Home Page

Offer Id: 924
Company Name: Selltoearn.com
Contact No.: 01823660266
E-mail: selltoearn.com@gmail.com
Business Type: Career
Location: Anywhere in Bangladesh
Offer Title: ইন্টারভিউ বোর্ডে সফল হওয়ার অব্যর্থ কিছু টিপস:

Offer Details:

ইন্টারভিউ বোর্ডে সফল হওয়ার অব্যর্থ কিছু টিপস:

ইন্টারভিউ বোর্ডে সফল হওয়ার অব্যর্থ কিছু টিপস:

পৃথিবী পাল্টাচ্ছে, জনসংখ্যার বৃদ্ধি হচ্ছে, তার সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে শিক্ষিত বেকার ছেলে ও মেয়ের সংখ্যা। আর এই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মহামারী করোনা। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেকারত্ব বাড়লেও কিছু মানুষ কিন্তু ঠিকিই তাদের জায়গা তৈরী করে নেয়। তাহলে তারা কেন এগিয়ে? আপনি কেন পেছনে পরে রয়েছেন? কারণ খুঁজেছেন কখনও? খুঁজলে দেখবেন তারা আপনার চেয়ে এই জন্যে এগিয়ে কারণ তারা পড়াশুনার পাশাপাশি ভাইভাতে কিভাবে এগিয়ে থাকবে এই জন্যে আগে থেকেই প্রিপারেশন নিতে থাকে। যাইহোক যেকোন চাকরী পাওয়ার ক্ষেত্রে মুখোমুখি ভাইবা খুবিই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। সময়ের স্রোতে এই ভাইভা প্রক্রিয়া কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। তাই আপনাকে চাকরী প্রিপারেশন নেওয়ার সাথে সাথে ভাইভার জন্যেও তৈরী হতে হয়। এই ভাইভাতে ভালো করলে চাকরী পাওয়ার পসিবিলিটি যেমন বেড়ে যায় ঠিক তেমনি খারাপ করলে না পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। কারণ এই মুখোমুখি ইন্টারভিউতে নিয়োগকর্তা বা যে ইন্টারভিউ নিবেন তিনি আপনার ড্রেসআপ, হাটাচলা এর সাথে করে আপনার বাচনভঙ্গি, আইকিউ সবই দেখেন যাকিনা ওদের কম্পানির জন্যে খুবিই গুরুত্বপূর্ণ।

এখন ড্রেসআপ বা হাটাচলা আপনি শিখে নিলেন কারণ এগুলো এতো কঠিন বিষয় নয়। কিন্তু কি বলবেন সেটা? এর কি কোন সিলেবাস আছে? না সিলেবাস নেই কিন্তু সিলেবাস না থাকলে ভাইবা একটা প্যাটার্ন রয়েছে। শুধু প্রয়োজন ঠিকমত অনুশীলন।

তবে আপনি যথাযথ ভাবে রিসার্চ করেন তাহলে অবশ্যই আপনি ইন্টারভিউতে ভালো করতে পারবেন। আজকে এমনি অব্যর্থ কিছু টিপ্স নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের সামনে। নিম্নে আলোচনা করা হলো;

১. গবেষণা করুনঃ যেকোন বিষয়ে যথযথা জানাশুনা বা গবেষণা অগ্রিম করে নেওয়া ওই বিষয় আপনার কাছে যেমন করে সহজ করে দেয় তেমনি আপনার কনফিডেন্সও বাড়িয়ে দেয়। আপনার যখন ইন্টারভিউ কল আসে তখন আপনার ওই পোস্টের সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে যাবেন। যেমন ধরেন আপনার কল সেন্টার এক্সিকিউটিভের জন্যে চাকরীর ইন্টারভিউয়ের জন্যে কল আসল।

আপনি প্রথমেই এই পোস্টের রেসপন্সসিবিলি প্রথমেই ভালও করে জেনে যাবেন। যাতে করে ইন্টারবোর্ডের মানুষ প্রশ্ন করার সাথে সাথে আপনি উত্তর দিতে পারেন। তখন উনারা ভাববেন যে আপনি সেন্সিপল কাজের প্রতি নিষ্ঠা আছে আপনার। দ্বিতীয়ত যারা ইন্টারভিউ নিবে তাদের সম্পর্কে একটু ভালও ভাবে জেনে যাবেন। অনেক সময় দেখা যায় ইন্টারভিউ দিতে গেছে কিন্তু কম্পানির নামই ভালো করে জানে না, এটা আপনাকে চাকরী না পাওয়ার দিকে নিয়ে যাবে। কম্পানি উচ্চ পদস্থ মানুষ সম্পর্কে জানার একটা খুবিই ভালো মাধ্যম হচ্ছে বর্তমানে ওই কম্পানির ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইট ঘেটে আপনি সব ভালো আত্তস্থ করে নিবেন। ওই কম্পানি কি করে সমাজে? ওদের কাজ কি? কি কি পোডাক্ট রয়েছে? ইত্যাদি। ইন্টারভিউ শেষ হবার পর আপনি ওদের কম্পানি সম্পর্কে এমন ভাবে প্রশ্ন করবেন যেন আপনি ভালো করে রিসার্চ করে আসছেন এটা ওনারা বুঝতে পারেন। এতে করে আপনার চাকরী পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

২. আপনার কথা বলার দক্ষতা বৃদ্ধি করুনঃ যেকোন জিনিস যত বেশি অনুশীলন করবেন তত ভালো পারবেন আপনি। কথায় আছে, "প্র্যাকটিস মেকস অ্যা ম্যান পারফেক্ট"। ভালো করে রিসার্চ করার ফলে আপনি খুব সহজেই জেনে যাবেন আপনাকে কি প্রশ্ন করা হয়। সেই প্রশ্ন গুলো একটি লিস্ট তৈরী করুন। এছাড়াও ইউটিউব বা গুগলে সার্চ করলে আপনি এমন অনেক ভিডিও বা প্রশ্ন খুঁজে পাবেন। সেগুলো নোট করুন। সেই প্রশ্নের উত্তর গুলো খাতায় লিখে ভালো করে অনুশীলন করুন। যেমনঃ শুরুতেই হতে পারে ইনট্রুডিউস ইউরসেল্ফ। আপনি নিজের সম্পর্কে গল্পের ছলে মিষ্টি হাসি দিয়ে সুন্দর করে বলবেন, দেখবেন কথাতে যেন জড়তা না আসে। আপনাকে যখনই কোন প্রশ্ন করবে, এর উত্তর আপনি সাবলীল ভাবে দিন যেন উত্তর গুলো শুনতে মুখস্তের মত না শুনায়। নরমালি আমরা যেভাবে কথা বলি সেই ভাবে ধীরে ধীরে বলতে হবে। সেই জন্যে বন্ধুদের সাথে এই কমন প্রশ্নের কথাগুলো বলে বার বার প্যাক্টিস করবেন। যখন কোন কিছু পারেন বলবেন, তখন সেটা করেছেন এমন উদাহরণ দিয়ে বলবেন। যেমনঃ আমি ভালো উপস্থাপনা বা সুন্দর করে কথা বলতে পারি এটা না বলে বলবেন আমি ডিবেটর ছিলাম, ভার্সিটি থেকে ন্যাশনাল পর্যায়ে ডিবেট করেছি। বা এমনও হতে পারে ভার্সিটি বড় কোন অনুষ্ঠানে আপনি উপস্থাপিকা ছিলেন এমন কিছু। তাহলেএটা বেশি ইফেক্টিভ হয়। আর এতে করে আপনার চাকরী পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৩.রুচিশীল পোশাকের দিকে মনোযোগী হোনঃ সুন্দরের প্রতি আমাদের ভালো লাগা সৃষ্টির শুরু থেকেই। কথায় আছে, "আগে দর্শনধারী পরে গুণ বিচারি"। মানুষ কেমন বা তার রুচি কেমন তা পোশাক দেখেও জাজ করা হয়। ইন্টারভিউ বোর্ডে যারা থাকবেন তারা আপনার ফার্স্ট এপিয়ারেন্স দেখেই বুঝে ফেলবেন আপনাকে নেওয়া যাবে কি যাবে না। অনেক সময় এমনও হয় আপনি স্টুডেন্ট ভালো এবং ইন্টারবোর্ডে ইন্টারভিউ ভালো দিয়েছেন কিন্তু তারপরও সিলেক্ট হোন নি এর কারণ হতে পারে আপনার পোশাক। সচেতন মানুষ মাত্রই সে সকল বিষয়ের প্রতি মনোযোগি হবে। এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন আপনি কিভাবে যাবেন? ছেলেদের ক্ষেত্রে ফরমাল ড্রেস হলো শার্ট ও প্যান্ট এবং তার সাথে অবশ্যই জুতা মুজা, আপনি এমনি ক্যাজুয়াল জুতা পরে চলে গেলে রিজেক্ট হয়ে যাবেন। এখন আপনি যদি শার্ট এর পরিবর্তে টি শার্ট বা পাঞ্জাবি পরে চলে যান তাহলেও আনকোয়ালিফাইড হয়ে যাবেন। আর মেয়েরা শাড়ি বা থ্রি যেটা ইচ্ছা পরতে পারেন। তবে রং অবশ্যই রুচিশীল মানে হালকা কালারের হতে হবে। চোখে শুভনীয় এমন কিছু। লাল কিংবা দেখতে চটকা কালার ফর্মাল পোশাকে মধ্যে পরে না, এটা মেয়েদের জন্যেও একিই রকম। তবে আপনার পোশাক যেন সুন্দর করে আয়রন করা থাকে সেই দিকে লক্ষ্য রাখবেন, কুচকানো আলমারী থেকে মাত্র বের করা পোশাক পরে যাবেন না। আপনার শরীর বা মুখ থেকে যেন দুর্গন্ধ না বের হয়। সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় এমন অনেক ক্যান্ডিডেট থাকে যাদের শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার কারণে চাকরী থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাই আপনি এই ব্যাপারে সচেতন হোন। স্মার্টভাবে গেলে আপনার চাকরী পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৪.সময়নিষ্ঠ হোনঃ শুধুমাত্র চাকরী পরিক্ষা নয় জীবনের যেকোন কাজে সময় নিষ্ঠ হওয়াটা খুবিই প্রয়োজন। সময়ের অন্তত ৩০ কিংবা ১ ঘন্টা আগে আপনি পৌছে যাবেন। তাহলে সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ রেস্ট নিতে পারবেন এবং রিলাক্স হয়ে ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢুকতে পারবেন ফলে ইন্টারভিউও ভালো হবে। কিন্তু আপনি যদি সময় কম নিয়ে বের হোন এবং রাস্তার ট্রাফিকে পরে আপনার লেট হয়ে যায়, সেই ক্ষেত্রে আপনি নার্ভাস থাকবেন ফলে দেখা যাবে আপনার ইন্টারভিউ ভালো হবে না। সেক্ষেত্রে আপনার রিজেক্ট হবার সম্ভাবনা বেড়ে যান। আপনার আগে পৌছাতে হবে মনে রাখবেন ইন্টারভিউ বোর্ডের লোকের আপনার জন্যে অপেক্ষা করবেন না। সুতরাং প্রয়োজনের তাগিদে সচেতন হোন।

৫. কনফিডেন্স রাখুন তবে ওভার কনফিডেন্স নয়ঃ কনফিডেন্স থাকাটা খুবিই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। আপনাকে যখনই কোন প্রশ্ন করা হবে তখনই ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে সুন্দর করে গুছিয়ে বলবেন কিন্তু অবশ্যই খেয়াল কথাগুলো শুনতে যেন মুখস্তের মত না শুনায়। আর যদি না মনে থাকে তাহলে কিছু সময় নিয়ে বলবেন দুঃখিত এখন মনে করতে পারছি না কিন্তু বানিয়ে মিথ্যা বলবেন। আপনাকে যারা প্রশ্ন করবেন তারা অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানে আপনার চেয়ে বেশি পারদর্শী। তাই অবশ্যই উনাদের সামনে নিজের ওভার কনফিডেন্স দেখাতে যাবেন না। যখন আপনি ভুল কনফিডেন্স নিয়ে বলবেন সেটা নেগেটিভ মার্ক নিয়ে আসবে যা আপনার জন্যে কখনোই ভাল নয়। এছাড়াও যখনই আপনি রুমে ঢুকে হ্যান্ডসেক করবেন কিংবা চেয়ার টেনে বসবেন এগুলো খুবিই কনফিডেন্সের সাথে করুন। যাতে করে উনারা বুঝতে পারেন আপনি যথেষ্ট স্পার্ট। খেয়াল রাখবেন আপনার হাত যেন না কাঁপে। সাথে করে অবশ্যই টিস্যু রাখবেন যাতে করে ঘেমে গেলে মুছতে পারেন। আপনার হাত ঘামা কিংবা পোশাক ঘেমে গেলে আপনাকে দেখতে একটু অস্বাভাবিক লাগবে। এগুলো যদি আপনি ঠিকঠাক মত মেনে চলেন তাহলে আপনার চাকরী পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৬. স্বাভাবিক থাকুনঃ ইন্টারভিউতে আপনাকে যখনই কোন প্রশ্ন করবে তখন একটা হাসি দিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিবেন। অতিরিক্ত হেসে ফেলবেন না কিংবা আবার ভয়ে কেঁদে দিবেন না। নরমাল থাকুন। ইন্টারভিউকে আপনি একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন যাতে করে সেটা অতিক্রম করাটা আপনার জন্যে সহজ হয়ে যায়। এর জন্যে আয়নার সামনে কিংবা বন্ধুদের সাথে কমন প্রশ্নগুলো বারবার রিহার্সাল করুন ফলে আপনার জন্যে সেটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কথা বলার সময় হাত-পা অনেকে ছুড়াছুড়ি করেন কিংবা অনেক তাড়াহুড়া করেন। এই অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। আপনি এই নিয়ে ইউটিউবে অনেক ভিডিও আছে দেখতে পারেন।

৭. ধৈর্য্য রাখাঃ অনেক সময় ইন্টারভিউতে আপনাকে এমন প্রশ্ন করা হবে যেটা হয়ত আপনার সাবজেক্ট এর সাথে মিলবে না। কিন্তু আপনি ধৈর্য্য হারিয়ে বলবেন না এটা কেমন প্রশ্ন হলো, এটা তো আমার সাবজেক্টের সাথে মিলে না। অদরকারী প্রশ্ন এসব কিছু বলবেন না। যদি পারেন তাহলে সুন্দর করে উত্তর দিবেন আর না পারলে সরি বলবেন। অনেক সময় বস দেখতে চায় আপনি কারও আন্ডারে কাজ করলে কাজ করতে পারবেন কিনা, কারও কমান্ড আপনি শুনবেন কিনা। তাই আপনাকে অনেক অদ্ভুদ প্রশ্ন করে তারা আপনার ধৈর্য্য যাচাই করতে চায়। তাই এই সকল পরিস্থিতিতে ধৈর্য্য হারিয়ে নয়, বুদ্ধির সাথে ধৈর্য্য নিয়ে মোকাবেলা করতে হবে। তাহলে আপনার চাকরী হবে আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।

৮. ক্যারিশমাটিক হোনঃ মুখোমুখি ইন্টারভিউ একটা বড় সুযোগ আপনার সম্পর্কে ভালো ধারণা দেওয়ার। এই সময় আপনি নিজেকে এমনভাবে তুলে ধরবেন যাতে করে তারা আপনাকে দ্বিতীয়বার ডাকতে বাধ্য হয়। যেমনঃ আপনার ইন্টারভিউ সেলসে হলে আপনি ইন্টারভিউতে বলবেন আপনি যোগাযোগে খুবিই ভালো। ইংরেজী এবং বাংলা উভয় ভাষাতে আপনার দক্ষতা আছে। এবং কথাগুলো বলবেন খুবিই সুন্দর করে গুছিয়ে। এর ফলে উনাদের একটা ভালো দৃষ্টি তৈরী হবে আপনার প্রতি। তাই নিজেকে ভালো করে জানুন, আপনি কি পারেন? কিসে আপনি বাকী সবার চেয়ে এগিয়ে? এই সুবর্ণ সুযোগের ঠিকঠাক মত ব্যবহার করবেন। তাহলে ইন্টারভিউ হোল্ডারদের একটা পজিটিভ ইম্প্যাক্ট তৈরী হবে আপনার প্রতি। যাকিনা আপনার চাকরী পাবার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

৯. খেয় হারাবেন নাঃ অনেক সময় মানুষ ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢুকে নার্ভাস হয়ে যায়, সেই জন্যে ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢোকার আগে জোরে জোরে ১০ নিঃশ্বাস নিয়ে নিবেন, এতে করে আপনার প্রেশারও নরমাল থাকবে। আর এই নার্ভাসের ফলে দেখা যায় এমন অনেক কমন জিনিসও আছে যেগুল পারে কিন্তু অতিরিক্ত নার্ভাসনেসের কারণে বলতে পারে না। দুই ধরণের মানুষ ইন্টারভিউ বোর্ডে কিছু বলতে পারে না এক যারা একদমই কেয়ারলেস থাকে আর দুই যারা বেশি চিন্তা করে। তাই আপনি এদের মাঝামাঝি অবস্থান করবেন, বেশি চিন্তা কিংবা একে বারে কম চিন্তা আপনাকে আপনার গতি থেলে দূরে নিয়ে যাবে। ফলে আপনি কৌশলি হোন এবং বাজিমার করে দিয়ে আসবেন ভাইভা বোর্ডে। কিছু না পারলে বিনয়ের সাথে বলবেন স্যার এখন মনে করতে পারছি না, দুঃখিত। কিন্তু খেয় হারিয়ে ওল্টাপাল্টা বলবেন না। আর ভাইভা ঠিকঠাক মতো দিতে পারলে তো আপনার চাকরী কনফার্ম।

১০. আশাহত হবেন নাঃ অনেকে দেখা যায় অনেক ভাইবা দেয় কিন্তু কোন চাকরীই হয় না। যার ফলে উনি ভেঙ্গে পড়েন। ভাবেন উনাকে দিয়ে বোধহয় আর কিছুই হবে না। বেশি হতাশার ফলে উনি যখন অন্য কোন চাকরীর ইন্টারভিউ দিতে যায় তখন দেখা যায় পারা জিনিসও বলতে পারে না। কারণ তখন নিজের মধ্যে একটা না পারা বোধ চলে আসে। উনি ভাবেন উনাকে দিয়ে হয়ত আর কিছুই সম্ভব না। কিন্তু এরকম ভেবে আমাদের বর্তমানটাকে নষ্ট করা উচিত না। সময় সব সময় আমাদেরকে ভালো কিছু করা সুযোগ দেয়। আমাদের উচিত সেটার সৎ ব্যবহার করা। চাকরীর ইন্টারভিউতে যে কথাগুলো বলা উচিত নয়! চাকরীর বাজার দিনের পর অনেকটা নদীর মত প্রসারত হচ্ছে। নিয়োগ পদ্ধতি কঠিন হওয়ার কারণে চাকরী প্রার্থীদেরও নিজেকে প্রস্তুত করতে আপ টু ডেট পদ্ধতিতে। চাকরী পরীক্ষার কেন্দ্র পর্যন্ত যাওয়াই কঠিন।

কোন চাকরী প্রার্থী সেই নিয়োগ বোর্ড পর্যন্ত যেতে পারলেও অনেক সময় কিছু ছোট ছোট ভুলের জন্যে তার চাকরী হারিয়ে ফেলে। এমন অনেক কথা আছে যেটা কিনা একজন চাকরী প্রার্থী হিসেবে আপনার বলা উচিত নয়। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বস্তু ওই সকল শব্দ বা কথা যাকিনা একজন প্রার্থী বা ক্যান্ডিডেট হিসেবে আপনার কখনোই বলা উচিত নয়।

নিম্নে এমন বিষয় সমূহ দেওয়া হলো

১.'দুঃখিত আমার দেরি হয়ে গেছে জ্যামের কারণে'- অনেকেই ভাইভা বোর্ডে দেরি করে যায়। তারপর যখন কারণ জিজ্ঞেস করা হয় তখন বলেন যে সরি, রাস্তায় প্রচুর ট্রাফিক ছিলো। আপনি বলতে পারেন, স্যার ঢাকা শহর তো জ্যাম বেশি। কিন্তু আপনার মাথায় রাখা উচিত যারা আপনার ইন্টারভিউ নিচ্ছেন তারা এই জ্যাম ঠেলে কষ্ট করে রাস্তা পার হয়েই এসেছেন। এখন আপনি যখন এমন কারণ দেখাবেন তখন স্বভাবতই তারা আপনার উপর বিরক্ত হয়ে যাবেন। কারণ তারা তখন ধরেই নিবেন যে আপনার সময় জ্ঞান নেই, আপনাকে চাকরী দিলে আপনি অফিসেও দেরি করে আসবেন। সুতরাং এই অভ্যাস যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে ত্যাগ করা উচিত।

২. এক হাঁটুর উপর অন্য হাঁটু দিয়ে বসা; অনেক সময় অনেক চাকরীপ্রার্থী দেখা যায় ভাইভা বোর্ডে ঢুকে পায়ের উপর পা দিয়ে বসে থাকেন যাকিনা দেখতে অশালীন দেখায়। মনে রাখতে হবে যারা আপনার ভাইভা নিচ্ছেন তারা আপনার বস, সুতরাং তাদের সামনে কোন রকম বেয়াদবিই গ্রহণযোগ্য নয়। যখন আপনি তাদের সামনে ভদ্র আচরণ করবেন, তখনই উনারা বুঝতে পারবেন যে আপনি উনাদের কমান্ড মানবেন।

৩. প্রশ্নের বিপরীতে প্রশ্ন করা; অনেক সময় দেখা যায় চাকরী ভাইভাতে অনেক রকম প্রশ্নই করে থাকেন চাকরী প্রর্থীকে। যেগুলো অনেক সময় চাকরীর বিষয়ের সাথে মিলে না, তবে সেই ক্ষেত্রে আপনার উচিত দক্ষতা সাথে বিরক্ত না হয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। আর না পারলে সরি বলা। যেমনঃ আপনাকে জিজ্ঞেস করা হলো, মঙ্গোলিয়ার রাজধানী কোথায় আপনি এটা বলবেন না যে স্যার এটার সাথে চাকরীর কি সম্পর্ক? বরং বলবেন যে স্যার এই মুহূর্তে মনে পরছে না। কিন্তু উনাকে এই প্রশ্ন করা যাবে না যে, আপনি আমাকে অবান্তর প্রশ্ন কেন করছেন। কারণ উনারা আপনার মেধার সাথে সাথে ধৈর্য্যও পরীক্ষা করেন।

৪.ফোন বেজে ওঠাঃ ভাইভা বোর্ডে ঢুকার আগে অবশ্যই ফোন সাইলেন্ট করে রাখবেন। কারণ ভাইভা বোর্ডে আপনার ফোন বেজে ওঠলে সেটা অশোভন আচরণ দেখায়। আর আপনি যদি বলেন যে, স্যার একটু ফোনটা ধরবো। তাহলে উনারা বুঝবেন যে, আপনার দায়িত্ব জ্ঞান নেই। কাজের চেয়ে বেশি অন্যদিকে মনোযোগ। তখন উনারা নিশ্চয় এমন লোক চাইবেন না, যে কাজের চেয়ে বেশি ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

৫. আপনাদের বার্ষিক ছুটি কেমন হবে ও অসুস্থ কর্মীদের নীতিমালাটা কি?; আপনার কখনোই এই ধরণের প্রশ্ন করা উচিত নয় যখন উনারা আপনাকে জিজ্ঞেস করবেন যে, আপনার আমাদের অফিসের ব্যাপারে কোন জিজ্ঞাসা আছে কিনা। কারণ আপনি এই প্রশ্ন করলে উনারা বুঝে যাবেন যে, আপনি জয়েন করার আগেই ছুটি নিয়ে ভাবছেন। এতে আপনার কাজের প্রতি কম মনোযোগ প্রকাশ পায়। যেটা আপনি জয়েন করলেই জানতে পারবেন, সেটা আগে থেকে জানার দরকারটা কি?

৬. আপনি নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান ভবিষ্যৎ এঃ নিয়োগ কর্তা এমন প্রশ্ন করলে আপনি এটা বলবেন না যে, ভবিষ্যৎ এ আমি আপনাদের এখানেই থাকতে চায় কারণ এটা বললে বুঝা যায় যে, আপনি উনাদের কনভেন্স করানোর জন্যে বলছেন। বরং আপনি এটা বলবেন যে, আমি নিজেকে আমার দক্ষতায় যোগ্য কোন অবস্থানে দেখতে চায় যা কিনা পরিশ্রমের ফলে আমি অর্জন করবো।

৭.আগের চাকরী জঘন্য ছিলোঃ আপনি যদি আগে কোথাও জব করে থাকেন, আর আপনাকে জিজ্ঞেস করলো যে, আগের জব কেন ছাড়বেন তখন আপনি এটা বলবেন না যে সেখানে স্যালারি ভালো না, ম্যানেজমেন্ট ভালও, বস ভালো ছিলো না ইত্যাদি। মোটকথা বদনাম বলাটা অপেশাদার লাগে, এতে করে ওরা ভাববে আপনি আনপ্রফেশনাল। সুতরাং এই রকম প্রশ্নের উত্তর ভদ্রতার সাথে দিবেন।

৮. প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অজ্ঞতাঃ অনেক সময় দেখা যায় যে, ভাইভা বোর্ডে প্রার্থীকে প্রতিষ্ঠানের নাম জিজ্ঞেস করলে বলতে পারেন না। কারণ উনি ভাল করে খেয়ালই করেন না, চলে যান ইন্টারভিউ দিতে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের এমডি বা আরও যারা গুরুত্বপূর্ণ মানুষ আছেন তাদের নাম আপনার জেনে যাওয়া উচিত। যখন প্রশ্ন করবে তখন বলবেন যে, আপনাদের ওয়েবসাইট ঘেটে টুকটাক জেনেছি। কিছু প্রশ্ন না পারাটা ঠিক আছে কিন্তু একেবারেই না পারা দায়িত্বজ্ঞানহীন দেখায়।

৯. নিজের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়াঃ আপনাকে নিজের সম্পর্কে বলতে বললে আপনি ধরেই নিবেন না যে, উনারা আপনার সিভি দেখেছেন আপনি আর কি বলবেন। বরং আপনার উচিত নিজের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া কারণ অনেক ক্যান্ডিডেটের ভিতরে আপনার সিভি উনারা খেয়াল করে নাই দেখতে পারেন। তাই নিজের যোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তুলুন যেন বাদ না পড়ে যায়। সিভির বাহিরেও যদি কোন ভালও যোগ্যতা থাকে তাহলে সেগুলোও ফুটিয়ে তুলুন।

১০. এখানে চাকরী পেলে কোন দিকটা আপনার সবচেয়ে বেশি ভালও লাগবে; এমন প্রশ্নের জবাবে কখনই বলবেন না যে, আপনাদের স্যালারি, বার্ষিক ছুটি এগুলো আমার ভাল লাগবে। কারণ অবশ্যই উনারা আপনার কাছ থেকে আরও বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন আশা করেন। আপনার উচিত নিজের স্পার্টনেছ সেখানে দেখানো।

১১. নিজের নেতৃত্বের ভালও গুণ বলুনঃ এক্ষেত্রে এটা বলবেন না যে এখানে চাকরী পেলে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবো বরং বলুন আপনি কোন কোন ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভালও। আপনার কোন লিডিং অভিজ্ঞতা থাকলে সেটা শেয়ার করুন। আগে কোথাও লিড দিয়ে থাকলে সেটা বলুন।

এমন হাজারো বিষয় থাকে যেগুলো নরমাল সেন্সের মধ্যে পড়ে। সেগুলো সম্পর্কে আপনার অবশ্যই সচেতন থাকা উচিত। পড়াশুনার পাশাপাশি বাহিরের জগৎ এর জ্ঞানও আপনার রাখতে হবে। ভাল কিছু পাওয়ার জন্যে জীবনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, আপনিও তার ব্যতিক্রম নন। আর পরিশ্রমে সফলতা আসবেই, ইন শা আল্লাহ।

পরিশেষে,

ছোট ছোট অনেক ভুলের কারণে আমাদের চাকরী অনেক সময় হয় না। আমরা হয়ত বুঝতে পারি না সেটা, বা বুঝতে পারলে তখন আর কিছু করার থাকে না। তাই আমাদের উচিত সেগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা। উপরের সবকিছুর পাশাপাশি আমাদের অবশ্যই ভদ্র আচরণ করা উচিত, আমাদের কথা বার্তাই যেন বেয়াদবি ভাব না আসে সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত। নিজেকে বার বার ঘষামাজা করে চাকরী ভাইভা নামক যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত করতে হবে। মেধা, বুদ্ধি, আচার-আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ ও সুন্দর কথাবার্তা সবকিছুর সংমিশ্রণে একটা ভালো জব পাওয়া যায়। তাই আপনার উচিত এগুলো প্রতি মনোযোগী হওয়া তাহলেই আপনি ভালো একটা জব পাবেন, ইন শা আল্লাহ।


Offer Source: Plz, click here to show


মিডিয়া এসটিএন**** info@selltoearn.com***

মিডিয়া এসটিএন

Kaliakair, Gazipur, Dhaka, Bangladesh.
https://www.selltoearn.com

প্রধান উপদেষ্টা সম্পাদক: Selltoearn.com

E-mail:selltoearnmoney@gmail.com

উপদেষ্টা সম্পাদক: Selltoearn.com

কারিগরি সহযোগীতায় :
হেমাস আইটি http://www.selltoearn.com

E-mail: info@selltoearn.com

মিডিয়া এসটিএন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার মিডিয়া এসটিএন