Home Page

Offer Id: 918
Company Name: Selltoearn.com & Urnisha Jaman Mohona
Contact No.: 01823660266
E-mail: selltoearn.com@gmail.com
Business Type: Education/Training
Location: Anywhere in Bangladesh
Offer Title: পর্দানশীল নারী | কর্ম ক্ষেত্রে পর্দানশীল নারীর বৈষম্য ||

Offer Details:

পর্দানশীল নারী | কর্ম ক্ষেত্রে পর্দানশীল নারীর বৈষম্য ||

পর্দানশীল নারী | কর্ম ক্ষেত্রে পর্দানশীল নারীর বৈষম্য ||

প্রথমেই সকলের কাছ থেকে ক্ষমা ও সালাম নিয়ে নিচ্ছি এই জন্য যে, নিচের লেখায় যদি কারও মনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এই আর্টিকেলটি পড়ার সময়। যদিও আর্টিকেলটির উদ্দেশ্য হল সামাজিক ও অথনৈতিক সচেতনতা।

শুরুর কথা:

যার যার ধর্ম তার তার কাছে বড়। পৃথিবীতে শীর্ষ কয়েক ধরনের ধর্ম রয়েছে যেমন: ইসলাম, খ্রিষ্ঠান, হিন্দু, ইহুদী, বোদ্ধ ইত্যাদি। আল্লাহর নিকট হতে প্রাপ্ত ১০৪ খানা আসমানি কিতাবের মধ্যে বড় চার খানা কিতাব হল তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও সর্বশেষ চুড়ান্ত আসমানি কিতাব হল কোরআন শরীফ। আর পবিত্র কোরআন শরীফ নাজিল হয় আমাদের প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম এর উপর। আর এই কোরআন শরীফ নাজীল হয়েছে সমগ্র মানব জাতীর জন্য এবং সকল ধর্মালম্বিদের জন্য যার কথা কোরানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।আর কোরআন ও মহানবী হযরত (সাঃ) এর হাদীসের অনুসারীদের বলা হয় মুসলিম। যে সলক ব্যক্তি এটা মনে প্রানে বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং হযরত মুহাম্দদ (সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত রাসুল তারা হলেন মুসলিম।আর একজন সংসম্পূর্ণ মুসলিমের দায়িত্ব ও কর্তব্য হল আল্লাহর নাজিলকৃত প্রবিত্র কোরআন এবং নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর হাদীসের অনুসারে তার সমগ্র জীবন জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অতিবাহিত করা।

পৃথিবীর জীবন হল ক্ষণস্থায়ী আর আখিরাতে জীবন হল অসীম ও অনন্ত। পৃথিবীর জীবন হল আখিরাতের জন্য একটি পরীক্ষা। তাই এই জীবনে কোরআন ও হাদীসের আলোকে জীবন যাপন করা আমাদের সকলের জন্য বাধ্যতামূলক।আমাদের ৫ ওয়াক্ত নামা পড়া বাধ্যতামূলক যা না পড়লে গুনা হবে। আর এই গুনার জন্য অনন্ত কাল দোযখের আগুনে পুড়তে হবে। এটা যেনেও আমরা নামাজ কাজা করে থাকি। এছাড়াও আমরা মনে অজান্তে, জেনে না জেনে অথবা অবচেতনেও অনেক পাপ কাজ করে থাকি। যেমন: ইসলামিক নিয়ম অনুসারে পুরুষদের দারি রাখতে হবে এটি নবীজির সুন্নত যা তিনি করতে বলে গিয়েছেন। পায়ের টাকনার ওপরে কাপড় রাখতে হবে (পুরুষদের)। মহিলাদের পর্দানশীল হতে হবে। অর্থাৎ তাদের লজ্জাস্থানের সুষ্ঠু হেফাজত করতে হবে। সুদ, ঘোষ, হারাম খাবার খাওয়া যাবে না। অন্যায়ভাবে কারও উপর জুলুম করা যাবে না।

বাংলাদেশ নয় শুধুমাত্র পৃথিবীতে এমনও অনেক স্থান রয়েছে যেখানে যদি পুরুষদের দারি রাখতে দেয়া না হয় কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানে তবে এই সকল বলিষ্ঠ পুরুষগণ সেই কোম্পানিতে চাকুরিতো দূরের কথা সেই কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের ধারের কাছেও ভিরে না। আবার দেশে কিছু কিছু বাধ্যতামূলক প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে নিয়মিত ক্লিন শেভ দিতে হয়। এটা তাদের অফিসিয়াল পলিসি হতে পার। কিন্ত আমার কথা হল যে কাজের জন্য আমাকে পরকালে শাস্তি পেতে হবে সেই কাজ আমি কখনই করবো না। এমনকি যদি দিন মজুরের কাজও যদি হয় তাই করবো তবুও ইসলামের দেখানো পথ ব্যাতিত অন্য কোন পথের নিকট নিজের ব্যক্তিত্বকে বিসর্জন দেব না।

ঠিক তেমনি যদি এমন হয় মহিলাদের পর্দানশীল না হয়ে পশ্চিমা কালচার ফলো করে কাস্টমার আকর্ষণের জন্য পর্দাহীনভাবে কাজ করতে আমি মনে করি মুসলিম হয়ে ঐ সলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করারই প্রয়োজন নেই। নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত, পর্দানশীলতা, সুন্নতি লেবাজে যে সকল প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী যদি বাধা বিপত্তির কারণ হয়ে দাড়ায় তবে বুঝতে হবে ইহকালে ক্ষণিকের সুখ পাবেন কিন্ত পরকালে অনন্ত সময় কাটাতে হবে দোযখের যন্ত্রণাকে সাথী করে। আরও একটু বলছি যে শুধু বাংলাদেশ নয় সমগ্র পৃথিবীতে সকল প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিই খারাপ নয়। এর মধ্যে ভাল কোম্পানিও রয়েছে যেখানে ইসলামের সম্পূর্ণ বিধি বিধান অনুসারে সকল কার্য পরিচালনা করা হয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন যদি অন্যায় দেখ হবে হাত দ্বারা তার প্রতিবাদ কর; যদি তা না পার তবে মুখ দ্বার থামানোর চেষ্টা করা আর যদি তাও না পার সেখান থেকে সরে গিয়ে তার প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন কর। এই কথার মানে হল আপনি যদি চাকুরীপ্রার্থী হন আর পুরো কোম্পানির অন্যায়ের প্রতিবাদ যদি আপনি না করতে পারেন তবে অন্তত তার প্রতি মনে মনে নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং তার কাছ থেকে নিজেকে সড়িয়ে নিন।

এবার আসা যাক একটি মুসলিম দেশ হয়েও বাংলাদেশে কর্পোরেটে নারীদের পর্দানশীলতার ক্ষেত্রে কেমন বৈষম্যের স্বীকার হতে হয় ??

বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ । এখানে বসবাস করেন অনেক ধর্মের মানুষ যার মধ্যে ৯০ শতাংশ মানুষই মুসলিম। সেই সুবাধে এই দেশে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য যতটা সম্ভব সফলতার উচ্চ স্থানে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সব রকম সুযোগ সুবিধা দেওয়াটাই কাম্য। কিন্তু সেই তুলনায় কয়েকটা পেশা ছাড়া পর্দানশীল নারীরা তেমন কোনো সুযোগ পাচ্ছে না। এটি একটি মুসলিম দেশ হওয়া সত্বেও এখানে পর্দানশীল নারীদের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টি সবার মুখের কথার মধ্যেই শুধু বিদ্যমান থাকে। প্রফেশনাল জীবনে কয়েকটা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশ কর্পোরেটে পর্দানশীল নারীদের তুচ্ছ মনে করে। কারন তাদের জন্য পর্দার মধ্যে থাকা নারীরা সেকেলে, কোনো স্মার্টনেস বা পারসোনালিটি পর্দানশীল নারীদের মধ্যে নেই। এসব ধারনাই মূলত পোষন করে থাকেন। তবে দিনশেষে তাদেরই ঘরের মা, বোন, স্ত্রীদের পর্দানশীল হওয়ার উপদেশ দেন।

কিভাবে পর্দানশীল নারীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ??

আমাদের সমাজে সবাই যার যার নিজ ধর্ম, সংস্কৃতি, আচার-অনুষ্ঠানের সহিত জীবন যাপন করছে। কিন্তু এসব কিছুর মধ্যে বঞ্চিত হচ্ছে পর্দানশীল নারীরা। তাদের জন্য বর্ধিত রয়েছে মাদরাসায় শিক্ষকতা, বাসায় টিউশনি করা, বাসায় বসে সেলাইয়ের কাজ করা তালিম দেওয়া, যা খুবই সীমিত। তাদের উপার্জনের স্থান এটুকুর মধ্যেই কেন বিদ্যমান থাকবে। তাদের কাছে উচ্চ পদে যাওয়ার মতো যোগ্যতা, সার্টিফিকেট থাকা সত্বেও কোনো পর্দানশীল নারীদের সেল্স ডিপার্টমেন্টে নিয়োগ দেওয়া হয়না, মার্কেটিং প্রসেস এর যেকোনো কাজই পর্দানশীল নারীদের দিয়ে করানো হয় না, ব্যবসায় সংক্রান্ত কোনো মিটিং বা কনফারেন্স কক্ষে পর্দার সহিত কোনো প্রেজেন্টেশন করতে দেওয়া হয়না। কোনো কর্পোরেট ফাংশন, পার্টী বা অনুষ্ঠানে তাদেরকে ব্যবসায় সম্পর্কিত বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয় না।

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান গুলো কিভাবে চাকুরি প্রত্যাশিত পর্দানশীল নারীদের অবহেলা করে ??

যারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান গুলো সম্পর্কে ধারনা রেখেছে তাদের মধ্যে কম বেশি সবাই জানে যে অফিসিয়াল কোনো কাজে পর্দানশীল নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয় না। তাদের নিয়োগ পত্রের মধ্যে উল্লেখ করা থাকে যে সুন্দর, স্মার্ট, ফরমাল ড্রেস যেমন.. প্যান্ট, শার্ট, কোর্ট পরিধানে অভ্যস্থ, নিজেকে ক্লায়েন্টদের সম্মুখে উপস্থাপন করতে পারবে এমন কেউ আগ্রহী থাকলে চাকুরিতে আবেদন করতে পারবে। তবে সব প্রতিষ্ঠানে ফরমাল ড্রেসের কথা উল্লেখ না থাকলেও পর্দানশীল নারী বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানই নিয়োগ দেন না। কারন বাংলাদেশের ৯৯ - ১০০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পর্দানশীল নারীদের নিয়োগ দেওয়ার মতো মন-মানসিকতা নেই আর কখনও তৈরিও হয়নি। তবে বোঝার অপেক্ষা রাখে না যে বাংলাদেশের মানুষরা ইসলাম ধর্মের সংস্কৃতি, নীতির বিরুদ্ধে। অবহেলা করা হয় গোটা মুসলিম জাতিকে, মুসলমান নারীদেরকে, যে সমাজ মুসলিমদের সাধুবাদ জানায় তাদের আদব-কায়দার, এবং

নারীদের পর্দার সহিত জীবন যাপন করার জ্ঞান দেন। সেই সমাজই অফিসিয়াল কাজে মেয়েদের প্যান্ট, শার্ট পরায় বেপর্দা হতে বাধ্য করে। অর্থ উপার্জনের তাগিদে মেয়েরা বেপর্দা হয়ে কাজতো করে কিন্তু নাছোড়বান্দা সমাজ সেই নারীদের চাল-চলনে দোষ দেখায়। বেপর্দা হওয়ার কারন খোঁজে। কতটা জটিল আমাদের সমাজ ব্যবস্থা পর্দানশীল নারীদের প্রতি। আর যদি প্রতিষ্ঠান গুলোতে প্রশ্ন করা হয় যে কেনো পর্দানশীল নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয় না, তখন তাদের কাছে থেকে শুনতে হয় যে, কাস্টোমার বা ক্লায়েন্টদের সামনে নিজেকে উপস্থাপন না করতে পারলে তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আকর্ষীত হয় না। ফলে যে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা ক্লায়েন্টদের আকর্ষন করতে পারে তারা লাভবান হয়। এমনকি বিদেশ থেকে কোনো ভিসিটর আসলে তাদের মতো করে উপস্থাপন না হলে বিভিন্ন প্রযেক্ট ব্যবসায়ীক ডিল অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যায়। এসব প্রশ্নের সমাধানকল্পে উত্তর.. যা সম্পূর্ন ভুল একটি ধারনা।

বাংলাদেশের (মুসলিম দেশের) প্রতিষ্ঠান হয়ে কেন বিদেশি কালচার অনুসরন করতে হবে?? বিদেশে যারা বসবাস করেন তারা কি কখনো অন্যদের কালচার অনুসরণ করার মাধ্যমে সফলতা অর্জন করে... একেবারেই নয়। বরং সবাই নিজের দেশের সর্বচ্চোটাকে তুলে ধরার চেষ্ঠা করে। ক্লায়েন্ট বা কাস্টোমার দের যদি আকর্ষণ করাতে হয় তাহলে প্রতিষ্কানের পন্যকে আকর্ষীত করা উচিত। মানুষদের বা মানুষের পরিধানকৃত পোষাককে নয়। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান গুলোতে কি পর্দানশীল পরিবারের সদস্যরা পন্য ক্রয় করতে যান না ??

যদি পর্দানশীল পরিবারের সদস্যদের কাছে পন্য বিক্রয় করতে সমস্যা না থাকে তাহলে যে কর্মচারী পন্য বিক্রয় করবে সে কেন পর্দানশীল হতে পারবে না ?? কি পরিধান করে আছে সেটা বড় বিষয় নয় আপনার পন্য কেমন, কি নিয়ে আপনি ব্যবসায় করছেন, পন্যের মান উন্নত কি না সেটাই প্রকৃত আকর্ষন ।

পর্দানশীল নারীদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কি কি বিষয় বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে ??

আমাদের দেশ, সমাজ, সমাজ ব্যবস্থা, নিয়ম-নীতি এবং যারা এসব নিয়ম-নীতি তৈরি করেছেন তারাই পর্দানশীল নারীদের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি করছে। যদিও পর্দানশীল নারীদের বিরুদ্ধে সবার মতামত একরকম নয়। তবে বিভিন্ন স্থানে এর প্রচুর বিরোধিতা রয়েছে। আর তার সবচেয়ে বড় উদাহারন হচ্ছে... বড় বড় কিছু প্রতিষ্ঠান, প্রফেসনাল জায়গায়, অফিসিয়াল কার্যকলাপে, বিভিন্ন ব্যবসায়ে, শীর্ষে স্থান নেওয়া কিছু কোম্পানিতে। এসব স্থানে প্রাধান্য পায় বিদেশি সংস্কৃতি ধারনকৃত ব্যক্তিরা। তাদের পরিধানকৃত ফরমাল..

প্যান্ট, শার্ট, কোর্ট ইত্যাদি। যেখানে ইসলাম ধর্মের সংস্কৃতিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত সেখানে রয়েছে অবহেলা। অপরদিকে বাংলাদেশের মতোই এমন অনেক মুসলিম দেশ রয়েছে যারা ইসলাম ধর্মের সংস্কৃতিকে অনুসরন করেই বিভিন্ন কর্মকান্ডে সফলতা অর্জন করছে যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পর্দানশীল নারীরা। পর্দার মধ্যে থেকে তারা অফিসে যাচ্ছে, অফিসিয়াল কাজ কর্মে নিজেদের যুক্ত রাখছে কিন্তু ইসলামিক শিক্ষার সীমার মধ্যে থেকে। অন্যান্য মুসলিম দেশের নারীদের যদি এমন সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে বাংলাদেশর পর্দানশীল নারীদের জন্য এই সুযোগ দেওয়া হবে না কেন। অন্যান্য দেশে যদি মুসলিমদের সংস্কৃতিকে ধরে রেখে পর্দানশীল নারীদের সাবলম্বী হওয়ার সুযোগ থাকে। তাহলে বাংলাদেশে এমন সুযোগ প্রতিটা পর্দানশীল নারীদের জন্য দেওয়া উচিত। অন্য দেশের সংস্কৃতিকে ধরে রেখে কি হবে যদি নিজের দেশের সংস্কৃতিকে সম্মানের সহিত অন্য দেশের কাছে উপস্থাপন না করা যায়। প্রতিটা দেশের ভিন্নতার যেমন কিছু নির্দিষ্ট চিহ্ন বা প্রতীক থাকে ঠিক তেমনি সংস্কৃতির ভিন্নতা বোঝার সুবিধার্থে ভিন্ন ও নতুনত্ব কিছু পদক্ষেপ বাংলাদেশকে নতুন রুপে উপস্থাপন করবে।

কেন পর্দানশীল নারীদের সুযোগ দেওয়া উচিত ???

বাংলাদেশের এমন অনেক পরিবার রয়েছে যেই পরিবারে কোনো পুরুষ উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই এমনকি পরিবারের মহিলা সদস্যরাও পর্দানশীল। সেক্ষেত্রে তাদের বাহিরে বের হয়ে উপার্জন করা ছাড়া কোনো উপায় থাকেনা। তারা যখন কোনো চাকুরির খোঁজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাজ চায় তখন তাদের কোনো কাজ দেওয়া হয় না। আর যদিও কাজ দেওয়া হয় সেগুলো হয় : পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ, জিনিসপত্র ধোয়ার কাজ, ইত্যাদি এসব কাজ করে পরিবারের খরচ চালানো দুঃসাধ্য হয়ে পরে। এমন অনেক পর্দানশীল নারীরা আছেন যারা রাস্তায় মানুষের ধারে ভিক্ষে করে যা আমরা সচরাচর দেখে থাকি। তাই তাদের ভালো ও সুস্থ জীবন যাপন করার সুবিধার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করার সুযোগ দেওয়া অতীব জরুরি। যখন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পরিবারের পর্দানশীল নারীরা নিয়োগ প্রাপ্ত হবে তখন অনায়াসে দেশের দারিদ্রতা হ্রাস পাবে।

যদি পর্দানশীল নারীদের চাকুরি দেওয়া হয় তাহলে কী তারা অন্যান্য নারী ও পুরুষদের সাথে সাচ্ছ্যন্দে কাজ করতে পারবে ??

পর্দানশীল নারীরা যদি সমাজে বসবাসরত প্রতিটি মানুষের সাথে বসবাস করতে পারে, নিজেদের সংযত রেখে জীবন বৃত্তান্ত প্রতিটি পদক্ষেপ অতিক্রম করতে পারে। তাহলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার তারনা তাদেরকে কাজ করতে আগ্রহী করে তুলবে, এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার তাগিদ ও ইচ্ছা শক্তি তাদের মধ্যে বিরাজমান থাকলে অবশ্যই যেকোনো পরিবেশে পরিস্থিতিকে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে সাচ্ছ্যন্দে কাজ করতে পারবে।

পর্দানশীল নারীরা কী অফিসিয়াল যেকোনো কাজ করতে সক্ষম ??

নারীরা যদি পরিবার, সংসারের পাশাপাশি চাকুরি করতে পারে। তাহলে তারা অবশ্যই পর্দানশীল অবস্থায় অফিসিয়াল যেকোনো কাজ করতে পারবে যদি তাদের মধ্যে কাজটি করার জন্য দৃঢ় মনোবল থাকে। পর্দানশীল নারীরা অন্যান্য নারীদের মতোই। অন্যান্য নারী ও পর্দানশীল নারীদের মধ্যে পার্থক্য শুধু পোষাকে। তাই পর্দাহীন নারীরা যেভাবে কাজ করতে পারে। পর্দানশীল নারীরাও ঠিক সেভাবেই কাজ করতে পারবে যদি তারা সুযোগ পায়। কারণ অফিসিয়াল কাজ গুলো করার জন্য যা যা প্রয়োজন যেমন : প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, দ্রুত কাজ বোঝা ও করার মতো ক্ষমতা, কাজটাকে ভালো ভাবে উপস্থাপন করা, প্রয়োজনে কাজের গতি বারানো, যত বেশি সম্ভব কাজ সম্পর্কে ধারনা বৃদ্ধি করা, কম্পিউটার সম্পর্কে অভিজ্ঞ থাকা ইত্যাদি এসবই অফিসিয়াল কাজ করতে সাহায্য করে যা চাইলেই পর্দানশীল নারীরা করতে পারে।

পর্দানশীল নারীদের মেধাকে বিকশিত করার জন্য কি করণীয়??

❏ অন্যান্য নারীদের মতো পর্দানশীল নারীদেরও বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গুলোতে চাকুরি প্রদান করা।
❏ শোরুমে অন্যান্য কর্মীদের মতোই প্রাধান্য দেওয়া
❏ চাকুরি দেওয়া হলে পর্দাহীন হতে বাধ্য না করা।
❏ প্রয়োজন হলে চাকুরিরত সকল মুসলিম নারীদের জন্য ফরমাল ড্রেস কোড হিসেবে বোরখা, হিজাব, নেকাব প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি করে দেওয়া।
❏ যদি যোগ্যতা থাকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্ম বিষয়ক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া।
❏ সম্মানের সহিত তাদের সম্বোধন করা।

বাংলাদেশে পর্দানশীল নারীদের যদি তাদের মেধাকে বিকশিত করার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে কী অর্থায়নে বা দারিদ্রতায় কোনো পরিবর্তন আসতে পারে ??

অবশ্যই পর্দানশীল নারীদের মেধা বিকশিত করার সুযোগ দেওয়া হলে বাংলাদেশের দারিদ্রতা অনেকটা কমে আসবে। কারন এমন অনেক পরিবার আছে যেখানে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মৃত্যুবরন করেছেন, অনেকে অসুস্থতায় শয্যায়ীত অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন, অনেকের পরিবারে বৃদ্ধ বাবা মার ভরোনপোষনের দায়িত্ব তার পর্দানশীল মেয়ের উপর। সে অবস্থায় মাদরাসায় শিক্ষকতা, বাসা বাড়িতে টিউশনি, সেলাইয়ের কাজ করে কতটুকুই বা উপার্জন করা যায়। সেক্ষেত্রে যদি পর্দানশীল
মেয়েরা তাদের যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে কোনো অফিসিয়াল কাজে, সেল্স ডিপার্টমেন্টে, রিসিপশনিস্টে, বড় বড় ব্যবসায়ীক প্রতিষ্টানে, নাম করা কোম্পানীতে পর্দার সহিত কাজ করার সুযোগ পায় তাহলে তারা সাবলম্বী হয়ে উঠবে। পর্দানশীল হওয়ার জন্য চাকুরি না পাওয়া অবস্থা থেকে যখন তারা মুক্তি পাবে তখন তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে তারা আপ্রান চেষ্টা করবে তাদের দরিদ্র অবস্থা থেকে উন্নতির দিকে এগিয়ে যেতে।

❏ ফলে অন্য কারো উপর তাদের নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না।
❏ কেউ তাদের তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য বা অবহেলা করবে না।
❏ তাদের প্রতি মানুষের ব্যবহার, মন্দ দৃষ্টিভঙ্গি, খারাপ মন-মানসিকতা পরিবর্তন হবে।
❏ দেশের মানুষের চিন্তা-ভাবনা উন্নত হবে সেই সাথে দেশেরও উন্নতি সাধন হবে। ❏ অর্থায়নে পরিবর্তন আসবে, দেশের আয় বৃদ্ধি পাবে। পর্দানশীল নারীদের মধ্যে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান থাকে তাই তারা যেকোনো কাজ করলে সেখানে মানবিকতা, মূল্যবোধ, সততা, সৎ ইচ্ছা, প্রবল চেষ্টা বিদ্যমান রেখে যেকোনো কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে। যদিও এটা সবার ক্ষেত্রে নয় কেননা সব পর্দানশীল নারীদের চিন্তা-ভাবনা এক রকম হয়না। যেমনটা অন্যান্য যেকোনো ব্যক্তি একে অন্যের থেকে ভিন্ন ও

ভিন্ন চিন্তা ও মন-মানসিকতার অধিকারী। সেক্ষেত্রে আমাদের উচিত মন্দ চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, খারাপ আচরন নিজে থেকে পরিবর্তন করা। একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা ও বিশ্বাস স্থাপন করা। দেশের প্রতিটা মানুষ একে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসবে, দেশের মানুষের হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাবে, সেই দিন বাংলাদেশ সহ বাংলাদেশের মানুষরাও প্রকৃত অর্থে ডিজিটাল হবে। এমনকি দারিদ্রতাও হ্রাস পাবে।

উপসংহার...

আমরা বাংলাদেশের মানুষরা যদি চেষ্টা করি দেশের উন্নয়নের জন্য পর্দানশীল নারীদের কর্মস্থলে নিয়ে আসার কর্মক্ষেত্রে তাদের পাশে দারানোর, তাহলে খুব সহজেই বাংলাদেশের দারিদ্রতা হ্রাস পাবে। এমনকি যেকোনো প্রতিষ্ঠান চাইলেই পর্দানশীল নারীদের জীবন যাপন সহজ করার ক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত করে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে। পর্দানশীল
নারীদের জন্য হিজাব, নেকাব, বোরখাই হতে পারে সবচেয়ে সুন্দর, মার্জিত, ফরমাল ড্রেস। ফলে বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের সহযোগিতায় দেশটি ক্রমশ নতুনত্বের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে। পরিধানকৃত পোষাক নয় মেধাই হোক প্রকৃত লক্ষ্য যার মধ্যে থাকবে না কোনো ভেদাভেদ। সবাই সমান অধিকারের সাথে আপন করে নিবে দেশের সকল সংস্কৃতিকে । প্রাধান্য দেওয়া হবে সকল অবহেলিত ব্যক্তিদের। কেউ আর অনাহারে অন্যের উপর নির্ভর করে দিন অতিবাহিত করবে না।


Offer Source: Plz, click here to show


মিডিয়া এসটিএন**** info@selltoearn.com***

মিডিয়া এসটিএন

Kaliakair, Gazipur, Dhaka, Bangladesh.
https://www.selltoearn.com

প্রধান উপদেষ্টা সম্পাদক: Selltoearn.com

E-mail:selltoearnmoney@gmail.com

উপদেষ্টা সম্পাদক: Selltoearn.com

কারিগরি সহযোগীতায় :
হেমাস আইটি http://www.selltoearn.com

E-mail: info@selltoearn.com

মিডিয়া এসটিএন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার মিডিয়া এসটিএন