনের মুখের উপর যে শট নেয়া হয় সেটাই ওভার দ্যা শোল্ডার শট বা ও.এস শট। সাধারণ দু’জন মানুষ মুখোমুখি কথা বলতে এই শট ব্যবহৃত হয়। কথোপকথনের দৃশ্য ধারণের জন্য বহুল ব্যবহৃত শট এটি। রি-একশন শট : সাধারণত কোন সংলাপ দৃশ্যে কোন সংলাপের প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য যে শট নেয়া হয়, তাকে রি-একশট শট বলে। যে ব্যক্তিটি কথা শুনছে এবং প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তার উপরে ক্যামেরা ধরে এই শট নেয়া হয়। পয়েন্ট অফ ভিউ শট বা পিওভি শট : কোন চরিত্র কী দেখছে সেটা বোঝানোর জন্য যে শট নেয়া হয় সেটাই পয়েন্ট অফ ভিউ শট বা পিওভি শট। সাধারণ কোন চরিত্র কোন দিনে তাকানোর পর এই শট ব্যবহার করা হয়। এতে করে বোঝা যায় ওই চরিত্রটি কী কী দেখছে বা কাকে দেখছে। ইনসার্ট : দুটি ভিন্নধর্মী শটের মধ্যে একটি বিশেষ শট ব্যবহার করলে তাকে ইনসার্ট বলে। যেমন : কোন ব্যক্তি ঘুমাচ্ছে এবং তার পাশে কোন ব্যক্তি বসে আছে। এই দুটি শটের মাঝখানে দেয়ালে ঝোলানো একটি ঘড়ির শট। জুম শট : জুম শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা। ক্যামেরাকে না সরিয়ে লেন্সের মাধ্যমে বস্তুর দূরত্বকে বাড়ানো বা কমানোর মাধ্যমে যেই শট গৃহীত হয়, তাকে জুম শট বলে। যে লেন্সের মাধ্যমে এই শট নেয়া হয়, তাকে জুম লেন্স বলে। কোন বস্তুকে কাছে টেনে আনা বা বড় করে ফেলাকে বলা হয় জুম ইন। কোন বস্তুকে দূরে সরিয়ে ফেলা বা ছোট করে ফেলাকে বলে জুম আউট। ক্রাব শট : কাকড়ার মতো ঘুরে ঘুরে শট নেয়াকে বলে ক্রাব শট। সাধারণত নাচের দৃশ্যে এই শট ব্যবহৃত হয়। দৃশ্যান্তর বা ট্রান্সিশন : একটা শট থেকে অন্য শটে যাওয়ার নানা প্রক্রিয়া আছে। এক শট শেষ হওয়ার পর অন্য শটে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াকে বলে দৃশ্যান্তর বা ট্রান্সিশন। চলচ্চিত্র সম্পাদনার জন্য সফটওয়্যার তৈরি হওয়ার ফলে শত শত ট্রান্সিশন প্রক্রিয়া বের হয়েছে। এডোবি প্রিমিয়ার প্রো, এডিয়াস, এভিড এক্সপ্রেস বা ফাইনাল কাট প্রো ইত্যাদি এডিটিং সফটওয়্যারের সঙ্গে ট্রান্সিশনের নানা এফেক্ট দেয়া থাকে। এছাড়া এফেক্ট প্রয়োগ করার জন্য আলাদা সফটওয়্যারও আছে। যেমন : হলিউড এফএক্স। তাছাড়া ট্রান্সিশন এফেক্ট যোগ করার জন্য অহরহ তৈরি হচ্ছে নিত্য-নতুন প্লাগইন। ট্রান্সিশনের নানা প্রক্রিয়া আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ, বহুল ব্যবহৃত ও সাধারণ প্রক্রিয়া হল কাট। কয়েকটা ট্রান্সিশন প্রক্রিয়া আলোচনা করা যাক : কাট : ট্রান্সিশনের প্রাচীন ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। একটা শট শেষে আরেকটি শট লাগানো হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই একটা কাট পাওয়া যায়। কাট সাধারণত ২ প্রকার (ক) ম্যাচ কাট, (খ) জাম্প কাট। সাধারণত প্রতিটি কাটের পর পরবর্তী শটে ক্যামেরা ডিসটেন্স বদলে যায়। এবার ম্যাচ কাট ও জাম্প কাট সম্পর্কে জানি। ম্যাচ কাট : প্রথম শটের একশনের ধারাবাহিকতা মিলিয়ে দ্বিতীয় শট জোড়া দিলে সেটাকে বলে ম্যাচ কাট। প্রথম শটের শেষ একশন ও পরবর্তী শটের শুরুর একশন যদি সম্পূর্ণ মিলে যায়, যদি দুটি শটে গতি ও সময় একই হয়, তবে শট দুটি জোড়া দিয়ে একশনটি সম্পূর্ণ করতে কোন অসুবিধা হয় না। জাম্প কাট : পাশাপাশি দুটি শটের একশন না মিললে তাকে জাম্প কাট বলা হয়। ডিজলভ : একটা শট মিলিয়ে গিয়ে ধীরে আরেকটি শটে গেলে সেটাকে বলে ডিজলভ। একটি শট মিলিয়ে যেতে যেতে মসৃণভাবে পরের শট এসে পড়ে । এতে করে কয়েক মুহূর্তের জন্য কয়েকটি শটের ওভারল্যাপিং হয়। কাটের ক্ষেত্রে যেমন তীèতা পাওয়া যায়, ডিজলভের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় মসৃণতা। সময় ও স্থানের বিশেষ পরিবর্তন বোঝাতে ডিজলভ ব্যবহৃত হয়। সাধারণত স্বল্প সময়ের পার্থক্য বোঝাতে ডিজলভ ব্যবহৃত হয়। ওয়াইপ : কোন একটি শট এক পাশ থেকে মুছতে মুছতে আরেকটি শট এলে তাকে ওয়াইপ বলে। পর্দার উপর আড়াআড়াভাবে একটি রেখা চলে যাওয়ার মাধ্যমে আগের শট মুছে গিয়ে নতুন শট ফুটে ওঠে। আগে ওয়েস্টার্ন মুভিতে এই ট্রান্সিশন বহুল ব্যবহার হতো। বর্তমানে এই ট্রান্সিশনের ব্যবহার কম। তবে কমেডি ছবিতে এর ব্যবহার এখনও চোখে পড়ে। ফেড আউট ও ফেড ইন : একটা শট শেষ হওয়ার পর পর্দা কালো হয়ে যাওয়াকে বলে ফেড আউট এবং কালো পর্দা থেকে ধীরে ধীরে শটে ফিরে আসাকে বলে ফেড ইন। ফলে একটি শট শেষ হয়ে যাওয়ার পর পর্দা কালো করে দীর্ঘ বিরতি দিয়ে তারপর অন্য শট শুরু হলে তাকে বলে ফেড আউট ও ফেড ইন। একটি দৃশ্য শেষ হয়ে অন্য জায়গায় অন্য কোন দৃশ্য শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে ফেড ইন ও ফেড আউট ব্যবহৃত হয়। এতে স্থান ও সময় পরিবর্তন করে গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করা যায়। স্পেশাল এফেক্ট : একটি ফিল্ম বা ভিডিওচিত্র ক্যামেরার সাহায্য ধারণ করার পর বিভিন্ন দৃষ্টিবিভ্রম, কৌশল বা ট্রানজিশনাল কৌশলকে এক কথায় স্পেশাল এফেক্ট বলে। এর মধ্যে শব্দগ্রহণের যে কৌশল প্রয়োগ করা হয়, তাকে বলে সাউন্ড এফেক্ট। ক্যামেরার স্বাভাবিক চিত্রগ্রহণের বাইরে যে কোন কৌশল স্পেশাল এফেক্টের মধ্যে পড়ে। যেমন : সুপার ইম্পোজ, ক্রোমা, মাস্ক শট, মাল্টিপল স্ক্রিন ইত্যাদি। যে সব দৃশ্য অভিনয়ের আয়ত্বের বাইরে, সে সব দৃশ্য চলচ্চিত্রে দেখানোর জন্য নানা কৌশল প্রয়োগ করা হয়। এই সব কৌশলকেও আমরা স্পেশাল এফেক্ট বলি। স্পেশাল এফেক্ট মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত। যেমন : আলোকচিত্রের কৌশল ও যান্ত্রিক কৌশল। ক্যামেরা ব্যবহারের কৌশল এবং সম্পাদনাকালে আলোকচিত্র বা সফটওয়্যার ব্যবহার করে আলোকচিত্রের কৌশল প্রয়োগ করা হয়। আলোকচিত্রের কৌশলের বাইরে যা কিছু কৌশল আছে, সবই যান্ত্রিক কৌশল। যেমন : ইমেজ রিপ্লেসমেন্ট, খেলনা বা মিনিয়েচার, ব্যাক বা ফ্রন্ট প্রজেকশন ইত্যাদি। স্পেশাল এফেক্টের সাধারণ কিছু বিষয় আলোচনা করা যাক : সুপার ইম্পোজ : একটা শটের উপর আরেকটা শট মিলিয়ে দুটি চিত্র এক করে ফেলাকে বলা হয় সুপার ইম্পোজ। একটা লোক একটা দৈত্যের হাতের উপর দাঁড়িয়ে আছে - এই রকম দৃশ্য দেখাতে সুপার ইম্পোজ কৌশল ব্যবহৃত হয়। সফটওয়্যার দিয়ে খুবই সহজেই সুপার ইম্পোজ করা যায়। ক্রোমা : একটি নীল পর্দার সামনে চরিত্রগুলোকে অভিনয় করিয়ে পরে পেছনের পর্দাটি সরিয়ে কোন ব্যাকগ্রাউন্ড জুড়ে দেয়াকে বলে ক্রোমা। ভিডিও ক্যামেরায় ধারণকৃত চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে সম্পাদনার সফটওয়্যার দিয়ে খুব সহজেই ক্রোমা করা যায়। যেমন : এক দু’জন মানুষ নীল পর্দার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলল। পরে এডিটিং করে পেছনের নীল পর্দা ফেলে দেয়া হল। নীল পর্দার জায়গায় জুড়ে দেয়া হল একটি রাস্তা। মাস্ক শট : বাইনোকুলার বা ফুটো দিয়ে কিছু দেখা হচ্ছে এই বিভ্রম তৈরির জন্য এই কৌশল প্রয়োগ করা হয়। সাধারণত ক্যামেরা লেন্সের সামনে প্রয়োজনীয় আকারের ঢাকনা পরিয়ে বা এডিটিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে ম্যাট লাগিয়ে এই এফেক্ট দেয়া হয়। মাল্টিপল স্ক্রিন : দু’জন ব্যক্তি ফোনে কথা বলার সময় অনেক সময় দু’জনকে দেখাতে মাল্টিপল স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে দুটি আলাদা শটকে এডিটিং সফটওয়্যার দিয়ে মাল্টিপল স্ক্রিন বানানো হয়। তার মানে হল, পর্দায় একই সঙ্গে দুটি স্থানের দুটি শটকে পাশাপাশি জুড়ে দেয়াকে বলা হয় মাল্টিপল স্ক্রিন। গ্লাস শট : কোন সেটের একটি অংশ কাচের উপর এঁকে সেটাকে ক্যামেরা সামনে স্থাপন করে এমনভাবে গৃহীত শট যাতে করে পুরো সেটের একটি বিভ্রম তৈরি হয়। যেমন : কোন এক তলা বাড়ির সামনে অভিনয়ের সময় উপরের তলাগুলি কাচের মধ্যে এঁকে তারপর ক্যামেরার সামনে এমনভাবে রাখা হয়, যাতে করে বাড়িটি বহুতল মনে হয়। খেলনা বা ক্ষুদ্র মডেল : বড় কোন জিনিস ব্যবহার যখন ব্যয়সাপে ও বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়, তখন তার মতো অনুরূপ ক্ষুদ্র মডেল তৈরি করে নেয়া হয়। এই ক্ষুদ্র মডেল ব্যবহার করে বিমান ধ্বংস, জাহাজ ডুবি, শহর ধ্বংস, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ইত্যাদি দেখানো হয়। যেমন : টাইটানিক ছবিতে জাহাজ দুর্ঘটনার ছবি তোলার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র মডেল ব্যবহার করা হয়েছিল। ব্যাক প্রজেকশন : স্টুডিওতে কোন বিশেষ ধরনের পর্দার পেছন থেকে প্রজেক্টরের মাধ্যমে দৃশ্য চালু করা হয় এবং তার সামনে অভিনয় করা হয়। সাধারণত কোন অভিনেতাকে লোকেশনে না নিয়ে গিয়ে সেই স্থান দেখাতে এই কৌশল ব্যবহৃত হয়। যেমন : স্টুডিওতে স্থির গাড়িতে চড়া অভিনেতার পেছনে চলমান সড়কের ছবি প্রদর্শিত করে একটি চলমান গাড়ির বিভ্রম তৈরি করা সম্ভব। এই কৌশল এক সময়ে প্রচুর ব্যবহৃত হত। ফ্রিজ : চলমান দৃশ্যকে স্থির চিত্রে পরিণত করার পদ্ধতিতে ফ্রিজ বলে। ফিল্মের ক্ষেত্রে একই ফ্রেমকে বার বার এক্সপোজ করে এটা করা হয়। ভিডিও চিত্রে সফটওয়্যার ব্যবহার করে করা যায়। ********************************

6.

অনুশীলনী : মোটামুটি সিনেমার চিত্রনাট্য লেখার জন্য যে সব তাত্ত্বিক বিষয় জানা দরকার, আমরা প্রায় তার সব কিছু সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে ফেলেছি। এবার আপনি দর্শক হিসেবে মগজ খাটানোর দর্শক হতে পারবেন। হীরক রাজার দেশে সিনেমার প্রথম দৃশ্য থেকে মগজ খাটিয়ে দেখা যাক। দেখে লিখুন - কী দেখছেন, কী শুনছেন। লিখার পর যা হবে তার একটা নমুনা - সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার দেশে চলচ্চিত্রের প্রথম থেকে । টাইটেল শেষ হওয়ার পর থেকে লেখা শুরু করা যাক। শট - ০১ একটি বালি ঘড়ি। জুম আউট করে এলে দেখা যায় বাঘা বাইন ও গোপী গায়েন খাটে শুয়ে আছে। তাদের ২ জনকে বাতাস করছে ২ জন রাজ-খানসামা। কাট। শট - ০২ ক্লোজ আপ। গোপী গায়েন খাটে শুয়ে আছে। পান মসলা মুখে দেয়। কাট। শট - ০৩ ক্লোজ আপ। বাঘা বায়েন খাটে বসে আছে। সে খানসামার দিকে তাকায়। শট - ০৪ মিড শট টু ক্লোজ আপ। বুড়ো খানসামা বাতাস করছে। শট - ০৫ ক্লোজ আপ। বাঘা বায়েন খাটে বসে আছে। সে বালি ঘড়ির দিকে তাকায়। শট - ০৬ লং টু ক্লোজ শট। জুম ইন। বালি ঘড়ি থেকে বালি পড়ছে। শট - ০৭ বাঘা বায়েন খাটে বসে আছে। সে পাশা খেলার ঘুটি ছুঁড়ে মারে। শট - ০৮ ক্লোজ শট। পাশা খেলার ঘুটি খাটে ছুঁড়ে মারে বাঘা বায়েন। শট - ০৯ লং শট। বাঘা বায়েন খাট থেকে নামে। নেমে পায়চারি করে। শট - ১০ মিড শট টু ক্লোজ আপ টু গোপী গায়েন। গোপী গায়েন খাটে শুয়ে আঙ্গুর খাচ্ছে। বাঘা গায়েন পায়চারি করেই চলেছে। জুম ইন করে গোপী গায়েনকে। এইভাবে লিখে যেতে থাকুন। এইভাবে লেখার ফলে বুঝে গেছেন যে সিনেমা অনেকগুলো শটের সমষ্টি। বিভিন্ন শট পর পর জোড়া দিয়ে গোটা সিনেমাটি গড়ে তোলা হয়। এই শটগুলো কোন একটা স্থানে গৃহীত হয়েছে। এটা গল্পের স্থান, বাস্তবের স্থান নয়। এভাবে একটি স্থানে এক বা একাধিক শট নেয়া হয়। তারপর সেই শটগুলো জুড়ে দেয়া হয়। কিন্তু একই জায়গায় সব শট নেয়া হয় না। শট নেয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়। বিভিন্ন জায়গায় ক্যামেরার মাধ্যমে গৃহীত এই শটগুলো পর পর জুড়ে দিয়েই গড়ে ওঠে একটি সিনেমার শরীর। চিত্রনাট্য লেখার জন্য আরও কিছু বিষয় বুঝতে হবে। দৃশ্য বা সিন : আমরা জানি ঘটনা একই স্থানে ঘটে না। বিভিন্ন স্থানে ঘটে। এভাবে নানা স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে নিয়ে একটি গল্প গড়ে ওঠে। একই স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে একটি দৃশ্য বলে। স্থান পরিবর্তন হলেই দৃশ্য বদলে যায়। সাধারণত চিত্রনাট্য লেখা হয় দৃশ্য ধরে। দৃশ্য নাম্বার দিয়ে একের পর এক দৃশ্য লিখে যেতে হয়। একটি দৃশ্যে একাধিক শট থাকে। তবে একটি শট দিয়েও একটি দৃশ্য গড়ে উঠতে পারে। অংক/ সিকোয়েন্স বা দৃশ্য পর্যায় : সিকোয়েন্স বা দৃশ্য পর্যায়ের সম্পর্ক কাহিনীর সঙ্গে। একটি সিকোয়েন্স বা দৃশ্য পর্যায়ে একটি ঘটনা শুরু হয়ে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পর্যন্ত শেষ হয়ে যায় । একটি অংক/ সিকোয়েন্স বা দৃশ্য পর্যায় কয়েকটি দৃশ্য বা সিন নিয়ে গড়ে ওঠে। একটি দৃশ্য বা সিন নিয়েও একটি সিকোয়েন্স বা দৃশ্য পর্যায় হতে পারে। চিত্রনাট্যে অংক বা সিকোয়েন্স উল্লেখ করা হয় না, কেবল দৃশ্য উল্লেখ করা হয়। কিন্তু একটি কাহিনীকে বোঝার জন্য অংক বা সিকোয়েন্স বোঝা খুবই দরকার। একটি গল্প যেখানে গিয়ে ভিন্ন দিকে মোচড় দেয়, সেখানেই একটি সিকোয়েন্স শেষ হয় এবং আরেকটি সিকোয়েন্স শুরু হয়। গোটা সিনেমাটিকে সাদামাটাভাবে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় - শুরু, মধ্য ও শেষ। মোট কথা হল চলচ্চিত্রের গঠনটা হয় এই রকম ফিল্ম ফ্রেম > ফিল্ম শট > ফিল্ম সিন > ফিল্ম সিকোয়েন্স ফিল্ম ফ্রেম হল বেসিক ইউনিট। ফিল্ম শট হল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিট। ফিল্ম সিন হল বড় ইউনিট। ফিল্ম সিকোয়েন্স হল সবচেয়ে বড় ইউনিট। চিত্রনাট্য লেখার পরিকল্পনা : চলচ্চিত্র তৈরির বিশদ পরিকল্পনার নাম চিত্রনাট্য। এক কথায় বলা হয় - ব্লু প্রিন্ট অব এ ফিল্ম। একটি সিনেমায় যা যা করা হবে তার প্রায় সবই উল্লেখ থাকে একটি চিত্রনাট্যে। প্রথম কাজ : একটি গল্প তৈরি করুন সাদামাটাভাবে একটি চিত্রনাট্য লেখার ধাপগুলো এ রকম : মূল বক্তব্য > বিষয়বস্তু > সিনোপসিস > ট্রিটমেন্ট > চরিত্রায়ণ > সংলাপ মূলত, গল্পটি হবে একজনের গল্প। তার জীবনের একটি খণ্ড গল্প। সেই গল্পে সে একটা আকাক্সা প্রকাশ করবে বা কিছু অর্জন করতে চাইবে। এই চাওয়াটা হতে পারে প্রেম, টাকা, সম্পদ, খ্যাতি বা আধ্যাত্মিক জীবন। তাহলে গল্প তৈরির ধাপগুলো কী পেলাম ? ধাপগুলো হল এই রকম ০১) একটি মূল বক্তব্য তৈরি করতে হবে। ০২) সেই মূল বক্তব্য প্রতিপন্ন করার জন্য একটি গল্প তৈরি করতে হবে যার শুরু শেষ ও মধ্য থাকবে। ০৩) সেই গল্পটি একজন মানুষের গল্প হবে। তাকে বলা হয় প্রধান চরিত্র বা নায়ক। এই প্রধান চরিত্রের একটি আকাঙ্ক্ষা থাকবে এবং তার আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে অনেক অনেক বাধা থাকবে। ০৪) নায়কের আকাঙ্ক্ষা পূরণের বাধা হয়ে দাঁড়াবে প্রতিনায়ক বা ভিলেন। ভিলেন হতে পারে কোন ব্যক্তি, কোন দৈব ঘটনা, কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ। ০৫) সেই বাধা অতিক্রম করে নায়ক তার আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। ০৬) এই লড়াইয়ে সে হারবে বা জিতবে। পৃথিবীর তাবৎ সিনেমার এই হল সহজ গল্প। দ্বিতীয় কাজ : গল্পটি সাজান চিত্র আর শব্দে গল্পটি সাজাতে হবে চিত্রে এবং শব্দে। কেননা ওটাই চলচ্চিত্রের দাবি। প্রথমেই বলে নেয়া ভালো, আমরা আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাণে ডিজিটাল ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করব। ব্যয়বহুল চলচ্চিত্রের ক্যামেরার কথা আপাতত ভুলে যাওয়াই ভালো। ক্যামেরা বলতে আমরা ডিজিটাল ভিডিও ক্যামেরাই বুঝব। যে কোন জায়গায় নিয়ে একটি ভিডিও ক্যামেরা চালু করলে ক্যামেরা সেই জায়গার চিত্র ও শব্দ নেয়। ক্যামেরা সেই ছবির সঙ্গে কতগুলো তথ্যও গ্রহণ করে। যেমন : ০১) দৃশ্যটি জানায় ওটা কোন জায়গা, জায়গাটা কেমন, ঘরের ভেতরে নাকি বাইরে। ০২) দৃশ্যটি জানায় ওটা কোন সময়, রাত, দিন, সকাল, বিকাল, ভোর, সন্ধ্যা। ০৩) দৃশ্যটি জানায় ওখানে কারা কারা আছে, তারা কী করছে। ০৪) দৃশ্যটি জানায় ওখানে চারপাশে কোন শব্দ আছে কিনা, পাখির শব্দ, বাতাসের শব্দ, গাড়ির শব্দ, রেডিওর শব্দ, মানুষের কথা বলার শব্দ। তাহলে সাধারণত ক্যামেরা চালু করলে যেসব তথ্য গৃহীত হয়, সেই সব তথ্যের কথাও লিখে দিতে হবে আপনার চিত্রনাট্যে। মূলত আপনাকে গল্পটি লিখতে হবে চিত্র ও শব্দ ব্যবহার করে। কেননা, সিনেমা মাধ্যমটি হচ্ছে চিত্র ও শব্দের জগৎ। তাহলে আসুন গল্প বলি চিত্র ও শব্দে। চিত্রের মাধ্যমে গল্প বলা চিত্রের মাধ্যমে গল্প বলতে গেলে প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে ঘটনাটি কোথায় ঘটছে। যেমন : খেলার মাঠে, রাস্তায়, নদীর ধারে, কোন যানবাহনে, স্টেশনে, স্কুলে, কলেজে, বাড়িতে। সেই স্থানটি উল্লেখ করতে হবে। তারপর নির্ধারণ করতে হবে ঘটনাটি কখন ঘটছে। যেমন : ভোর বেলা, সকালে, দুপুরে, বিকেলে, সন্ধ্যায়, রাতে বা গভীর রাতে। এই সময়টি উল্লেখ করতে হবে। তারপর নির্ধারণ করতে হবে এই ঘটনার স্থানে ওই সময়ে কত জন আছেন। তাদের সংখ্যা ও নাম লিখতে হবে। এদেরকে বলা হয় গল্পের চরিত্র । তারপর নির্ধারণ করতে হবে ঘটনাটি। পুরো ঘটনাটা সংক্ষেপে লিখতে হবে। যত সংক্ষেপে হয় ততই ভালো। কেবল ওই দৃশ্যের ঘটনাটি লিখবেন। এবার একটা উদারহণ দেয়া যাক - - যেমন : দৃশ্য - ০১ স্থান : নদীর ধার / আউট ডোর সময় : সকাল চরিত্র : সোমা ও রোমেল ঘটনা : সোমা রোমেলকে জানায় তার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। রোমেল পাত্তা দেয় না। শব্দের মাধ্যমে গল্প বলা যে কোন স্থানের একটি শব্দ থাকা স্বাভাবিক। আপনি যেখানে বসে এই বইটি পড়ছেন তার চারপাশে কান পাতুন। হয় তো আপনার মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে, তার ভো ভো শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, পাশের ঘরে কাশছে কেউ, রাস্তায় গাড়ি যাচ্ছে, জানালার বাইরে ২টি বিড়াল ঝগড়া লেগেছে। এই সব কিছুর শব্দ পাচ্ছেন আপনি। অনেকগুলো শব্দের উৎস দেখতে পাচ্ছেন আপনি। কতগুলো শব্দের উৎস দেখতে পাচ্ছেন না। চলচ্চিত্রে দেখবেন, কতগুলো শব্দের উৎস পর্দায় দেখা যাচ্ছে, কতগুলো শব্দের উৎস দেখা যাচ্ছে না। বাস্তবে যেভাবে শব্দগুলো আমাদের জীবনে আছে, সেইভাবেই আপনার পাণ্ডুলিপিতে শব্দগুলোর কথা লিখুন। সহজ করে ও সংক্ষিপ্ত ভাষায়। চলচ্চিত্রের পাণ্ডুলিপি লেখার একটা সহজ নিয়ম আছে। সাধারণত চলচ্চিত্রের পাণ্ডুলিপিতে চিত্র ও শব্দ আলাদা করে লেখা হয় । বা পাশে চিত্র এবং ডান পাশে শব্দ। সবাই এই নিয়ম মানেন তা নয়, তবে চলচ্চিত্রকারদের এই নিয়ম জানা আছে। আপনাকেও জানতে হবে। আপনি সৃজনশীল মানুষ, মানবেন কি মানবেন না, সেটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। এবার আরেকটা উদাহরণ দেখি। যেমন : স্থান : নদীর ধার / আউট ডোর সময় : সকাল চরিত্র : সোমা ও রোমেল ঘটনা : সোমা রোমেলকে জানায় তার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে । রোমেল পাত্তা দেয় না। নদীর তীরে বসে আছে সোমা ও রোমেল। পাখি ডাকছে। নদীর স্রোতের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ পাওয়া যাচ্ছে সোমা : আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। রোমেল কোন জবাব দেয় না। নদীর দিকে তাকিয়ে থাকে। স্রোত এসে পাড়ে বাড়ি দেয়। সোমা তাড়া দেয়। সোমা : আমার কথা শুনতে পাচ্ছ তুমি ? রোমেল : আমার সামনে পরীক্ষা। সোমা রোমেলের দিকে তাকিয়ে থাকে। ওর চোখ দিয়ে গড়িয়ে নামে অশ্রু । তারপর নীরবে হাঁটা দেয়। এই দৃশ্যে কেবল চিত্র নয়, শব্দকেও লেখা হয়েছে। সহজভাবে এই হল চিত্রনাট্য লেখার নিয়ম। আপনি যা-ই লেখেন না কেন সেটাকে লিখতে হবে চিত্রে ও শব্দে। বিশেষ দ্রষ্টব্য : মূলত চিত্র ও শব্দকে আলাদা টেবলে ভাগ করে লেখা হয়, ব্লগে ওভাবে টেবল করা যায় না বলে বুঝতে সমস্যা হতে পারে। **************

7.

দর্শক থেকে লেখক হওয়ার চেষ্টা : সৃজনশীল এক অনন্ত যাত্রা দর্শক ও শ্রোতা হিসেবে অনেক অনেক চলচ্চিত্র দেখেছেন। এবার আপনি চলচ্চিত্র বানাবেন। তার জন্য লিখতে হবে একটা চিত্রনাট্য। চিত্রনাট্য লিখতে হলে আপনাকে এভাবে এগুতে হবে : ০১) একটি বিষয় নিয়ে ভাবুন এবং বিষয়টিকে নির্দিষ্ট করুন। ০২) একটি বাক্যে বিষয়টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত বা প্রেমিজ বানান। ০৩) পুরো চলচ্চিত্রের গল্পটি খুব সংক্ষেপে লিখে ফেলুন। একে বলে গল্প সংক্ষেপ বা সিনোপসিস। ০৪) এবার চরিত্রগুলো নিয়ে ভাবুন। প্রধান চরিত্র, তার সহযোগী চরিত্র ও তার প্রতিযোগী চরিত্র সম্পর্কে ধারণা করুন। একেকটা চরিত্রকে একেক রকম করে বানান যেন কারো সাথে কারো মিল না হয়। বিশেষত প্রধান চরিত্রটিকে বিশেষভাবে নির্মাণ করুন। ০৫) পুরো ঘটনাটিকে স্থান অনুযায়ী ভাগ করে ফেলুন। মোট কতগুলি স্থানে ঘটনাগুলি ঘটছে সেটা নির্ধারণ করে ফেলুন। প্রত্যেক স্থানে কতগুলি চরিত্র মিলে একটা ঘটনা ঘটাচ্ছে সেটা ঠিক করুন। ঘটনার স্থান পরিবর্তন হলেই সাধারণত একটি দৃশ্য পরিবর্তন হয়। কখনও একই সময়ে দুটি বা আরও অধিক ঘটনা ঘটতে পারে। ০৬) বিশেষ কোন চরিত্রের কোন সংলাপের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করুন। বিভিন্ন চরিত্রের সংলাপ বিভিন্ন রকমের হলে শুনতে ভালো লাগে। ০৭) প্রতিটি দৃশ্যের শুরুতে একটি সাধারণ বর্ণনা থাকতে পারে। সাধারণ বর্ণনায় চরিত্রগুলোর বিভিন্ন ভঙ্গিমা, চলাচল, পোশাক, উপকরণ এবং ঘরের আসবাবপত্র উল্লেখ করা হয়। তাছাড়া কোন বিশেষ পরিস্থিতিও সাধারণ বর্ণনায় উল্লেখ করা উচিত। আসুন লেখা শুরু করি : আপনারা এবার আমার সঙ্গে লিখবেন। আমি ও আপনি একই ব্যক্তি এখন। আমি যা ভাবছি, আপনিও তা ভাববেন। আমার ও আপনার ভাবনা মিলে একটা চিত্রনাট্য লেখা হবে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানাব। প্রথমে ভাবতে শুরু করলাম বিষয়বস্তু নিয়ে । নানাজনের সঙ্গে আলাপ করলাম। পত্রিকা পড়লাম। বই পড়লাম। নেট ঘাটলাম। অবশেষে আমার এক বন্ধু মোশারফ হোসেনের পরামর্শে বিষয়বস্তু পেলাম। ও বলছে, সঙদের জীবন নিয়ে কিছু লিখতে। আমার এলাকায় এক সঙ থাকে, নাম সোলেমান। ও নিজেকে পরিচয় দেয় সোলেমান পাগলা হিসেবে। তাকে দেখেছি, রঙচঙে পোশাক পরে কখনো চানাচুর, কখনো পান, কখনো চকলেট বিক্রি করতে। কিন্তু তাকে নিয়ে কী গল্প লিখব ? আমি তো তার সম্পর্কে কিছু জানি না। একদিন গেলাম তার বাড়ি। পরিচয় দিলাম। জানালাম, আমার উদ্দেশ্য। সঙ খুব অবাক হল। তারপর তার একটা সাক্ষাৎকার নিলাম। লাগোস এগরির ত্রৈমাত্রিক চরিত্রের অস্থি-সংস্থান পূরণ করলাম। জানলাম তার স্বপ্নের কথা। সে চেয়েছিল সার্কাসের কাউন হবে। কিন্তু সার্কাস উঠে গেছে। তাই সে এখন পথে পথে পান বিক্রি করে। মাঝে মাঝে বিয়ে বাড়িতে পানের অর্ডার পায়। খুব সুন্দর করে সাজিয়ে পানের ডালা দেয় সে। প্রথম জীবনে সে একটা ভিডিও দোকানে চাকুরি নিয়েছিল। কিন্তু সেটা মজার চাকুরি হলেও তার ভালো লাগে ঘুরে বেড়াতে, মানুষের সঙ্গে মজা করতে। তাই মাঝে মাঝে সে দোকান ছেড়ে উধাও হয়ে যেত। নানা জায়গায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মজা করে বেড়াত। মানুষ তার অদ্ভুত কর্মকাণ্ডে মজা পেত। এক সময় দোকানটা বন্ধ হয়ে যায়। সে বেকার হয়ে পড়ে। অভাবের তাড়নায় সে বেশ কিছু দিন রিক্সা চালায়। কিন্তু রিক্সা চালাতে তার ভালো লাগে না। সে প্রায়ই যাত্রাপালায় গিয়ে রংঢং করে। অভাবের তাড়নায় তার স্ত্রী চলে যায়। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর সে বেশ কিছুদিন সঙ সাজা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু একটা নেশার মতো মনে হয় তার এই সঙ সাজা। ফলে আবারও কোন একদিন সঙ সাজে সে। তার অভাব ও দুঃখকে জয় করে সে মানুষকে হাসায়। সে আবারও বিয়ে করেছে। মোটামুটি চলে যাচ্ছে তার দিন। তার সাক্ষাৎকার নেয়ার পর এবার গল্পটি সাজাই। তার জীবনটা হুবহু নেয়ার কোন মানে নাই। তাই বেছে নেই তার জীবনের অন্যতম একটি অংশ। তার সঙ্গে নিজের কল্পনা মিশাই। নাটকীয় বানানোর চেষ্টা করি তার জীবনকাহিনীকে। ফলে সেটা আর জীবনকাহিনী থাকে না, হয়ে ওঠে একটা সৃজনশীল গল্প। যেমন : বাস্তবের সঙের স্ত্রী কোন যাত্রাপালার নর্তকী ছিল না। কিন্তু আমার গল্পের স্ত্রী যাত্রাপালার নর্তকী। বাস্তবের মূল গল্পটি থেকে আমি অনেক অনেক দূর চলে গেছি। অনেক অনেক নাটকীয় ঘটনা যোগ করি। প্রথমে পরিকল্পনা করি মাত্র ১২ মিনিটের হবে চলচ্চিত্রটি । কিন্তু আমার ইউনিটের লোকজনের আগ্রহে ও পরামর্শে শেষ পর্যন্ত এটা হয় ৪০ মিনিটের। প্রথমে লিখি সিনোপসিস। কিভাবে সেটা লিখি আসুন জেনে নেয়া যাক : সিনোপসিস বা গল্প সংক্ষেপ : চিত্রনাট্য লেখার প্রথম কাজ হল সিনোপসিস বা গল্প সংপে লেখা। যত সংক্ষেপে পারা যায় তত সংক্ষেপে গল্পটি লিখতে হবে। সাধারণত সিনোপসিস বা গল্প সংক্ষেপে ১৫০ শব্দের বেশি না হওয়া ভালো। তবে ২০০ শব্দের মধ্যে হলেও চলবে এবং এর বেশি গেলে পরিচালক বিরক্ত হবেন। সিনোপসিসে যা যা থাকবে - ০১) শুরু, মধ্য ও শেষ থাকবে। ০২) প্রধান প্রধান চরিত্র থাকবে। ০৩) প্রধান প্রধান ঘটনা থাকবে। ০৪) কাহিনী কয়টি হবে তা থাকবে। একটি মূল কাহিনী ও তার সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সহায়তাকারী ডালপালা ছড়ানো ২/১টি কাহিনী থাকতে পারে। ০৫) ভাষা সংক্ষিপ্ত ও সহজ-সরল হবে। ০৬) একটি মাত্র অনুচ্ছেদ বা প্যারাগ্রাফের সমান হবে। ০৭) কোন সংলাপ থাকবে না। ০৮) ১৫০ থেকে ২০০ শব্দের মধ্যে হবে। ০৯) চরিত্রগুলোর একটি তালিকা সিনোপসিসের সঙ্গে যোগ করে দিতে হবে। আমার সংখেলা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সিনোপসিস বা গল্প সংক্ষেপ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র : সঙখেলা চিত্রনাট্য ও পরিচালনা : শাহজাহান শামীম গল্প সংক্ষেপ : একজন সঙ। সে সঙ সাজার জন্য কোন কাজ করে না। নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে মজা করে আর স্বপ্ন দেখে একদিন সে সিনেমার কৌতুক অভিনেতা হবে। সঙখেলা দেখানোর জন্য বিভিন্ন মেলায় যায় সে। সেই রকম এক মেলায় যেতে যেতে যাত্রাপালার নর্তকীর সাথে পরিচয় হয় তার। তারপর সেই নর্তকী তার হাত ধরে পালায়। পালিয়ে তারা ঘর বাঁধে। কিন্তু অভাব তাদের পিছু ছাড়ে না। অন্য দিকে সেই নর্তকীর পেছনে লাগে এক ট্রাক ড্রাইভার। তাকে খুঁজে বের করে ফেলে। তারপর ফুসলায় তার সাথে যাওয়ার জন্য। সঙ তার অভাব দূর করার জন্য কখনও চকলেট, কখনও পান মসলা ও কখনও মিষ্টি পান বিক্রি করে। এই কাজে সে চলে যায় বিভিন্ন মেলায়। বউটা একা পড়ে থাকে না খেয়ে। বাধ্য হয়ে বউটা বড় রাস্তার একটা দোকান থেকে বাকি নেয়। দোকানী মহাজন তাকে বাকি দিয়ে যেতে থাকে আর বলে একবারে শোধ করে দিস। এক সময় বউটি বুঝতে পারে সে সন্তানসম্ভবা। তার এই বিপদে নানাজনের কাছে সে সাহায্য চায়। কারো সাহায্য পায়, কারো সাহায্য পায় না। একদিন সং সিনেমায় কৌতুক অভিনেতা হিসেবে সুযোগ পেয়ে যায়। কিন্তু তত দিনে সংসার ছেড়ে চলে যায় তার স্ত্রী। চরিত্র সূচি : ক্রমিক - চরিত্রের নাম - বয়স - পরিচয় - চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য - অভিনয় শিল্পী ০১) আয়নাল (২৫) সঙ - মজার মানুষ - মোশারফ খোকন ০২) আলেয়া (২০) পালার নর্তকী - ঢঙ্গী - রুমা সরকার ০৩) সোলেমান (৩০) ট্রাক ড্রাইভার - লম্পট - শফিক রেহমান ০৪) উজির আলী (৫০) দোকানদার মহাজন - বিয়ে পাগলা - ফজলুল হক পলাশ ০৫) অধিকারী (৫০) যাত্রাপালার মালিক - মাতাল - এস.এম ইকবাল রুমি ০৬) ক্যাশিয়ার (৪০) পালার ক্যাশিয়ার - লোভী ও চতুর - শোয়েব মনির ০৭) ভাবী (৩০) প্রতিবেশী ভাবী - সদয় - সোমা সরকার এই সিনোপসিসে আছে ০১) শুরু - সঙ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে কাজ করে। মধ্য - তার সঙ্গে যাত্রাপালার নর্তকীর পরিচয় ও প্রেম শেষ - তার স্ত্রী সংসার ছেড়ে চলে যায় । ০২) প্রধান প্রধান চরিত্র আছে। যেমন : প্রধান চরিত্র সঙ, তার স্ত্রী , ট্রাক ড্রাইভার ও দোকানী মহাজন। ০৩) প্রধান প্রধান ঘটনা আছে। যেমন : সঙয়ের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ানো, নর্তকীর সঙ্গে পরিচয়, প্রেম ও সংসার, ট্রাক ড্রাইভারের ফুসলানো, দোকানী মহাজনের বাকি দেয়া এবং সবশেষে সংসার ছেড়ে চলে যাওয়া । ০৪) এখানে কাহিনী একটি । কোন উপ-কাহিনী নাই। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বলেই উপ-কাহিনী নাই। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হলে অবশ্যই উপ-কাহিনী থাকত। ০৫) ভাষা যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত ও সরল করা হয়েছে। ছোট ছোট বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে। ০৬) আকারের দিক দিয়ে একটি অনুচ্ছেদ বা প্যারাগ্রাফের সমান আছে। যদিও নানা ঘটনার বাঁকগুলো একাধিক প্যারাতে লেখা হয়েছে। ০৭) কোন সংলাপ নাই। ০৮) ১৭৬ শব্দে লেখা হয়েছে। ০৯) সিনোপসিসের শেষে চরিত্রগুলোর একটি তালিকা যোগ করা হয়েছে। *************************************

Source link: Plz, click here to show
--------------------------------

Is it verified id......? 112

কিভাবে আপনার প্রথম চলচ্চিত্রটি বানাবেন ?

Details : কিভাবে চলচ্চিত্র বানাবেন ?

01.

কৈফিয়ত আপনার মধ্যে স্বপ্ন আছে। স্বপ্ন একটি চলচ্চিত্র বানানোর। স্বপ্ন একজন চলচ্চিত্রকার হওয়ার। কিন্তু জানেন না কিভাবে বানাতে হয় একটি চলচ্চিত্র। আপনার জন্য এই বই। চলচ্চিত্র বানানোর স্বপ্ন দেখেন বলেই ধরে নেয়া যায় আপনি সৃজনশীল। আপনি একটি জানা ঘটনাকে গুছিয়ে লিখতে পারেন। আপনি একটি ঘটনাকে কল্পনার রং চড়িয়ে আরও আকর্ষণীয় করতে পারেন। কিন্তু সেগুলো কেবল কাগজ ও কলমে। সেই গল্পটিকে চলচ্চিত্রে রূপ দেয়ার জন্য আপনার জানা চাই কিছু কলা-কৌশল। সেই কলা-কৌশলগুলিই এই বইয়ের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে। আপনি শিখবেন কিভাবে সৃজনশীল চিন্তা করতে হয়, কিভাবে চিন্তাকে গল্পে রূপান্তর করতে হয়, কিভাবে গল্পকে চলচ্চিত্র মাধ্যমের উপযোগী করতে হয়। আরও শিখবেন, কিভাবে গল্পকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে ছবি ও শব্দে বেঁধে ফেলবেন। ক্যামেরার ভাষায় আপনার গল্পটিকে কিভাবে জীবন্ত করে তুলবেন এবং ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবিগুলোকে সাজিয়ে গুছিয়ে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করবেন। জানবেন, চলচ্চিত্র বানাতে হলে কাদের সহায়তা আপনাকে নিতে হবে, কাদের সঙ্গে আপনি মিলে মিশে কাজ করবেন এবং তাদের কাছ থেকে কিভাবে কাজ বের করে আনবেন। কেবল স্বপ্ন আর এই বইটি পুঁজি করে আপনি বানিয়ে ফেলতে পারবেন আপনার প্রথম চলচ্চিত্রটি। চলচ্চিত্রকার হওয়ার পথের প্রথম পদক্ষেপ নিচ্ছেন আপনি। স্বপ্নিল এ পথের যাত্রা শুভ হোক।

আপনার প্রথম পদক্ষেপ : চাই একটি গল্প
চলচ্চিত্র বানাবেন কেন ? কারণ আপনি একটি গল্পকে দর্শককে দেখাতে ও শোনাতে চান। চলচ্চিত্রের ভাষায় গল্পের ছলে আপনার নিজস্ব কিছু ধ্যান-ধারণা দর্শককে জানাতে চান। দর্শককে বিনোদন দিতে চান। কিভাবে বানাবেন আপনার গল্পটি ? গল্পটির একটি শুরু থাকবে, মধ্য থাকবে এবং শেষ থাকবে। আর গল্পটির মধ্যে থাকবে একটি দ্বন্দ্ব। কোন একজন ব্যক্তির গল্প হবে এটি। সে কিছু অর্জন করতে চায়। সেই চাওয়াটা বিশাল কোন চাওয়া থেকে সামান্য কিছু হতে পারে। সে চায় মন থেকে। সে পিছ পা হওয়া জানে না। সে একটা পণ করেছে। কিন্তু তার সেই অর্জনের জন্য সংগ্রাম করতে হবে। কেননা, তার এই অর্জনের পথে রয়েছে এক বা একাধিক বাধা। সেই বাধার মধ্যে কিছু তার নিজের মধ্যে বা অন্য কোন ব্যক্তি তার পথের কাঁটা। সুতরাং একটি সংঘাত অনিবার্য। চলচ্চিত্রের শুরু থেকেই প্রতি পদে পদে সংঘাত হবে। সেই সংঘাতে ব্যক্তিটি বিজয় লাভ করবে বা হেরে যাবে। সহজ কথায় পৃথিবীর তাবৎ সিনেমার গল্প এটি। এর বাইরেও সিনেমা হয়। নানা রকম সিনেমা হয়। এত রকম হয় যে, এক কথায় সেটা বলা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা এত জটিলতায় যাব না। কেননা, আমরা মাত্র শেখা শুরু করেছি। আমরা সহজ করে শিখব। যত সহজ করে সম্ভব তত সহজ করেই আয়ত্ত করব চলচ্চিত্র বিদ্যা। এই বিদ্যা আয়ত্ত করার জন্যই পণ করেছি জীবনের প্রথম চলচ্চিত্র বানাব । আসুন, কাজে নেমে পড়া যাক।

2.

প্রথম কাজ : সৃজনশীল ভাবনা গল্পের তরে ভাবনা হবে সৃজনশীল। মানে সৃজন করার জন্য। সৃজন করতে হলে ভাবতে হবে। সেই ভাবনা এলোমেলো হলে হবে না। হতে হবে গুছানো। হতে হবে পরিকল্পিত। হবে হবে সেই মাধ্যমের উপযোগী যেই মাধ্যমে সৃজনশীল কাজটি হবে। আপনি চলচ্চিত্র বানাবেন। তার জন্য গল্প লিখবেন। সেই গল্প হতে হবে চলচ্চিত্রের উপযোগী। নচেৎ সেই গল্পের কোন মূল্য নাই। চলচ্চিত্রের গল্প কেমন হয় ? চলচ্চিত্রে আমরা কতগুলো চলমান দৃশ্য দেখি। আর শুনি কিছু শব্দ। তাই গল্পের মধ্যে থাকতে হবে কিছু দৃশ্য বা ছবি এবং কিছু শব্দ। যেই গল্পই বানান না কেন সেটাকে দৃশ্যে এবং শব্দে প্রকাশ হবে। কিভাবে বানাবেন চলচ্চিত্রের গল্প ? পৃথিবীর সব গল্প বানানোর একটা সহজ নিয়ম আছে। এই সহজ নিয়মের জন্য দরকার মগজের ঝড়। ইংরেজিতে যেটাকে বলে ব্রেইন স্টর্মিং - সেটার সোজা বাংলা মগজের ঝড় বলাই ভালো। যাই হোক, মগজের ঝড় কিভাবে তুলবেন এবং সেটাকে কিভাবে আপনার গল্প বানাতে ব্যবহার করবেন সেটাই হল আলোচ্য বিষয়। এই মগজের ঝড় তোলার নানা কায়দা আছে। অত বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে আমরা সহজ করে বুঝি। প্রথমে ভাবুন একটা মূল বক্তব্য নিয়ে। কী বলতে চান আপনি এই চলচ্চিত্রের দিয়ে ? যেমন, আপনি বলতে পারেন : ০১) মানুষ মানুষের জন্য। এই সহজ কথাটি বোঝানোর জন্য আপনি একটি গল্প তৈরি করতে পারেন । সেই গল্পে কোন মানুষ নিঃস্বার্থভাবে অন্য মানুষের জন্য জীবন বিলিয়ে দেবে। অপর জন তার এই বিলিয়ে দেয়ার কথা প্রথমে জানবে না। যখন জানবে তখন আর প্রতিদান দেয়ার সময় নাই। অথবা ০২) প্রেম নয়, টাকাই বড়। একটি প্রেমের গল্প। গল্পের শেষে দেখা গেল কেবল টাকার জন্য নায়ক / নায়িকা অপর জনকে ছেড়ে গেল। অপরজন তার এই দুঃখে তার জীবন বিসর্জন দিল । অথবা ০৩) টাকা নয়, প্রেমই বড়। এইটিও একটি প্রেমের গল্প। এই গল্পে গল্পের নায়ক টাকার মোহ ছেড়ে তার প্রেমাস্পদকেই বড় করে দেখবে। টাকা বা সম্পদের হাতছানি এড়িয়ে সে তার প্রেমের জন্য একের পর এক ত্যাগ করতে লাগল। কিন্তু তার এই প্রেমের মূল্য দিতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হল। আরেকটা কথা, গল্পের এই মূল বক্তব্যটা গোপন রাখতে হবে। কোথাও প্রকাশ্যে বলা যাবে না। যত গোপন রাখা যাবে, যত কৌশলী হওয়া যাবে, ততই গল্পটা শৈল্পিক হয়ে উঠবে । কিন্তু সে জন্য গল্পটি জটিল করা যাবে না, গল্পটি হবে সহজবোধ্য, যুক্তিসঙ্গত, অদ্বিতীয় ও স্বাভাবিক সম্ভাব্য ঘটনায় ভরপুর। এমন কোন ঘটনা থাকবে না, যেটা খাপ খায় না, অস্বাভাবিক লাগে। তেমন কোন ঘটনা জুড়ে দেয়ার লোভ দমন করতে হবে, আবেগ সংযত করে সেই অংশটুকু নিষ্ঠুরের মতো বাদ দিয়ে দিতে হবে। এবার মগজের ঝড় বিষয়টা বোঝার জন্য একটা অনুশীলনী করা যাক। অনুশীলনী : ০১) এক টুকরো সাদা কাগজ ও কলম নিন। ০২) একটি শব্দে একটি বিষয় বেছে নিন। শব্দটি কাগজের মাঝখানে লিখুন। মনে করুন, এটি একটি বীজ। এই বীজ থেকে একটি চারা গাছ জন্মাবে। এই চারাগাছটিই আমাদের নির্মিয়মান চলচ্চিত্রটি। যেমন : শব্দ হল - ঈর্ষা। ০৩) এবার সেই শব্দটি থেকে একটি বাক্য রচনা করার চেষ্টা করুন। বাক্যটি চারাগাছটি কত বড় হবে সেটা নির্ধারণ করে দেবে। যেমন : ঈর্ষা মানুষের সর্বনাশ করে। ০৪) এই বাক্যটি এমন হবে যেন গল্পের শুরু, মধ্য ও শেষ বিষয়ে একটা আভাস দেয়। যেমন : ঈর্ষা মানুষের সর্বনাশ করে - এই বাক্যে একটা গল্প শুরু হবে ঈর্ষা দিয়ে এবং মধ্যভাবে ঈর্ষার মাধ্যমে কেউ কারো ক্ষতি করবে এবং গল্পের শেষে তার হবে সর্বনাশ। তার মানে হল এই বাক্যটি এমন যে, এই বাক্যটি থেকে এমন একটি গল্প তৈরি করা সম্ভব - যার শুরু, মধ্য ও শেষ আছে। ০৫) এই বাক্যের চারপাশে সাদা কাগজের মধ্যে ঈর্ষা ও সর্বনাশ সংক্রান্ত যত শব্দ মনে পড়ে সবগুলো শব্দ লিখে ফেলুন। প্রত্যেকটি শব্দ দিয়ে একটি করে ঘটনা তৈরি করার চেষ্টা করুন। কিন্তু এই ঘটনাগুলো মূল বাক্যের বিপরীত কোন বক্তব্য প্রকাশ করবে না। যেমন : লিখুন, ক্ষতি করা, চুরি করা, আগুন লাগানো, এসিড মারা, কান ভাঙ্গানি দেয়া - এই প্রতিটি কাজ ঈর্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত । আবার সর্বনাশের সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দ হতে পারে - মারামারি হওয়া, সংঘর্ষ হওয়া, দাঙ্গা লাগা, টাকা হারানো, মামলা -মোকদ্দমায় জড়ানো, লুট হওয়া, ভাংচুর হওয়া, অসুস্থ হওয়া ইত্যাদি। ০৬) এই ভাবে শব্দ লিখে লিখে কাগজটি ভরে ফেলুন। যত বেশি শব্দ লেখা যায়, ততই ভালো। তবে শব্দগুলির মধ্যে দেখার ও শোনার উপাদান থাকলে ভালো হয়। কেননা চলচ্চিত্র তো দেখা ও শোনার মাধ্যম। কিন্তু এমন কোন শব্দ লেখবেন না যেটা এই মূল বক্তব্য বা বাক্যটির সাথে সম্পর্কিত নয়। ০৭) বীজ থেকে পুরো বৃক্ষ হতে যেমন নানা দুর্যোগ পেরুতে হয়, তেমনি অনেক বাধা বিঘ্ন ঘটার মতো ঘটনার কথা লিখুন। তবে সেই সব ঘটনা এই কাগজে নয়, অন্য কোন কাগজে লিপিবদ্ধ করুন। ০৮) তার মানে দাঁড়াল এই, আপনি মূল বক্তব্যটি দিয়ে এমন একটি বাক্য রচনা করবেন যেটা গল্পের শেষ, মধ্য ও শুরু প্রকাশ করবে। বিশেষ করে গল্পের শেষটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গল্পের শেষ কিভাবে হবে সেটাই আগে নির্ধারণ করে নিন। এই যে কাজটা করলাম, এটাই হল মগজের ঝড় বা ব্রেইন স্টর্মিং। একটা ভালো গল্প লেখার জন্য মগজে ঝড় তুলে বিষয়টা আগে বুঝে নিতে হবে। এটা হল সহজ পন্থায় মগজের ঝড়। নানাভাবে মগজের ঝড় তোলা যায়। এই কাজটি নতুনদের জন্য খুবই জরুরী। যারা অভিজ্ঞ তাদের জন্য এই রকম মগজের ঝড় না তুললেও চলবে।

3.

সৃজনশীলতার যাদুর সঙ্গে এবার মেশাই জ্ঞানের নেশা : সৃজনশীলতার যাদুর জগৎ সম্পর্কে একটা প্রাথমিক ধারণা দেয়া গেছে। মগজের ঝড় তুলে আপনি সৃজনশীলতার জগৎ সম্পর্কে সামান্য ধারণা নিয়েছেন। এবার আসুন এই যাদুর সঙ্গে মেশাই জ্ঞানের নেশা। কেননা চলচ্চিত্র এই যাদু ও নেশার জগৎ। কাগজে কলমে সিনেমার যে গল্পটি লেখা হয় সেটাকে বলে চিত্রনাট্য। আগে চিত্র পরে নাট্য। এতে চিত্রও আছে, নাট্য আছে। তাহলে চিত্র ও নাট্য উভয় সম্পর্কে জানতে হবে। চিত্রনাট্য লিখতে হলে যা যা জানতে হবে -- বিষয়বস্তু : যে বিষয়বস্তু নিয়ে আপনি সিনেমা বানাবেন তার সম্পর্কে জানতে হবে। একজন সাংবাদিক যেভাবে একটা সংবাদ লেখার আগে ঘটনা সম্পর্কে জেনে নেয়, তেমন করে জেনে নিতে হবে। অথবা একজন গোয়েন্দা যে রকম গোপনে একটা বিষয় সম্পর্কে জেনে নেয়, সেভাবে বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে হবে। তারপর ওই বিষয়ে সম্ভাব্য সব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সেক্ষেত্রে বইপত্র, পত্রিকা, সিনেমা, নাটক এবং ইন্টারনেট হতে পারে উৎস। মোট কথা বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার জ্ঞান না থাকলে ভালো সিনেমার গল্প লেখা যায় না। বিষয় বেছে নেয়ার সহজ কৌশল হল, নিজের বা পরিচিত জনের জীবন কাহিনী বেছে নেয়া। তার সঙ্গে নিজের কল্পনা ও সৃজনীশক্তি মিলিয়ে বানানো যায় চমৎকার গল্প। অনুশীলনী : ০১) একটি ছোট নোট বুক ও কলম নিন। ০২) যে বিষয়ে লিখতে চান সে বিষয় সম্পর্কে কয়েক জনের সাক্ষাৎকার নেন। সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় যে ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে চাইবেন, সেই ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, বয়স, পেশা, ধর্ম, জাতীয়তা, তার সঙ্গে পরিবার, সহকর্মী, সহপাঠী, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনের সম্পর্ক খুজে বের করুন। ০৩) একই বিষয় নিয়ে রচিত উপন্যাস পড়ুন। পত্রিকায় এর সম্পর্কিত কোন খবর থাকলে পড়ুন। অন্যান্য বই পড়ুন। ম্যাগাজিন পড়ুন। ইন্টারনেট ঘাটুন। নাটক ও সিনেমা দেখুন। মূলবক্তব্য বা প্রেমিজ : মগজের ঝড় তুলতে গিয়ে আমরা মূলবক্তব্য নিয়ে কাজ করেছি। ফলে আমরা ইতিমধ্যে জানি প্রত্যেকটি গল্পেরই একটি মূল বক্তব্য থাকে। একই বিষয়ে গল্প লেখা হলেও মূলবক্তব্য ভিন্ন হয়। যেমন : ০১) প্রেম একটি স্বর্গীয় বিষয়। ০২) প্রেম কেবল কাঁদায়। এই দুটি মূল-বক্তব্যের বিষয় একই কিন্তু বক্তব্য ভিন্ন। মগজের ঝড় তোলার কৌশল কাজে লাগিয়ে মূল বক্তব্য নির্ধারণ করা যায়। প্লট বা বৃত্ত : প্লট বা বৃত্ত হল কাহিনী। যে বিষয়ে সিনেমা বা নাটক বানাতে চান, সেই কাহিনীকে তত্ত্বীয় ভাষায় বলা হয় প্লট বা বৃত্ত। কাহিনীর মধ্যে ২ ধরনের কাহিনী থাকে। একটি হল মূল কাহিনী বা মেইন প্লট। যেই লোকটি কাহিনীর প্রধান চরিত্র, তার কাহিনীটিই হল মেইন প্লট বা প্রধান বৃত্ত। এর বাইরে অন্য কোন চরিত্রের কাহিনী যুক্ত থাকলে সেটাকে বলা হয় সাব-প্লট বা অপ্রধান বৃত্ত। সাব-প্লট বা অপ্রধান বৃত্ত মূলত মেইন প্লট বা প্রধান বৃত্তের কাহিনীকে আরও আকর্ষণীয় করার জন্য ব্যবহার করা হয়। সিনেমার প্লট বা বৃত্ত তৈরির ক্ষেত্রে বিবেচ্য : ০১) গল্পটি কি দরকার আছে ? ০২) এ গল্পটি কী বোঝায় ? উদ্দেশ্য কী ? ০৩) এ সিনেমাটি কি নতুন কোন কিছু বলে ? অনুশীলনী : ০১) একটি এ-ফোর সাইজের কাগজ নেন। ০২) পুরো গল্পটি এক পাতায় লিখুন। ০৩) এ ক্ষেত্রে কোন অতিরিক্ত চিন্তা ভাবনা করবেন না। কেবল ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লিখে যান। দ্বন্দ্ব /সংঘাত : সিনেমা বা নাটকের গল্পে ২টি প থাকে। সেটা হতে পারে নায়ক বনাম প্রতি-নায়ক, নায়ক বনাম প্রকৃতি, নায়ক বনাম রাষ্ট্র ইত্যাদি। আরেকটি দ্বন্দ্ব হল নিজের সঙ্গে নিজের দ্বন্দ্ব - যাকে বলা হয় আত্ম -দ্বন্দ্ব। একই সাথে গল্পের মধ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে আত্ম-দ্বন্দ্ব ও বহির্মুখী দ্বন্দ্ব। ফলে গল্প হয়ে উঠবে আরও নাটকীয়। দর্শক হিসেবে মানুষ সব সময় লড়াই বা প্রতিযোগিতা দেখতে পছন্দ করে। এ জন্যই প্রতিটি খেলাতেই ২টি পক্ষ থাকে। এক পক্ষ জেতে ও অপর পক্ষ হারে। এই হারজিত সিনেমার কাহিনীতেও থাকে। সাধারণ নায়ক জেতে ও প্রতি-নায়ক হারে। আবার কখন নায়ক হেরে যায়। কোনটা হবে সেটা নির্ধারণ করবেন আপনি। অনুশীলনী : ০১) আপনার পরিচিত একজন মানুষকে বেছে নিন। ০২) খুঁজে বের করুন তার সঙ্গে কার সংঘাত আছে। ০৩) কেন সংঘাত ? কোন বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ? ০৪) আপনি কার প নেবেন ? কেন ? ০৫) আপনার চোখে এই দ্বন্দ্বে কে নায়ক ও কে প্রতি-নায়ক ? সাসপেন্স /টেনশন / উৎকণ্ঠা : তারপর কী হবে - এই সাধারণ চিন্তাটা আসে উৎকণ্ঠা থেকে। উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করতে হয় গল্পের মধ্যে। কেননা, উৎকণ্ঠা দর্শককে পরবর্তী উৎকণ্ঠা দেখার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তোলে। উৎকণ্ঠা ছাড়া সিনেমা হবে ম্যাড়মেড়ে। একশনে তৈরি হয় উৎকণ্ঠা। চোর পালাচ্ছে, তার পিছু নিয়েছে পুলিশ। দর্শকের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হবে। চোরকে কি ধরতে পারবে পুলিশ ? সিনেমায় উৎকণ্ঠা সৃষ্টির জন্য দুটি দৃশ্যকে পাশাপাশি দেখানো হয়। যেমন : নায়িকা শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ওদিকে নায়কের ভুল ভেঙ্গেছে। সে তাকে আনতে গেছে তার বাড়ি। বাড়ি থেকে স্টেশনের দিকে রওয়ানা হয়েছে। নায়িকা টিকেট কাটছে। নায়ক গাড়িতে ছুটছে। নায়িকা ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছে ট্রেনের দিকে। নায়কের গাড়ি ট্রাফিক জ্যামে। এই রকম পাশাপাশি দুটি স্থানের দৃশ্য দেখিয়ে সিনেমায় দর্শক মনে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি করা যায়। সংলাপে তৈরি হয় উৎকণ্ঠা। যেমন : নায়ক : আমি যাব। নায়িকা : আমি যাব না। ব্যাস, তৈরি হয়ে গেল উৎকণ্ঠা। তারা কি আদৌ যেতে পারবে ? এইভাবে একশন বা নাট্যক্রিয়া এবং সংলাপে উৎকণ্ঠা তৈরি করতে হবে। অনুশীলনী : ০১) একটি গল্পের মধ্যে অনেকগুলো ঘটনা লিখতে শুরু করুন। ঘটনাগুলোর নাম্বার দিন। ০২) প্রতিটি ঘটনা লিখুন একটি বাক্যে। ০৩) এমনভাবে লিখুন যেন তারপর কী হবে সেটা জানতে কৌতুহল তৈরি হয়। ০৪) যতক্ষণ পর্যন্ত এই কৌতুহল বা উৎকণ্ঠা তৈরি না হবে ঘটনাগুলো সাজাতে থাকুন, নতুন ঘটনা যোগ করুন, পুরোনো ঘটনা বদলে ফেলুন। চরিত্র : কোন একজন মানুষের জীবনে কাহিনী নিয়ে হয় নাটক বা সিনেমা। যেই মানুষটির কাহিনী নিয়ে নাটক বা সিনেমা হয় সেই মানুষটি হল চরিত্র। একটি মানুষের চরিত্র বুঝতে হলে তার ৩টি দিক বুঝতে হয়। তার ব্যক্তিগত দিক, পারিবারিক দিক ও সামাজিক দিক। চরিত্রের নাম, বয়স, পিতা-মাতা, বন্ধু বান্ধব সবাইকে দেখে চরিত্রটি সম্পর্কে ধারণা করা যায়। সিনেমার চরিত্র তৈরির ক্ষেত্রে বিবেচ্য : ০১) চেহারা, ০২) পোশাক, ০৩) বয়স, ০৪) কার্যকলাপ ০৫) সংলাপ, ০৬) অন্য লোক তার সম্পর্কে যা বলে। ০৭) সে নিজের সম্পর্কে যা বলে। ০৮) রক্ত মাংসের মানুষ হতে হবে। ছাচে ঢালা চরিত্র বাদ দিতে হবে। ০৯) চিত্রনাট্যকারকে চরিত্রের ভেতর থেকে কথা বলতে হবে। ১০) চরিত্র চিত্রণের ক্ষেত্রে এমন কোন আচরণ থাকতে পারে - যা ঘটনার সাথে সম্পর্কিত না হলেও চরিত্র চিত্রণের জন্য ব্যবহৃত হবে। ১১) চরিত্রের মধ্যে একটা ক্ষুধা থাকবে। একটা বিশেষ বাতিক থাকতে পারে। অনুশীলনী : ০১) একটি পরিচিত মানুষকে বেছে নিন। ০২) নিন্মের ছক অনুসারে তার সম্পর্কে সব তথ্য লিখে ফেলুন। এটাকে বলা হয় ত্রৈমাত্রিক চরিত্রের অস্থি সংস্থান। এটি তৈরি করেছেন লাজোস এগরি। চরিত্রের নাম : (ক) শরীরতাত্ত্বিক মান ১. লিঙ্গ : , ২. বয়স : , ৩. উচ্চতা : , ৪. ওজন : , ৫. চুলের বর্ণ : , ৬. চুর বর্ণ : , ৭. চর্মের বর্ণ : , ৮. আঙ্গিক বৈশিষ্ট্য : ৯. আকৃতি : [ দৃষ্টিনন্দন : অতি ও কম ওজন : পরিচ্ছন্ন : পরিপাটি : খোসমেজাজী : মস্তিষ্ক-মুখ- বাহুর আকৃতি : অসমতা : ] , ১০. বিকৃতি : , ১১. বংশানুবৃত্তি : (খ) সমাজতাত্ত্বিক মান ১. শ্রেণী : [ শাসকশ্রেণী : মধ্যবিত্ত : পাঁতিবুর্জোয়া : শ্রমজীবি : ], ২. বৃত্তি : [ কাজের প্রকৃতি : কাজের সময় : মাত্রা : আয় : কাজের শর্তাবলী : প্রতিষ্ঠানের ভিতরে বা বাইরে : প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক : কাজের যোগ্যতা : ] ৩. শিক্ষাদীক্ষা : [ শিক্ষার পরিমাণ : শিক্ষালয়ের মান: পরীক্ষার ফল : প্রিয় বিষয় : কোন কোন বিষয় সবচেয়ে কম জানে : দতা : ] ৪. পারিবারিক জীবন : [ পিতা মাতা কি জীবিত নাকি মৃত ? তাদের উপার্জন মতা : পিতা : মাতা : পিতামাতার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটেছে কি না : বিচ্ছেদের কারণ : পিতামাতার মানসিক উন্নতির মান : তাদের দোষ : পিতা : মাতা : আসক্তি : পিতা : মাতা : বিরাগ বা উপো : পিতা : মাতা : চরিত্রের সংগ্রামশীলতা : পিতা : মাতা : ] , ৫. ধর্ম : , ৬.জাতি : ৭. সামাজিক প্রতিষ্ঠা : (বন্ধুবান্ধবমহলে, সভা-সমিতি-খেলাধূলায় নেতা কি না) : ৮. রাজনৈতিক মতবাদ : ৯.আমোদ প্রমোদ, বাতিক : (বই, খবরের কাগজ, মাসিক পত্রাদি পড়ার ঝোঁক) : (গ) মনস্তাত্ত্বিক মান ১. যৌনজীবন : , ২. নৈতিক মান : , ৩. ব্যক্তিগত প্রকৃতি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা : , ৪. আশা ভঙ্গ, প্রধান অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা : ৫. মেজাজ : [ কড়া মেজাজী : নরম মেজাজী : নৈরাশ্যবাদী : আশাবাদী : ] ,৬. জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি : [ সমর্পিত : সংগ্রামী : পরাজিতন্মন্য : ] ৭. মনোগ্রন্থি : [ মনোবোধ আচ্ছন্ন : অভ্যাসগত কাজের বিরতি : কুসংস্কার : বাতিক : আতংক : ] ৮. লোক ব্যবহার : [ বহির্মুখী : অন্তর্মুখী : উভয়মুখী : ৯. দক্ষতা : [ ভাষাজ্ঞান : বিশেষ কর্মদক্ষতা : ] ১০. গুণ : [ কল্পনাশক্তি : বিচারশক্তি : সুরুচিবোধ: ভারসাম্য : ] ১১. বুদ্ধির মানাঙ্ক : ০৩) সবগুলো তথ্য একবার মনোযোগ দিয়ে পড়ুন । আশা করি, তার চরিত্রটি সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। একশন বা নাট্যক্রিয়া : নাট্যক্রিয়া বা একশন সিনেমার গতি তৈরি করে। আমরা প্রতিদিন কত শত কাজ করি। সে গুলোর সবই ক্রিয়া বা একশন। এই একশন দেখা যায় শরীরের মাধ্যমে। আমরা হাঁটি, দৌড়াই, বসি, খাই, ঘুমাই - এগুলো সবই একশন। আবার কিছু একশন আছে যেগুলো আমাদের শরীর দিয়ে দেখা যায় না, দেখা যায় মুখভঙ্গির মাধ্যমে। সেই একশনটা ঘটে মনের মধ্যে। মনের সেই অনুভূতি চোখের তারায়, চাহনিতে, ভ্রুর সঞ্চালনে, ঠোঁটের ভঙ্গিতে ফুটে ওঠে। আমরা বুঝে নেই চরিত্রটির মনের অবস্থা। অনুশীলনী : ০১) আপনার পরিবারের একজনকে বেছে নিন। ০২) দূর থেকে তার কাজকর্ম লক্ষ্য করুন। ০৩) সে যা যা করছে সেটা লিখে ফেলুন। ০৪) তার কাজের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ অন্য কেউ কী করছে ? সেটাও লিখুন। ০৫) এই সব কাজ করতে গিয়ে তার চেহারার ভঙ্গির কী কোন পরিবর্তন হচ্ছে ? সেই পরিবর্তন ও ভঙ্গিটি লিখুন। ০৬) তার এসব কাজের সঙ্গে কোন কোন বস্তু জড়িত হয়ে পড়ছে। যেমন : ফোন, কম্পিউটার, থানা-বাসন, টেবিল চেয়ার, বই-কলম ইত্যাদি। সে যে সব বস্তু ব্যবহার করে কাজ করছে সেই বস্তুগুলোর নামও লিখুন। সংলাপ : আপনি যেভাবে কথা বলেন, সেটা লিখে ফেললেই হয়ে যাবে সংলাপ। সুতরাং সিনেমার চরিত্রগুলো পরস্পরের সাথে যে কথোপকথন করে সেটাই সংলাপ। সিনেমায় সংলাপ তথ্য দেয়, গল্পকে এগিয়ে নেয় এবং ভবিষ্যৎ ঘটনা সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়। সিনেমার সংলাপ তৈরির ক্ষেত্রে বিবেচ্য : (সংলাপের কাজ) ০১) গল্প এগিয়ে নেয়। ০২) চরিত্রকে প্রকাশ করে। ০৩) ঘটনা ও চরিত্র সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য দেয়। ০৪) আমাদের চারপাশের বাস্তব চরিত্রের মতো সংলাপ হবে। ০৫) আগের সংলাপের সাথের পরের সংলাপের ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। ০৬) বিভিন্ন ধরনের চরিত্র বিভিন্ন রকম করে সংলাপ বলবে। ০৭) চরিত্র কিভাবে সংলাপ শোনে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ । সংলাপ রচনার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ভাষা প্রয়োগ করলে এবং নানা চরিত্র নানা ভাষায় কথা বললে বৈচিত্র্য তৈরি হয়। অনুশীলনী : ০১) জনসমাগম আছে এমন একটা জায়গায় যান। যেমন : রেল স্টেশন, বাস স্টেশন বা কোন থিম পার্ক। ০২) কয়েকজনের কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করুন। ০৩) রেকর্ডকৃত কথোপকথন মনোযোগ দিয়ে শুনুন। খেয়াল করে দেখুন একেক জন একেকভাবে কথা বলছে। ০৪) রেকর্ড করা প্রত্যেকের সংলাপ লিখে ফেলুন। বুঝতে কি পারছেন মানুষ বাস্তবে কিভাবে কথা বলে ? ****************************

4.

এবার কিছু জ্ঞানের কথা বলার আগে পৃথিবী বিখ্যাত দুটি চলচ্চিত্র দেখে নিন। প্রথমটি হল প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের “হীরক রাজার দেশে” এবং আরেকটি হল বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার জ্যামস ক্যামেরনের সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র “টাইটানিক”। কিভাবে দেখবেন চলচ্চিত্র ? এতকাল আপনি মনের মাধুরী মিশিয়ে চলচ্চিত্র দেখেছেন, মগজ খাটান নি। এবার মগজ খাটিয়ে চলচ্চিত্র দেখবেন। দর্শক হিসেবে নয়, চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে চলচ্চিত্র দেখবেন। সেভাবে দেখার একটা সাধারণ নিয়ম আছে। অনুশীলনী : ০১) কাগজ কলম নিন। ০২) সত্যজিৎ রায়ের “হীরক রাজার দেশে” চলচ্চিত্রটি আপনার ডিভিডি প্লেয়ারে চালু করুন। ০৩) প্রথম দৃশ্য থেকে ধীরে ধীরে দেখুন। বারে বারে থামুন। ০৪) শটগুলো লিখে ফেলার চেষ্টা করুন। একবার ক্যামেরা চালু হওয়ার পর ক্যামেরা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত যে অংশটুকু গৃহীত হয়, সেটাই একটি শট। শটগুলো লেখার ক্ষেত্রে ক্যামেরা দূরত্ব , ক্যামেরা কোণ ও ক্যামেরা সঞ্চালন বিবেচনা করুন। বস্তু থেকে ক্যামেরা দূরত্বের উপর ভিত্তি করে শটের অনেকগুলো নাম দেয়া হয়েছে। যেমন : ক্যামেরা দূরত্বের উপর ভিত্তি করে শটের বিভাজন : ০১) এক্সট্রিম লং শট (অতি দূরবর্তী শট) : একটা পুরো গ্রাম, প্রান্তর ইত্যাদি দেখানোর জন্য দূর থেকে যে শট নেয়া হয় সেটাই এক্সট্রিম লং শট। এক্সট্রিম লং শট ছাড়া অন্য সব শট বোঝার জন্য মানুষের শরীর থেকে ক্যামেরা দূরত্ব বিবেচনা করা হয়। সেই দূরত্বের কারণে শরীরের কতটুকু ক্যামেরা ধারণ করা হচ্ছে সেটা বিবেচনা করে শটগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। ০২) লং শট : ফ্রেমে একটি মানুষের পুরো শরীর আসবে। সেই সাথে মানুষটির পেছনের বেশ কিছু জায়গা এবং সামনে বেশ কিছু জায়গা ফ্রেমে থাকবে। এটাই লং শট। ০৩) ফুল শট : মানুষের পা থেকে মাথা পর্যন্ত শট। মানুষের সামনে কোন দৃশ্য বা ফোরগ্রাউন্ড এই শটে থাকে না। লং শটের ফোরগ্রাউন্ড বা সামনের জায়গা ছেটে দিলেই সেটা ফুল শট হয়ে যায়। ০৪) মিড লং শট : পায়ের পাতার উপর থেকে ও হাঁটুর নিচ থেকে মাথা পর্যন্ত শটকে মিড লং শট বলে। ০৫) মিড শট : হাঁটুর উপর ও কোমরের নিচ থেকে মাথা পর্যন্ত শটকে মিড শট বলে। তাছাড়া বসা অবস্থায় যে কোন শটকেও মিড শট বলে। ০৬) মিড কোজ শট : মিড শটে একটি মানুষ না থেকে যদি একাধিক মানুষ থাকে তবে তাকে মিড কোজ শট বলে। ০৭) কোজ শট : নাভির উপর থেকে মাথা পর্যন্ত শটকে কোজ শট বলে। ০৮) কোজ আপ : বুক থেকে মাথা পর্যন্ত শটকে কোজ আপ বলে। ০৯) টাইট কোজ আপ : গলার নিচ থেকে মাথা পর্যন্ত শটকে টাইট কোজ আপ বলে। ১০) বিগ কোজ আপ : থুতনি থেকে কপাল পর্যন্ত শটকে বিগ কোজ আপ বলে। ১১) এক্সট্রিম কোজ আপ : শুধুমাত্র ঠোঁট, চোখ বা গাল ইত্যাদির শটকে এক্সটিম কোজ আপ বলে। ক্যামেরা কোণের উপর ভিত্তি করে শটের বিভাজন : ০১) হাই এঙ্গেল শট : আই লেভেল থেকে ক্যামেরা উপরে স্থাপন করে নিচের দিকে শট নিলে তাকে হাই এঙ্গেল শট বলে। ০২) লো এঙ্গেল শট : আই লেভেল থেকে ক্যামেরা নিচে স্থাপন করে উপর দিকে শট নিলে তাকে লো এঙ্গেল শট বলে। ০৩) স্ট্রেইট এঙ্গেল শট বা ফ্রন্ট এঙ্গেল শট : আই লেভেল বরাবর ক্যামেরা স্থাপন করে শট নেয়া হলে সেটা স্ট্রেইট এঙ্গেল বা ফ্রন্ট এঙ্গেল শট। ০৪) টপ শট : হাই এঙ্গেল শটের চূড়ান্ত অবস্থা হল টপ শট। একেবারে মাথার উপর থেকে শট নেয়া হলে তাকে টপ শট বলে। ক্যামেরা সঞ্চালনের উপর ভিত্তি করে শটের বিভাজন : ক্যামেরা সঞ্চালন ২ প্রকার : ০১) নিজের অক্ষের উপর ক্যামেরা সঞ্চালন, ০২) ক্যামেরার স্থান পরিবর্তন। ০১) নিজের অক্ষের উপর ক্যামেরা সঞ্চালন : ক) প্যান : নিজের অক্ষের উপর ক্যামেরার আনুভূমিক সঞ্চালনকে প্যান বলে। আমরা যে রকমভাবে ডান থেকে বায়ে বা বা থেকে ডানে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাই, ঠিক সেভাবে ক্যামেরা এক পাশ থেকে অন্য পাশে সঞ্চালন করাকেই প্যান বলা হয়। খ) টিল্ট আপ/ টিল্ট ডাউন : নিজের অক্ষ বরাবর ক্যামেরা নিচ থেকে উপরে উঠলে টিল্ট আপ এবং উপর থেকে নিচে নামলে টিল্ট ডাউন বলে। আমরা যেভাবে ঘাড় উচু করে আকাশ দেখি সেটাকে ক্যামেরা করলে টিল্ট আপ এবং আমরা যেভাবে ঘাড় নিচু করে মাটি দেখি সেটাকে ক্যামেরা করলে টিল্ট ডাউন বলি। ০২) ক্যামেরার স্থান পরিবর্তন: ক) ডলি শট : চাকা লাগানো প্লাটফর্মের উপর ক্যামেরা ও ক্যামেরাম্যানকে বসিয়ে সেই প্লাটফর্মকে চলন্ত করে শট নিলে সেই শটকে বলা হয় ডলি শট। খ) ট্রলি শট : কোন ট্রলির উপর ক্যামেরা ও ক্যামেরাম্যানকে বসিয়ে শট নেয়া হলে সেটাকে বলে ট্রলি শট। গ) ট্রাকিং শট : ডলি শট বা ট্রলি শট নেয়ার ক্ষেত্রে প্লাটফর্মের চাকার নিচে কোন লাইন থাকে না, কিন্তু ট্রাকিং শটের ক্ষেত্রে রেল লাইনের মতো ট্রাক বসানো হয়। সাধারণত কোন অমসৃণ স্থানে ক্যামেরা সঞ্চালনের জন্য ট্রাক ব্যবহার করা হয়। ঘ) ক্রেন শট : ক্রেনের উপর ক্যামেরা বসিয়ে শট নেয়া হলে তাকে ক্রেন শট বলে। অধুনা সকল টেলিভিশন প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে ক্রেন ব্যবহার না করে জিব আর্ম ব্যবহার করা হয়। ঙ) এরিয়াল শট : হেলিকপ্টার ব্যবহার করে যেই শট নেয়া হয় তাকে এরিয়াল শট বলে। ******************************************



Source link: Plz, click here to show
--------------------------------

Next 50 Records

Home Page