Home Page

Selltoearn.com Latest Offer
Offer Id: 927
Company Name: Saad Information Technology
Contact No.: 01841902292
E-mail: globalitkg@gmail.com
Business Type: IT/Telecommunication
Location: GAZIPUR
Offer Title: Computer, Mobile and Office Equipment Sale (Retail & Wholesale)

Offer Details: Computer, Mobile and Office Equipment Sale (Retail & Wholesale)
Location: Hall Market, Level - 1 & 2, Kaliakair, Gazipur
Website: saaditbd.com
Offer Source: Plz, click here to show
Offer Id: 926
Company Name: হাবিব আইটি এন্ড ইংলিশ সলিউশন সেন্টার
Contact No.: 01823660266 / 01920325316
E-mail: selltoearn.com@gmail.com
Business Type: Education/Training
Location: GAZIPUR
Offer Title: হাবিব আইটি এন্ড ইংলিশ সলিউশন সেন্টারে ...ভর্তি চলছে !................. ভর্তি চলছে !!............ ভর্তি চলছে !!!

Offer Details: ভর্তি চলছে !.............. ভর্তি চলছে !!................. ভর্তি চলছে !!!

হাবিব আইটি এন্ড ইংলিশ সলিউশন সেন্টার

সাহেব বাজার, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
মোবাইল নং - 01823660266/01920325316
কোর্স ফিচার:
1. স্পোকেন ইংলিশ এন্ড জেনারেল ইংলিশ (সকল শ্রেণী)
2. মাইক্রোসফ্ট অফিস এন্ড কম্পিউটার ফান্ডামেন্টালস্
3. গ্রাফিক ডিজাইন এন্ড ওয়েব ডিজাইন
4. এসইও, ফ্রিল্যান্সিং এন্ড আউটসোর্সিং
5. ভিডিও এডিটিং, এনিমেশন এন্ড মাল্টিমিডিয়া
6. ক্যাডেট কোচিং, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং ও চাকুরীর কোচিং
7. অটো ক্যাড 2ডি ও 3ডি এবং ডাটাবেজ প্রোগ্রামিং
8. জন্ম সনদের আবেদন ও সংশোধন করা হয়
9. ভোটার আইডির আবেদন ও সংশোধন করা হয়
10. অনলাইনের যাবতীয় কাজের পাশাপাশি আইটি, ইলেক্ট্রিক্যালস্, ইলেক্ট্রনিক্স, হার্ড
ওয়্যার ও সফ্টওয়্যারের প্রোডাক্ট বিক্রয় করা হয়।

বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন:
মোবাইল নং - 01823660266/01920325316
ই-মেইল: selltoearn.com@gmail.com
Offer Source: Plz, click here to show
Offer Id: 925
Company Name: Selltoearn.com
Contact No.: 01823660266
E-mail: selltoearn.com@gmail.com
Business Type: Culture & Literature
Location: Anywhere in Bangladesh
Offer Title: হীণমন্যতা ও মানসিক অবসাদ কি ? এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কি ??

Offer Details:

হীণমন্যতা ও মানসিক অবসাদ কি ? এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কি ??

হীণমন্যতা ও মানসিক অবসাদ কি ? এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কি ??

ভূমিকা.

আমাদের জীবন খুব বেশি বড় নয়। জন্ম যখন নিয়েছি কোনো না কোনো সময় মৃত্যু আমাদের জন্য অবধারিত। এই জন্ম এবং মৃত্যুর মাঝে আমরা যেটুকু সময় পাই সেই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে জীবনকে সুস্থ রেখে সঠিক কাজে ব্যবহার করে জটিল সময়গুলো অতিক্রম করে ভালো জীবন যাপন করার যে লড়াই সেটাই সবচেয়ে কঠিন। জীবনের এই লড়াইয়ে জরিয়ে থাকে আমাদের শারীরিক পরিশ্রম, প্রশান্তি ও মানসিক চেতনা, ইচ্ছা, আকাঙ্খা, স্বপ্ন, আবেগ ইত্যাদি এসবের মাধ্যমে মানুষ নিজেদের বাচিঁয়ে রাখে। এক অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটে যায় অনিশ্চিত জীবনকে নিশ্চয়তায় পরিনত করতে। সেই পথে থাকে নানা রকম বিপদ, ভয়, কষ্ট, পরিশ্রম, ভালো কিছু করার তাগিদ, জীবনকে সুন্দর ভাবে সাজানোর ইচ্ছা যা মানুষকে বেচেঁ থাকার সাহস যোগায়। তবে সবার জীবনে সফলতা বিষয়টি কাম্য নয়। কেননা ব্যর্থতা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরাজ করে। কিন্তু ব্যর্থতাই যদি না থাকে তাহলে জীবনে সফলতার মূল্য কতটুকুই বা বোঝা যায়। কিন্তু সবাই সেই ব্যর্থতা কে গ্রহন করার মতো মানসিক শক্তি নিজের মধ্যে প্রেরণ করতে পারেনা। ফলে মানুষরা হীণমন্যতায় ভোগে বা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে, সব কাজে সফল হওয়ার আশা, আকাঙ্খা নিমিষেই যেন নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তখন শারিরীক ভাবেও সব অচল হয়ে পড়ে। কারন মানসিক চিন্তা ভাবনা থেকে আমরা যেকোনো কিছু করার শক্তি পাই, সাহস পাই। ফলে যখন আমারা মানসিক ভাবে নিজেদের দুর্বল করে ফেলি তখন বেচেঁ থাকার ইচ্ছেটাও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায়। তবে এমন অনেকেই আছেন যারা এই ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে এর মাধ্যমে নিজের মধ্যে নতুন শক্তির সঞ্চার করে এবং পুনরায় জীবনে সফলতার পথে এগিয়ে যায়।

কিন্তু কিভাবে সেটাই আমরা জানবো আজ এই কন্টেন্টির মাধ্যমে..... ""বেসরকারি সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন"" কর্তৃক শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কিত জড়িপ হতে প্রাপ্ত তথ্য.... করোনা পরিস্থিতির মধ্যে লক্ষ্য করা যায় বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রী মানসিক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা বিদ্যমান এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ ১৮ থেকে ২৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা। অনিশ্চয়তার জীবনকে কেন্দ্র করে, পড়ালেখা, চাকুরি, ভবিষ্যত পরিকল্পনা এসব কিছু মিলিয়ে সবারই সাধারন জীবন যাপন ব্যপকভাবে বাধাগ্রস্থ হয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে শিক্ষার্থীরা, বলা যায় তরুন সমাজ আজ হুমকির কবলে যারা আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তাদের জীবনই এক প্রকার দুঃশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে কেটেছে এই দেড় বছর। আর দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে বাল্যবিবাহ।

☑ ২০২১ সালের ১২ থেকে ২৬ সেপ্টম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে একটি জড়িপ পরিচালিত হয়। সেখানে বাংলাদেশের ৯২ টি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তাদের মানসিক অবস্থার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, ২ হাজার ৫৫২ শিক্ষার্থী নিজেদের অবস্থা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। ৮৪ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী মানসিক ভাবে হতাশাগ্রস্থ যার ফলে তাদের মধ্যে ৪ ভাগের ৩ ভাগ ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখার আগ্রহ হারিয়েছেন। এমনকি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা প্রবল ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
♻ ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীরা মানসিক সমস্যার আওতায় রয়েছে সেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ নারী।
♻ তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন। ♻ গ্রামে থাকা মানসিক ভাবে হীণমন্যতায় ভোগা শিক্ষার্থীদের হার ৮৬ দশমিক ২ ভাগ।
♻ মানসিক সমস্যা, ভেঙে পড়া, হতাশাগ্রস্থ হওয়া, হীণমন্যতায় ভোগা এসব কিছু বিশ্লেষন করে দেখা যায় পুরুষ শিক্ষার্থীর তুলনায় নারী শিক্ষার্থীর হার ৭ শতাংশ বেশি।

এখন আমরা জানবো কিভাবে মানসিক চিন্তা-ভাবনা আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলে ??

মানসিক চিন্তা-ভাবনা এমনই একটি বিষয় যা আমাদের নিজে থেকে নিয়ে আসার প্রয়োজন পড়ে না। যে কোনো ক্ষেত্রে এমনকি যে কোনো বিষয়ের জন্য মস্তিষ্ক থেকে মানসিক চিন্তা-ভাবনা আসতে পারে। যদি আমরা সেটা নাও চাই। বলা যায় এটি সৃষ্টিকর্তার তৈরি আমাদের দেহের এমন একটি অংশ যা প্রকৃতিগত ভাবে সেচ্ছায় কাজ করে। যার মধ্যে সৃষ্টিকর্তা ছাড়া অন্য কারো হস্তক্ষেপ নেই। যদিও প্রযুক্তি এখন অনেক উন্নত যার মাধ্যমে অনেক কিছুই করা যায়। মস্তিষ্কের সমস্যা বা মানসিক অবনতির জন্য নানা রকম চিকিৎসা রয়েছে দেশ-বিদেশে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে রয়েছে আধুনিক ও উন্নত যন্ত্র বা মেশিন। যার সাহায্যে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে চিকিৎসা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, টেকনোলোজি এসব কিছুই কাজ করেনা। যদি না সৃষ্টিকর্তা চান। মানসিক চিন্তা-ভাবনা আমাদের জীবনে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলতে পারে ??

আমরা যদি চাই যে আমরা সুস্থ সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করবো। তাহলে প্রথমেই যেদিকে খেয়াল রাখতে হবে সেটি হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্ক। এই মস্তিষ্ক আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন একটি অংশ যার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনার সঞ্চালন করতে পারি। কারন মস্তিষ্ক থেকেই আমরা মানসিক চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতা পেয়ে থাকি। যদি আমাদের এই চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতা না থাকে বা কোনো ভাবে সেটার সঞ্চালনে বাধাঁর সৃষ্টি হয় তখনই মানুষ নিজের বোধ-বুদ্ধি, বিবেক সব কিছু হারিয়ে ফেলে। যা ধীরে ধীরে আমাদের শারিরীক কার্যকলাপে প্রভাব ফেলে। আর যখন আমাদের মানসিক ও শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটে তখন বেচেঁ থাকাটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে শারিরীক ও মানসিক অবনতির কারনে বিভিন্ন দিক দিয়ে হতাশা, কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষ পরিবার, আত্মীয়স্বজন সবাই একসময় বিরক্তি প্রকাশ করে যার ফলে মনোবলও হারিয়ে যায়। বিভিন্ন চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হয়। হয়তো অনেকে এই সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার মতো অবস্থায় নাও থাকতে পারে। আবার অনেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। অনিশ্চয়তার এই সময় গুলো অতিক্রম করাটা তখন জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেন্জ হয়ে দারায়। ফলে বোঝা যায় মানসিক চিন্তা-ভাবনা আমাদের জীবনে সবটুকুতে বিরাজ করে যার প্রভাবে আমাদের নিশ্চিয়তার জীবন অনিশ্চয়তায় পরিনত করতে পারে।

কি কি কারনে মানুষ হীণমন্যতায় ভোগে বা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে ??

পরিবার, সমাজ নিয়ে আামাদের বসবাস। এর মধ্যে রয়েছে নানা রকম মানুষ যাদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা, ইচ্ছা, আকাঙ্খা, আবেগ, বিবেক, মন-মানসিকতা, আচরনের মধ্যে রয়েছে অনেকভিন্নতা বিদ্যমান। তাই এসব কিছু মিলিয়ে একে অন্যের সাথে মিলেমিশে বছরের পর বছর বসবাস করা খুব একটা সহজ কাজ নয়। কিন্তু তারপরও মানুষ নানা রকম জটিলতা অতিক্রম করে জীবন যাপন করছে। সেখানে এমন নানা রকম ঘটনা ঘটে সেটা হোক সমাজে, পরিবারে বা আমাদের আশেপাশে। সেই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে ভালো বা মন্দ দুটোরই প্রভাব রয়েছে মানুষের মধ্যে। এটা হতে পারে শারিরীক ভাবে প্রভাব ফেলছে নয়তো মানসিক ভাবে। বেশির ভাগ সময় মানুষ হীণমন্যতায় ভোগে বা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে নিজের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে। এখন আমরা জানবো কিভাবে এবং কি কারনে মানুষ হীণমন্যতায় ভোগে বা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে.. কারন গুলো নিম্নে দেওয়া হলো.....

❏ পরিবার থেকে পাওয়া দুঃখ-কষ্ট, খারাপ আচরন, কটু কথা।
❏ বিনা কারনে অপমান, অবাঞ্চিত প্রশ্ন, ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
❏ বাবা - মায়ের থেকে প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়া, ফলে হীণমন্যতায় ভোগা।
❏ অনেক দিন যাবত শারিরীক অসুস্থতা।
❏ পারিবারিক অশান্তি, ঝামেলা।
❏ অর্থের অভাব বা পরিবারে অর্থনৈতিক সংকট।
❏ প্রতিষ্ঠানে কাজে চাপসৃষ্টির ফলে কাজ থেকে অবসর না পাওয়া।
❏ অর্থের তুলনায় অধিক পরিশ্রম।
❏ বিভিন্ন কাজে ব্যর্থতা।
❏ চাকুরি বা ব্যবসায় নিয়ে হতাশা।
❏ ভালো বেতনে চাকুরি করতে না পারা।
❏ ব্যবসায়ের লোকসানের দায়ভার নেওয়ার পর্যাপ্ত ক্ষমতা না থাকা।
❏ ভালো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় না থাকতে পারা।
❏ অন্যদের মতো দামি পোশাক পরিধান করতে না পারা, দামি মোবাইল ব্যবহার করতে না পারা, দামি গাড়ি এবং বড় বাড়ি না থাকা ইত্যাদি। এরকম আরো অনেক কারনের জন্য মানুষ মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে। মানুষের মন এবং মস্তিষ্ক দুটোই খুব নাজুক ও নমনীয় যার মধ্যে সব সহ্য করার ক্ষমতা থাকলেও একসময় সেই সহ্য শক্তির অবসান ঘটে যা মানুষের মানসিক ও শারিরীক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

হীণমন্যতায় ভুক্তভোগী হলে বা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়লে কি হতে পারে ??

❏ কর্মে মনোযোগ ব্যহত হতে পারে। ❏ কাজে বা যেকোনো বিষয়ে গতি হ্রাস পেতে পারে।
❏ সবকিছু থেকে নিজেকে আলাদা রাখার ইচ্ছা জন্ম নিতে পারে।
❏ জনসমাগম ছেড়ে একা এবং দূরবর্তী স্থানে বসবাস করার সিদ্ধেন্তে উপলব্ধ হতে পারে।
❏ মন-মেজাজ খিটখিটে ও তিরিক্ষি হয়ে উঠতে পারে।
❏ পরিবারের কথা অমান্য করে অবাধ্য হতে পারে।
❏ অজান্তেই বেআইনি কাজে লিপ্ত হতে পারে।
❏ নেশায় আশক্ত হতে পারে।
❏ ঝুঁকিযুক্ত কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে।
❏ ভালো কাজ করার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
❏ ভালো মন্দের মধ্যে পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।
❏ জীবনের সবকিছুই অর্থহীন মনে হতে পারে।
❏ মন-মানসিকতা ক্রমশ খারাপের দিকে চালিত হতে পারে। এরকম ভাবে একটা সময় মানুষ নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, বিবেক কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং মানুষটি মানসিক ভাবে বিপাকগ্রস্থে পরিনত হয় যার ফলে মৃত্যুও হতে পারে ।

হীণমন্যতায় ভোগা বা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ার বিষয়টি পরিবারের উপর ও শারিরীক অবস্থার উপর কি কোনো প্রভাব ফেলে ??

হ্যাঁ, অবশ্যই । কারন আমরা সর্বদা কারো না কারো সাথে বসবাস করে থাকি। সেটা হতে পারে বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, যাদের সাথে আমরা পরিবারের মতোই থাকি। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ার ফলে আমাদের আচরন, কথা-বার্তা, মিলেমিশে থাকার ধরন এসবের মধ্যে এক অদ্ভুদ পরিবর্তন হয়ে থাকে সেই সুবাধে পরিবারের উপর সেটা প্রভাব ফেলে । আর যদি শারিরীক দিক দিয়ে প্রভাবের কথা আসে তাহলে বলা যায়, একটা মানুষের মানসিক অবস্থা যখন ক্রমশ অবনতির দিকে ধাবিত হয় তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় সেই মানুষের শারিরীক অবস্থা। তখন মানসিক অবস্থার পাশাপাশি শারিরীক ভাবেও মানুষটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমনকি তখন দুঃশ্চিন্তায় শারিরীক ভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কেননা চিকিৎসকের মতে মানুষের শারিরীক অসুস্থতার ৬০-৭০ শতাংশ কারন থাকে মানসিক অসুস্থতা, দুঃশ্চিন্তা, দুর্বলতা। যেমন : " থায়রয়েড " খুবই পরিচিত একটি নাম। বর্তমান সময়ে বেশির ভাগ ব্যক্তিরা থায়রয়েডের ফলে নানা রকম চিকিৎসা গ্রহন করে থাকে। তথাপি চিকিৎসকের মতে মানসিক দুঃশ্চিন্তার জন্য দেহে থায়রয়েডের মাত্রা অতিরিক্ত ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। যার ফলে বিভিন্ন রোগ শরীরে বাসা বাধে। তাই বলা যায় মানসিক অবস্থার অবনতি শারিরীক অবস্থার উপর বিপুল প্রভাব ফেলতে পারে। কেউ যখন হীণমন্যতায় ভোগে বা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে তখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসার কি কোনো সমাধান রয়েছে ??

হ্যাঁ, আমরা যখন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হই তখন আমরা নানা রকম ভুল করি তবে আমাদের বোঝার অক্ষমতা হচ্ছে যেকোনো সমস্যার সমাধান আমাদের মধ্যেই বিদ্যমান থাকে। কিন্তু আমরা হয়তো সেটা উপলব্ধি করতে পারি না আর নয়তো সঠিক সময়ে সেটা উপলব্ধি করে ব্যবহার করতে পারি না। সমাধান : পরিবারের সাহায্যে : জন্মগ্রহনের পর থেকে আমাদের বেশির ভাগ সময় কাটানো হয় পরিবারের সাথে। তাই আমাদের বিষয়ে সবচেয়ে ভালো ভাবে যদি কেউ জেনে থাকে সেটা হচ্ছে পরিবার। বিশেষ করে মা-বাবা। মায়েরা সন্তানদের জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি এক অন্যরকম সম্পর্কে আবদ্ধ যার ফলে সন্তানদের কোনো কিছু হলে সবার আগে সেটা মায়েরা উপলব্ধি করতে পারেন। তাই আমরা যখন কোনো কারনে খুব বেশি খারাপ অনুভব করি বা কোনো কাজ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ভেঙে পড়ি, কোনো কথা ভেবে হীণমন্যতায় ভোগী তখন সবচেয়ে বড় সাহায্য পূর্ণ স্থান হচ্ছে পরিবারে মা- বাবা। অনেকেই আছেন বাবার সাথে কথা বলতে সংকোচ বোধ করে থাকে সেক্ষেত্রে মায়ের সাথে কথা বলা। সেই কথা নিয়ে ভালো-মন্দ আলোচনা করা। সেক্ষেত্রে বিষন্নতা কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে। এমনকি সেই সমস্যার কোনো না কোনো সমাধান অবশ্যই পাওয়া যাবে। কারন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত সন্তানদের কাছে সবচেয়ে ভরসার স্থান হচ্ছে মা। যিনি নিঃস্বার্থ ভাবে সন্তানদের শুভকামনা করে সবসময়। ভাই-বোনের সাহায্যে : বরাবরই আমরা সমবয়সী ভাই-বোনের সাথে সবকিছু খোলাখুলি ভাবে আলোচনা করতে পছন্দ করি। অনেক সময় এমন হয় যে মা-বাবাদের আমরা সব কথা বলতে পারি না। কিন্তু সেটা ভাই-বোনকে খুব সহজেই বলতে পারি। কেননা সমবয়সী ভাই-বোনের সাথে এক প্রকার বন্ধুসুলভ সম্পর্কের সৃষ্টি হয়ে থাকে যার ফলে আমরা যখন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকি তখন ভাই-বোনের সাথে আলোচনার মাধ্যমেও আমরা সমাধান আশা করতে পারি। আর যদি সমাধান না ও পাওয়া যায় অন্তত প্রয়োজনে সাহায্য করতে হবে সেই কথাটা জানিয়ে রাখতে পারি। কাছের সহপাঠীদের সাহায্যে : যখন আমরা একান্তভাবেই পরিবারের কারো সাথে কথা বলতে পারি না আমাদের সমস্যা নিয়ে। তখন আমরা আমাদের খুব কাছের কিছু সহপাঠী বা বন্ধু-বান্ধবী যারা আমাদের শুভাকাঙ্খী তাদের সাথে মানসিক ভাবে কেন হীণমন্যতায় ভুগছী বা কেন মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছি সেই কথা নিয়ে আলোচনা করতে পারি। কারন সমবয়সী হওতার ফলে তারা আমাদের পরিস্থিতি খুব ভালো ভাবে উপলব্ধি করতে পারে। হতে পারে সেই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার উপায় তাদের কাছেও থাকতে পারে। চিকিৎসকের সাহায্যে : অনেক সময় আমাদের মানসিক অবস্থার এতটাই অবনতি হয়ে থাকে যার ফলে চিকিৎসকের কাছে থেকে চিকিৎসা গ্রহনের উপদ্রব হয়। অনেক দিন যাবত একটা বিষয় নিজের মধ্যে চেপে রাখা দুঃশ্চিন্তা করা, সেটা নিয়ে হীণমন্যতায় ভোগা, মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া একসময় আমাদের শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটায়। তখন আমাদের বিভিন্ন চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হয়। আমরা যখন চিকিৎসকের কাছে যাই তখন যেকোনো চিকিৎসার পূর্বে আমাদের সবরকম সমস্যার কথা চিকিৎসককে জানাতে হয় সেটা হোক শারীরিক বা মানসিক তারপর সেই অনুযায়ী চিকিৎসক চিকিৎসা করে থাকেন। এর ফলে দেখা যায় আমরা আমাদের সব কথা চিকিৎসকের সাথে বিনা সংকোচে বলি এবং চিকিৎসক ওনার সাধ্যমতো যতটুকু সম্ভব সমাধান দিয়ে থাকেন। [ Psychologist ] মনোবিজ্ঞানীর সাহায্যে : যখন আমরা আমাদের মানসিক অবস্থার অবনতির কারন খুব সামান্য বলে কারো সাথে আলোচনা করতে পারি না। কিন্তু এই মানসিক অবস্থার অবসান না করলেই নয় যার ফলে মানসিক বা শারীরিক প্রশান্তি লাভ হচ্ছে না। তখন আমাদের উচিত [ Psychologist ] মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নেওয়া। একজন সফল মনোবিজ্ঞানী যেকোনো মানুষের মনে চেপে রাখা কথা, দুঃশ্চিন্তার কারন যখন জানতে পারে তখনই তিনি উপলব্ধি করতে পারেন যে মানসিক ভাবে এসব কিভাবে এবং কতটা প্রভাব ফেলছে। যেহেতু একজন মনোবিজ্ঞানী মনের চিকিৎসক হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি লাভ করে। যার ফলে অনেকেই ভাবতে পারে যে সমস্যা হচ্ছে মানসিক যা মস্তিষ্ক থেকে সৃষ্ট। তবে আমরা এই কথা থেকে খুব কম মানুষই অবগত যে একজন মানুষের মনের সাথে মস্তিষ্ক অতোপ্রতো ভাবে জড়িত। তাই [ Psychologist ] মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নেওয়া খুব একটা ভুল সিদ্ধান্ত নয়। একজন মনোবিজ্ঞানীর কাছে সেই কৌশলটা রয়েছে যার মাধ্যমে সেই মানুষটির মনের কথা কিভাবে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলছে এবং সেই প্রভাবটা কিভাবে কাটানো যায় তিনি সেটা চিহ্নিত করতে পারেন এবং সমাধান ও দিতে পারেন। [ Consultant ] পরামর্শদাতার সাহায্যে : অনেক সময় এমন দেখা যায় যে আমরা আমাদের সমস্যা নিয়ে হয়তো অনেকের সাথেই আলোচনা করে থাকি তবে ঠিক বা প্রয়োজনীয় কোনো পরামর্শ পাইনা। তখন আমাদের উচিত [ Consultant ] পরামর্শদাতার সাহায্য নেওয়া। একজন পেশাদার পরামর্শদাতা মানসিক অবস্থা বিশ্লেষন করে সঠিক পরামর্শ দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন। কেননা যখন একজন পরামর্শদাতা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া, হীণমন্যতায় ভোগা কোনো অসুস্থ ব্যক্তির সাথে কথা বলেন তখন তাদের কৌশল সেই ব্যক্তির ভেতরের সবরকম কথা যাতে বলে সেটার জন্য বাধ্য করেন। এখন অনেকেই ভাবতে পারে হয়তো বিভিন্ন ভাবে চাপ সৃষ্টি করে কথা গুলো বলানো হয়। কিন্তু সেটা একেবারেই নয় কারন সেই [ Consultant ] পরামর্শদাতা তখন এতটাই সংবেদনশীল ও বন্ধুসুলভ আচরন করেন যার ফলে বলা যায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া, হীণমন্যতায় ভোগা ব্যক্তিটি সেচ্ছায় সেই সব কথা বলতে চায় যার জন্য তিনি দিনের পর দিন অসুস্থতায় পরিনত হচ্ছে।

কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে কী মানসিক অবস্থার অবনতির সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে ??

কাউন্সেলিং এমন একটি বিষয় যা আমাদের সবার করা উচিত। আমরা যত বেশি পরিবারের সাথে ভাই-বোনদের সাথে যে কোনো কথা, কাজ, সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো ততো বেশি আমরা দুঃশ্চিন্তা করা, ভেঙে পড়া, হীণমন্যতায় ভোগা, খারাপ কাজ করা থেকে বিরত থাকতে পারবো। আমরা অনেক বেশি মোবাইল, ইন্টারনেট, কম্পিউটার, টেকনোলজীর উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছি। ডিজিটাল যুগের সাথে তালে তাল মিলিয়ে চলার যে চাহিদা আমাদের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে সেটা আমাদের মেশিনে পরিবর্তন করে দিয়েছে। যার ফলে আমরা আগের মতো পরিবারের সাথে কথা বলা, সময় কাটানো, ভালো-মন্দ কথা নিয়ে আলোচনা করা, কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে বড় বা গুরুজনদের পরামর্শ নেওয়া, ভাই-বোনদের সাথে খেলা করা, থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছি। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাও এখন খেলার জন্য বিরক্ত বা উত্তক্ত করেনা। কারন তারা এখন ফোনে আসক্ত। সেখানে বিভিন্ন গেমস, ফানি ভিডিও, কার্টুন দেখে নিজেদের সময় ব্যয় করে। এখন বর্তমান সময় এমন দারিয়েছে সবাই আমরা নিজের সমস্যার সমাধান কোনো আলোচনা ছাড়াই করার চেষ্টা করি। সেক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তবে বেশির ভাগ সময়ই ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যার ফলে নতুনত্ব সমস্যার সৃষ্টি হয় এমনকি বিপদও বৃদ্ধি পায়।

আমরা যাতে মানসিক ভাবে না ভেঙে পড়ি বা হীণমন্যতায় না ভোগী তার জন্য কি করণীয় ???

▪ আমাদের উচিত সবসময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে পরিবারের গুরুজনদের সাথে পরামর্শ করা।
▪ কোনো বিপদের সম্মুখীন হলে সে সম্পর্কে কোনো পদক্ষেপ গ্রহনের পূর্বে পরিবারের সদস্যদের সেই সম্পর্কে অবগত করা।
▪ বাবা-মায়ের উচিত সন্তানদের যতটুকু সম্ভব সময় দেওয়া। অনেক সময় বাবা-মায়ের অবহেলার ফলে সন্তানরা হীণমন্যতায় ভোগে।
▪ একাকীত্ব কাটানোর জন্য মোবাইল, লেপটপ এসবকে সঙ্গী না বানিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানো, বই পড়া, সাহিত্য চর্চা এসবের মাধ্যমে সময়কে কাজে লাগানো।
▪ বর্তমান সময়ে ছেলে-মেয়ে উভয়ই রান্নায় খুব ভালো পারদর্শী হওয়ার জন্য অবসর সময়ে পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না করে। এটিও মানসিক প্রশান্তি দিয়ে থাকে কারন এর সাথে জড়িত থাকে ইচ্ছা, আবেগ, ভালবাসা।
▪ ছোট ভাই-বোনদের সাথে সময় কাটানো ফলে আমাদেরও সময় ভালো ভাবে কাটবে এবং ছোটরাও মোবাইলে আসক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকবে।
▪ প্রত্যেক মানুষের বাড়িতে বৃদ্ধ দাদা-দাদী, নানা-নানী থাকে। হাতে সময় থাকলে ওনাদের সাথে গল্প করা। ফলে ওনারা বৃদ্ধ বয়সে মানসিক প্রশান্তি লাভ করতে পারে।
▪ ভালো সহপাঠীদের সাথে সম্পর্ক রাখা। সেক্ষেত্রে ভালো কাজে নিজেকে নিয়োজিত করা যায়।
▪ ড্রইং বা আর্ট করা, এটি আমাদের মধ্যে থাকা মানসিক স্মরন শক্তিকে ছবিতে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছে যারা নিজেদের মানসিক চিন্তার প্রতিবিম্ব হাতে কলমে খাতায় আঁকাআঁকির মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে।
▪ আমাদের মধ্যে এমন অনেক সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে যা আমরা ভবিষ্যতে নিজেদের পেশা হিসেবে চিহ্নিত করে রাখি। সেই প্রতিভাকে কিভাবে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারি সেই সম্পর্কিত কাজের সাথে নিজেকে জড়িত রাখা।
▪ বিভিন্ন ফুল ও ফলের বাগান করা। কারন এর ফলে মন ভালো থাকে।
▪ মানসিক অবস্থার পাশাপাশি শরীর সাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য কিছু সময় নির্ধারন করে প্রতিদিন যোগা, ব্যায়াম করা যেতে পারে।
▪ বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকলে কোনো রকম দুঃশ্চিন্তা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে।
▪ মন্দ, বেআইনি এবং অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকা। বেশির ভাগ সময় ছেলে-মেয়েরা খারাপ কাজে লিপ্ত হওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টায় যখন ব্যর্থ হয় তখন তারা মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, আচরনে পরিবর্তন আসে ও হীণমন্যতায় ভোগে।

উপসংহার...

জীবনে চলার পথে নানা রকম বাধাঁ, বিপদ, কষ্ট আসবে সেটাই মূলত স্বাভাবিক। আর এই স্বাভাবিক জিনিসটা মেনে নিয়ে আমাদের জীবনকে সুন্দর করে তোলার লড়াই আমাদেরই লড়তে হবে। কারন এসব আমাদের জীবনকে শুধুমাত্র ব্যস্ত ও বিচলিত করে। তাই আমরা যদি একবার আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন করি তাহলেই উপলব্ধি করতে পারবো যে জীবন কতটা সুন্দর, যা সবাই পায় না, সেটা আমরা পেয়েছি তাতেই আমরা পরম সৌভাগ্যের অধিকারি বাকি সব ঠুনকো বিষয়। ঠিক এখানেই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন করতে হবে। যার ফলে আমরা যে কোনো কারনেই হোক না কেন কখনোই মানসিক ভাবে ভেঙে না পড়ে দুর্বল না হয়ে কঠিন সময় গুলোতে যে কোনো সমস্যা খুব সহজেই সমাধান করতে পারবো।


Offer Source: Plz, click here to show
Offer Id: 924
Company Name: Selltoearn.com
Contact No.: 01823660266
E-mail: selltoearn.com@gmail.com
Business Type: Career
Location: Anywhere in Bangladesh
Offer Title: ইন্টারভিউ বোর্ডে সফল হওয়ার অব্যর্থ কিছু টিপস:

Offer Details:

ইন্টারভিউ বোর্ডে সফল হওয়ার অব্যর্থ কিছু টিপস:

ইন্টারভিউ বোর্ডে সফল হওয়ার অব্যর্থ কিছু টিপস:

পৃথিবী পাল্টাচ্ছে, জনসংখ্যার বৃদ্ধি হচ্ছে, তার সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে শিক্ষিত বেকার ছেলে ও মেয়ের সংখ্যা। আর এই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মহামারী করোনা। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেকারত্ব বাড়লেও কিছু মানুষ কিন্তু ঠিকিই তাদের জায়গা তৈরী করে নেয়। তাহলে তারা কেন এগিয়ে? আপনি কেন পেছনে পরে রয়েছেন? কারণ খুঁজেছেন কখনও? খুঁজলে দেখবেন তারা আপনার চেয়ে এই জন্যে এগিয়ে কারণ তারা পড়াশুনার পাশাপাশি ভাইভাতে কিভাবে এগিয়ে থাকবে এই জন্যে আগে থেকেই প্রিপারেশন নিতে থাকে। যাইহোক যেকোন চাকরী পাওয়ার ক্ষেত্রে মুখোমুখি ভাইবা খুবিই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। সময়ের স্রোতে এই ভাইভা প্রক্রিয়া কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। তাই আপনাকে চাকরী প্রিপারেশন নেওয়ার সাথে সাথে ভাইভার জন্যেও তৈরী হতে হয়। এই ভাইভাতে ভালো করলে চাকরী পাওয়ার পসিবিলিটি যেমন বেড়ে যায় ঠিক তেমনি খারাপ করলে না পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। কারণ এই মুখোমুখি ইন্টারভিউতে নিয়োগকর্তা বা যে ইন্টারভিউ নিবেন তিনি আপনার ড্রেসআপ, হাটাচলা এর সাথে করে আপনার বাচনভঙ্গি, আইকিউ সবই দেখেন যাকিনা ওদের কম্পানির জন্যে খুবিই গুরুত্বপূর্ণ।

এখন ড্রেসআপ বা হাটাচলা আপনি শিখে নিলেন কারণ এগুলো এতো কঠিন বিষয় নয়। কিন্তু কি বলবেন সেটা? এর কি কোন সিলেবাস আছে? না সিলেবাস নেই কিন্তু সিলেবাস না থাকলে ভাইবা একটা প্যাটার্ন রয়েছে। শুধু প্রয়োজন ঠিকমত অনুশীলন।

তবে আপনি যথাযথ ভাবে রিসার্চ করেন তাহলে অবশ্যই আপনি ইন্টারভিউতে ভালো করতে পারবেন। আজকে এমনি অব্যর্থ কিছু টিপ্স নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের সামনে। নিম্নে আলোচনা করা হলো;

১. গবেষণা করুনঃ যেকোন বিষয়ে যথযথা জানাশুনা বা গবেষণা অগ্রিম করে নেওয়া ওই বিষয় আপনার কাছে যেমন করে সহজ করে দেয় তেমনি আপনার কনফিডেন্সও বাড়িয়ে দেয়। আপনার যখন ইন্টারভিউ কল আসে তখন আপনার ওই পোস্টের সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে যাবেন। যেমন ধরেন আপনার কল সেন্টার এক্সিকিউটিভের জন্যে চাকরীর ইন্টারভিউয়ের জন্যে কল আসল।

আপনি প্রথমেই এই পোস্টের রেসপন্সসিবিলি প্রথমেই ভালও করে জেনে যাবেন। যাতে করে ইন্টারবোর্ডের মানুষ প্রশ্ন করার সাথে সাথে আপনি উত্তর দিতে পারেন। তখন উনারা ভাববেন যে আপনি সেন্সিপল কাজের প্রতি নিষ্ঠা আছে আপনার। দ্বিতীয়ত যারা ইন্টারভিউ নিবে তাদের সম্পর্কে একটু ভালও ভাবে জেনে যাবেন। অনেক সময় দেখা যায় ইন্টারভিউ দিতে গেছে কিন্তু কম্পানির নামই ভালো করে জানে না, এটা আপনাকে চাকরী না পাওয়ার দিকে নিয়ে যাবে। কম্পানি উচ্চ পদস্থ মানুষ সম্পর্কে জানার একটা খুবিই ভালো মাধ্যম হচ্ছে বর্তমানে ওই কম্পানির ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইট ঘেটে আপনি সব ভালো আত্তস্থ করে নিবেন। ওই কম্পানি কি করে সমাজে? ওদের কাজ কি? কি কি পোডাক্ট রয়েছে? ইত্যাদি। ইন্টারভিউ শেষ হবার পর আপনি ওদের কম্পানি সম্পর্কে এমন ভাবে প্রশ্ন করবেন যেন আপনি ভালো করে রিসার্চ করে আসছেন এটা ওনারা বুঝতে পারেন। এতে করে আপনার চাকরী পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

২. আপনার কথা বলার দক্ষতা বৃদ্ধি করুনঃ যেকোন জিনিস যত বেশি অনুশীলন করবেন তত ভালো পারবেন আপনি। কথায় আছে, "প্র্যাকটিস মেকস অ্যা ম্যান পারফেক্ট"। ভালো করে রিসার্চ করার ফলে আপনি খুব সহজেই জেনে যাবেন আপনাকে কি প্রশ্ন করা হয়। সেই প্রশ্ন গুলো একটি লিস্ট তৈরী করুন। এছাড়াও ইউটিউব বা গুগলে সার্চ করলে আপনি এমন অনেক ভিডিও বা প্রশ্ন খুঁজে পাবেন। সেগুলো নোট করুন। সেই প্রশ্নের উত্তর গুলো খাতায় লিখে ভালো করে অনুশীলন করুন। যেমনঃ শুরুতেই হতে পারে ইনট্রুডিউস ইউরসেল্ফ। আপনি নিজের সম্পর্কে গল্পের ছলে মিষ্টি হাসি দিয়ে সুন্দর করে বলবেন, দেখবেন কথাতে যেন জড়তা না আসে। আপনাকে যখনই কোন প্রশ্ন করবে, এর উত্তর আপনি সাবলীল ভাবে দিন যেন উত্তর গুলো শুনতে মুখস্তের মত না শুনায়। নরমালি আমরা যেভাবে কথা বলি সেই ভাবে ধীরে ধীরে বলতে হবে। সেই জন্যে বন্ধুদের সাথে এই কমন প্রশ্নের কথাগুলো বলে বার বার প্যাক্টিস করবেন। যখন কোন কিছু পারেন বলবেন, তখন সেটা করেছেন এমন উদাহরণ দিয়ে বলবেন। যেমনঃ আমি ভালো উপস্থাপনা বা সুন্দর করে কথা বলতে পারি এটা না বলে বলবেন আমি ডিবেটর ছিলাম, ভার্সিটি থেকে ন্যাশনাল পর্যায়ে ডিবেট করেছি। বা এমনও হতে পারে ভার্সিটি বড় কোন অনুষ্ঠানে আপনি উপস্থাপিকা ছিলেন এমন কিছু। তাহলেএটা বেশি ইফেক্টিভ হয়। আর এতে করে আপনার চাকরী পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৩.রুচিশীল পোশাকের দিকে মনোযোগী হোনঃ সুন্দরের প্রতি আমাদের ভালো লাগা সৃষ্টির শুরু থেকেই। কথায় আছে, "আগে দর্শনধারী পরে গুণ বিচারি"। মানুষ কেমন বা তার রুচি কেমন তা পোশাক দেখেও জাজ করা হয়। ইন্টারভিউ বোর্ডে যারা থাকবেন তারা আপনার ফার্স্ট এপিয়ারেন্স দেখেই বুঝে ফেলবেন আপনাকে নেওয়া যাবে কি যাবে না। অনেক সময় এমনও হয় আপনি স্টুডেন্ট ভালো এবং ইন্টারবোর্ডে ইন্টারভিউ ভালো দিয়েছেন কিন্তু তারপরও সিলেক্ট হোন নি এর কারণ হতে পারে আপনার পোশাক। সচেতন মানুষ মাত্রই সে সকল বিষয়ের প্রতি মনোযোগি হবে। এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন আপনি কিভাবে যাবেন? ছেলেদের ক্ষেত্রে ফরমাল ড্রেস হলো শার্ট ও প্যান্ট এবং তার সাথে অবশ্যই জুতা মুজা, আপনি এমনি ক্যাজুয়াল জুতা পরে চলে গেলে রিজেক্ট হয়ে যাবেন। এখন আপনি যদি শার্ট এর পরিবর্তে টি শার্ট বা পাঞ্জাবি পরে চলে যান তাহলেও আনকোয়ালিফাইড হয়ে যাবেন। আর মেয়েরা শাড়ি বা থ্রি যেটা ইচ্ছা পরতে পারেন। তবে রং অবশ্যই রুচিশীল মানে হালকা কালারের হতে হবে। চোখে শুভনীয় এমন কিছু। লাল কিংবা দেখতে চটকা কালার ফর্মাল পোশাকে মধ্যে পরে না, এটা মেয়েদের জন্যেও একিই রকম। তবে আপনার পোশাক যেন সুন্দর করে আয়রন করা থাকে সেই দিকে লক্ষ্য রাখবেন, কুচকানো আলমারী থেকে মাত্র বের করা পোশাক পরে যাবেন না। আপনার শরীর বা মুখ থেকে যেন দুর্গন্ধ না বের হয়। সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় এমন অনেক ক্যান্ডিডেট থাকে যাদের শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার কারণে চাকরী থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাই আপনি এই ব্যাপারে সচেতন হোন। স্মার্টভাবে গেলে আপনার চাকরী পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৪.সময়নিষ্ঠ হোনঃ শুধুমাত্র চাকরী পরিক্ষা নয় জীবনের যেকোন কাজে সময় নিষ্ঠ হওয়াটা খুবিই প্রয়োজন। সময়ের অন্তত ৩০ কিংবা ১ ঘন্টা আগে আপনি পৌছে যাবেন। তাহলে সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ রেস্ট নিতে পারবেন এবং রিলাক্স হয়ে ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢুকতে পারবেন ফলে ইন্টারভিউও ভালো হবে। কিন্তু আপনি যদি সময় কম নিয়ে বের হোন এবং রাস্তার ট্রাফিকে পরে আপনার লেট হয়ে যায়, সেই ক্ষেত্রে আপনি নার্ভাস থাকবেন ফলে দেখা যাবে আপনার ইন্টারভিউ ভালো হবে না। সেক্ষেত্রে আপনার রিজেক্ট হবার সম্ভাবনা বেড়ে যান। আপনার আগে পৌছাতে হবে মনে রাখবেন ইন্টারভিউ বোর্ডের লোকের আপনার জন্যে অপেক্ষা করবেন না। সুতরাং প্রয়োজনের তাগিদে সচেতন হোন।

৫. কনফিডেন্স রাখুন তবে ওভার কনফিডেন্স নয়ঃ কনফিডেন্স থাকাটা খুবিই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। আপনাকে যখনই কোন প্রশ্ন করা হবে তখনই ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে সুন্দর করে গুছিয়ে বলবেন কিন্তু অবশ্যই খেয়াল কথাগুলো শুনতে যেন মুখস্তের মত না শুনায়। আর যদি না মনে থাকে তাহলে কিছু সময় নিয়ে বলবেন দুঃখিত এখন মনে করতে পারছি না কিন্তু বানিয়ে মিথ্যা বলবেন। আপনাকে যারা প্রশ্ন করবেন তারা অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানে আপনার চেয়ে বেশি পারদর্শী। তাই অবশ্যই উনাদের সামনে নিজের ওভার কনফিডেন্স দেখাতে যাবেন না। যখন আপনি ভুল কনফিডেন্স নিয়ে বলবেন সেটা নেগেটিভ মার্ক নিয়ে আসবে যা আপনার জন্যে কখনোই ভাল নয়। এছাড়াও যখনই আপনি রুমে ঢুকে হ্যান্ডসেক করবেন কিংবা চেয়ার টেনে বসবেন এগুলো খুবিই কনফিডেন্সের সাথে করুন। যাতে করে উনারা বুঝতে পারেন আপনি যথেষ্ট স্পার্ট। খেয়াল রাখবেন আপনার হাত যেন না কাঁপে। সাথে করে অবশ্যই টিস্যু রাখবেন যাতে করে ঘেমে গেলে মুছতে পারেন। আপনার হাত ঘামা কিংবা পোশাক ঘেমে গেলে আপনাকে দেখতে একটু অস্বাভাবিক লাগবে। এগুলো যদি আপনি ঠিকঠাক মত মেনে চলেন তাহলে আপনার চাকরী পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৬. স্বাভাবিক থাকুনঃ ইন্টারভিউতে আপনাকে যখনই কোন প্রশ্ন করবে তখন একটা হাসি দিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিবেন। অতিরিক্ত হেসে ফেলবেন না কিংবা আবার ভয়ে কেঁদে দিবেন না। নরমাল থাকুন। ইন্টারভিউকে আপনি একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন যাতে করে সেটা অতিক্রম করাটা আপনার জন্যে সহজ হয়ে যায়। এর জন্যে আয়নার সামনে কিংবা বন্ধুদের সাথে কমন প্রশ্নগুলো বারবার রিহার্সাল করুন ফলে আপনার জন্যে সেটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কথা বলার সময় হাত-পা অনেকে ছুড়াছুড়ি করেন কিংবা অনেক তাড়াহুড়া করেন। এই অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। আপনি এই নিয়ে ইউটিউবে অনেক ভিডিও আছে দেখতে পারেন।

৭. ধৈর্য্য রাখাঃ অনেক সময় ইন্টারভিউতে আপনাকে এমন প্রশ্ন করা হবে যেটা হয়ত আপনার সাবজেক্ট এর সাথে মিলবে না। কিন্তু আপনি ধৈর্য্য হারিয়ে বলবেন না এটা কেমন প্রশ্ন হলো, এটা তো আমার সাবজেক্টের সাথে মিলে না। অদরকারী প্রশ্ন এসব কিছু বলবেন না। যদি পারেন তাহলে সুন্দর করে উত্তর দিবেন আর না পারলে সরি বলবেন। অনেক সময় বস দেখতে চায় আপনি কারও আন্ডারে কাজ করলে কাজ করতে পারবেন কিনা, কারও কমান্ড আপনি শুনবেন কিনা। তাই আপনাকে অনেক অদ্ভুদ প্রশ্ন করে তারা আপনার ধৈর্য্য যাচাই করতে চায়। তাই এই সকল পরিস্থিতিতে ধৈর্য্য হারিয়ে নয়, বুদ্ধির সাথে ধৈর্য্য নিয়ে মোকাবেলা করতে হবে। তাহলে আপনার চাকরী হবে আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।

৮. ক্যারিশমাটিক হোনঃ মুখোমুখি ইন্টারভিউ একটা বড় সুযোগ আপনার সম্পর্কে ভালো ধারণা দেওয়ার। এই সময় আপনি নিজেকে এমনভাবে তুলে ধরবেন যাতে করে তারা আপনাকে দ্বিতীয়বার ডাকতে বাধ্য হয়। যেমনঃ আপনার ইন্টারভিউ সেলসে হলে আপনি ইন্টারভিউতে বলবেন আপনি যোগাযোগে খুবিই ভালো। ইংরেজী এবং বাংলা উভয় ভাষাতে আপনার দক্ষতা আছে। এবং কথাগুলো বলবেন খুবিই সুন্দর করে গুছিয়ে। এর ফলে উনাদের একটা ভালো দৃষ্টি তৈরী হবে আপনার প্রতি। তাই নিজেকে ভালো করে জানুন, আপনি কি পারেন? কিসে আপনি বাকী সবার চেয়ে এগিয়ে? এই সুবর্ণ সুযোগের ঠিকঠাক মত ব্যবহার করবেন। তাহলে ইন্টারভিউ হোল্ডারদের একটা পজিটিভ ইম্প্যাক্ট তৈরী হবে আপনার প্রতি। যাকিনা আপনার চাকরী পাবার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

৯. খেয় হারাবেন নাঃ অনেক সময় মানুষ ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢুকে নার্ভাস হয়ে যায়, সেই জন্যে ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢোকার আগে জোরে জোরে ১০ নিঃশ্বাস নিয়ে নিবেন, এতে করে আপনার প্রেশারও নরমাল থাকবে। আর এই নার্ভাসের ফলে দেখা যায় এমন অনেক কমন জিনিসও আছে যেগুল পারে কিন্তু অতিরিক্ত নার্ভাসনেসের কারণে বলতে পারে না। দুই ধরণের মানুষ ইন্টারভিউ বোর্ডে কিছু বলতে পারে না এক যারা একদমই কেয়ারলেস থাকে আর দুই যারা বেশি চিন্তা করে। তাই আপনি এদের মাঝামাঝি অবস্থান করবেন, বেশি চিন্তা কিংবা একে বারে কম চিন্তা আপনাকে আপনার গতি থেলে দূরে নিয়ে যাবে। ফলে আপনি কৌশলি হোন এবং বাজিমার করে দিয়ে আসবেন ভাইভা বোর্ডে। কিছু না পারলে বিনয়ের সাথে বলবেন স্যার এখন মনে করতে পারছি না, দুঃখিত। কিন্তু খেয় হারিয়ে ওল্টাপাল্টা বলবেন না। আর ভাইভা ঠিকঠাক মতো দিতে পারলে তো আপনার চাকরী কনফার্ম।

১০. আশাহত হবেন নাঃ অনেকে দেখা যায় অনেক ভাইবা দেয় কিন্তু কোন চাকরীই হয় না। যার ফলে উনি ভেঙ্গে পড়েন। ভাবেন উনাকে দিয়ে বোধহয় আর কিছুই হবে না। বেশি হতাশার ফলে উনি যখন অন্য কোন চাকরীর ইন্টারভিউ দিতে যায় তখন দেখা যায় পারা জিনিসও বলতে পারে না। কারণ তখন নিজের মধ্যে একটা না পারা বোধ চলে আসে। উনি ভাবেন উনাকে দিয়ে হয়ত আর কিছুই সম্ভব না। কিন্তু এরকম ভেবে আমাদের বর্তমানটাকে নষ্ট করা উচিত না। সময় সব সময় আমাদেরকে ভালো কিছু করা সুযোগ দেয়। আমাদের উচিত সেটার সৎ ব্যবহার করা। চাকরীর ইন্টারভিউতে যে কথাগুলো বলা উচিত নয়! চাকরীর বাজার দিনের পর অনেকটা নদীর মত প্রসারত হচ্ছে। নিয়োগ পদ্ধতি কঠিন হওয়ার কারণে চাকরী প্রার্থীদেরও নিজেকে প্রস্তুত করতে আপ টু ডেট পদ্ধতিতে। চাকরী পরীক্ষার কেন্দ্র পর্যন্ত যাওয়াই কঠিন।

কোন চাকরী প্রার্থী সেই নিয়োগ বোর্ড পর্যন্ত যেতে পারলেও অনেক সময় কিছু ছোট ছোট ভুলের জন্যে তার চাকরী হারিয়ে ফেলে। এমন অনেক কথা আছে যেটা কিনা একজন চাকরী প্রার্থী হিসেবে আপনার বলা উচিত নয়। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বস্তু ওই সকল শব্দ বা কথা যাকিনা একজন প্রার্থী বা ক্যান্ডিডেট হিসেবে আপনার কখনোই বলা উচিত নয়।

নিম্নে এমন বিষয় সমূহ দেওয়া হলো

১.'দুঃখিত আমার দেরি হয়ে গেছে জ্যামের কারণে'- অনেকেই ভাইভা বোর্ডে দেরি করে যায়। তারপর যখন কারণ জিজ্ঞেস করা হয় তখন বলেন যে সরি, রাস্তায় প্রচুর ট্রাফিক ছিলো। আপনি বলতে পারেন, স্যার ঢাকা শহর তো জ্যাম বেশি। কিন্তু আপনার মাথায় রাখা উচিত যারা আপনার ইন্টারভিউ নিচ্ছেন তারা এই জ্যাম ঠেলে কষ্ট করে রাস্তা পার হয়েই এসেছেন। এখন আপনি যখন এমন কারণ দেখাবেন তখন স্বভাবতই তারা আপনার উপর বিরক্ত হয়ে যাবেন। কারণ তারা তখন ধরেই নিবেন যে আপনার সময় জ্ঞান নেই, আপনাকে চাকরী দিলে আপনি অফিসেও দেরি করে আসবেন। সুতরাং এই অভ্যাস যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে ত্যাগ করা উচিত।

২. এক হাঁটুর উপর অন্য হাঁটু দিয়ে বসা; অনেক সময় অনেক চাকরীপ্রার্থী দেখা যায় ভাইভা বোর্ডে ঢুকে পায়ের উপর পা দিয়ে বসে থাকেন যাকিনা দেখতে অশালীন দেখায়। মনে রাখতে হবে যারা আপনার ভাইভা নিচ্ছেন তারা আপনার বস, সুতরাং তাদের সামনে কোন রকম বেয়াদবিই গ্রহণযোগ্য নয়। যখন আপনি তাদের সামনে ভদ্র আচরণ করবেন, তখনই উনারা বুঝতে পারবেন যে আপনি উনাদের কমান্ড মানবেন।

৩. প্রশ্নের বিপরীতে প্রশ্ন করা; অনেক সময় দেখা যায় চাকরী ভাইভাতে অনেক রকম প্রশ্নই করে থাকেন চাকরী প্রর্থীকে। যেগুলো অনেক সময় চাকরীর বিষয়ের সাথে মিলে না, তবে সেই ক্ষেত্রে আপনার উচিত দক্ষতা সাথে বিরক্ত না হয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। আর না পারলে সরি বলা। যেমনঃ আপনাকে জিজ্ঞেস করা হলো, মঙ্গোলিয়ার রাজধানী কোথায় আপনি এটা বলবেন না যে স্যার এটার সাথে চাকরীর কি সম্পর্ক? বরং বলবেন যে স্যার এই মুহূর্তে মনে পরছে না। কিন্তু উনাকে এই প্রশ্ন করা যাবে না যে, আপনি আমাকে অবান্তর প্রশ্ন কেন করছেন। কারণ উনারা আপনার মেধার সাথে সাথে ধৈর্য্যও পরীক্ষা করেন।

৪.ফোন বেজে ওঠাঃ ভাইভা বোর্ডে ঢুকার আগে অবশ্যই ফোন সাইলেন্ট করে রাখবেন। কারণ ভাইভা বোর্ডে আপনার ফোন বেজে ওঠলে সেটা অশোভন আচরণ দেখায়। আর আপনি যদি বলেন যে, স্যার একটু ফোনটা ধরবো। তাহলে উনারা বুঝবেন যে, আপনার দায়িত্ব জ্ঞান নেই। কাজের চেয়ে বেশি অন্যদিকে মনোযোগ। তখন উনারা নিশ্চয় এমন লোক চাইবেন না, যে কাজের চেয়ে বেশি ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

৫. আপনাদের বার্ষিক ছুটি কেমন হবে ও অসুস্থ কর্মীদের নীতিমালাটা কি?; আপনার কখনোই এই ধরণের প্রশ্ন করা উচিত নয় যখন উনারা আপনাকে জিজ্ঞেস করবেন যে, আপনার আমাদের অফিসের ব্যাপারে কোন জিজ্ঞাসা আছে কিনা। কারণ আপনি এই প্রশ্ন করলে উনারা বুঝে যাবেন যে, আপনি জয়েন করার আগেই ছুটি নিয়ে ভাবছেন। এতে আপনার কাজের প্রতি কম মনোযোগ প্রকাশ পায়। যেটা আপনি জয়েন করলেই জানতে পারবেন, সেটা আগে থেকে জানার দরকারটা কি?

৬. আপনি নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান ভবিষ্যৎ এঃ নিয়োগ কর্তা এমন প্রশ্ন করলে আপনি এটা বলবেন না যে, ভবিষ্যৎ এ আমি আপনাদের এখানেই থাকতে চায় কারণ এটা বললে বুঝা যায় যে, আপনি উনাদের কনভেন্স করানোর জন্যে বলছেন। বরং আপনি এটা বলবেন যে, আমি নিজেকে আমার দক্ষতায় যোগ্য কোন অবস্থানে দেখতে চায় যা কিনা পরিশ্রমের ফলে আমি অর্জন করবো।

৭.আগের চাকরী জঘন্য ছিলোঃ আপনি যদি আগে কোথাও জব করে থাকেন, আর আপনাকে জিজ্ঞেস করলো যে, আগের জব কেন ছাড়বেন তখন আপনি এটা বলবেন না যে সেখানে স্যালারি ভালো না, ম্যানেজমেন্ট ভালও, বস ভালো ছিলো না ইত্যাদি। মোটকথা বদনাম বলাটা অপেশাদার লাগে, এতে করে ওরা ভাববে আপনি আনপ্রফেশনাল। সুতরাং এই রকম প্রশ্নের উত্তর ভদ্রতার সাথে দিবেন।

৮. প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অজ্ঞতাঃ অনেক সময় দেখা যায় যে, ভাইভা বোর্ডে প্রার্থীকে প্রতিষ্ঠানের নাম জিজ্ঞেস করলে বলতে পারেন না। কারণ উনি ভাল করে খেয়ালই করেন না, চলে যান ইন্টারভিউ দিতে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের এমডি বা আরও যারা গুরুত্বপূর্ণ মানুষ আছেন তাদের নাম আপনার জেনে যাওয়া উচিত। যখন প্রশ্ন করবে তখন বলবেন যে, আপনাদের ওয়েবসাইট ঘেটে টুকটাক জেনেছি। কিছু প্রশ্ন না পারাটা ঠিক আছে কিন্তু একেবারেই না পারা দায়িত্বজ্ঞানহীন দেখায়।

৯. নিজের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়াঃ আপনাকে নিজের সম্পর্কে বলতে বললে আপনি ধরেই নিবেন না যে, উনারা আপনার সিভি দেখেছেন আপনি আর কি বলবেন। বরং আপনার উচিত নিজের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া কারণ অনেক ক্যান্ডিডেটের ভিতরে আপনার সিভি উনারা খেয়াল করে নাই দেখতে পারেন। তাই নিজের যোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তুলুন যেন বাদ না পড়ে যায়। সিভির বাহিরেও যদি কোন ভালও যোগ্যতা থাকে তাহলে সেগুলোও ফুটিয়ে তুলুন।

১০. এখানে চাকরী পেলে কোন দিকটা আপনার সবচেয়ে বেশি ভালও লাগবে; এমন প্রশ্নের জবাবে কখনই বলবেন না যে, আপনাদের স্যালারি, বার্ষিক ছুটি এগুলো আমার ভাল লাগবে। কারণ অবশ্যই উনারা আপনার কাছ থেকে আরও বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন আশা করেন। আপনার উচিত নিজের স্পার্টনেছ সেখানে দেখানো।

১১. নিজের নেতৃত্বের ভালও গুণ বলুনঃ এক্ষেত্রে এটা বলবেন না যে এখানে চাকরী পেলে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবো বরং বলুন আপনি কোন কোন ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভালও। আপনার কোন লিডিং অভিজ্ঞতা থাকলে সেটা শেয়ার করুন। আগে কোথাও লিড দিয়ে থাকলে সেটা বলুন।

এমন হাজারো বিষয় থাকে যেগুলো নরমাল সেন্সের মধ্যে পড়ে। সেগুলো সম্পর্কে আপনার অবশ্যই সচেতন থাকা উচিত। পড়াশুনার পাশাপাশি বাহিরের জগৎ এর জ্ঞানও আপনার রাখতে হবে। ভাল কিছু পাওয়ার জন্যে জীবনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, আপনিও তার ব্যতিক্রম নন। আর পরিশ্রমে সফলতা আসবেই, ইন শা আল্লাহ।

পরিশেষে,

ছোট ছোট অনেক ভুলের কারণে আমাদের চাকরী অনেক সময় হয় না। আমরা হয়ত বুঝতে পারি না সেটা, বা বুঝতে পারলে তখন আর কিছু করার থাকে না। তাই আমাদের উচিত সেগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা। উপরের সবকিছুর পাশাপাশি আমাদের অবশ্যই ভদ্র আচরণ করা উচিত, আমাদের কথা বার্তাই যেন বেয়াদবি ভাব না আসে সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত। নিজেকে বার বার ঘষামাজা করে চাকরী ভাইভা নামক যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত করতে হবে। মেধা, বুদ্ধি, আচার-আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ ও সুন্দর কথাবার্তা সবকিছুর সংমিশ্রণে একটা ভালো জব পাওয়া যায়। তাই আপনার উচিত এগুলো প্রতি মনোযোগী হওয়া তাহলেই আপনি ভালো একটা জব পাবেন, ইন শা আল্লাহ।


Offer Source: Plz, click here to show
Offer Id: 923
Company Name: Selltoearn.com
Contact No.: 01823660266
E-mail: selltoearn.com@gmail.com
Business Type: Career
Location: Anywhere in Bangladesh
Offer Title: চাকুরীদ্বাতার নিকট হতে কি করে ইন্টারভিউ কল পাওয়া যায়- ক্যারিয়ার হিসেবে কোনটি বেছে নিব - ‘চাকুরী’ না ‘ব্যবসা’

Offer Details:

চাকুরীদ্বাতার নিকট হতে কি করে ইন্টারভিউ কল পাওয়া যায়- ক্যারিয়ার হিসেবে কোনটি বেছে নিব - ‘চাকুরী’ না ‘ব্যবসা’

জনসংখ্যার অনুপাতে চাকুরির ক্ষেত্র খুবই কম আমাদের দেশে। তাই প্রচুর পরিমানে চাকুরির আবেদন করার পরও চাকুরিত হয়ই না এমনকি চাকুরীদ্বাতার নিকট হতে অনেকের কলও আসে না। তাহলে দেখুন কিভাবে আপনি কল পাবেনই ইনশাল্লহ্ যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।

দুটি বিষয়ে খুব ভালভাবে খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত এমপ্লোয়ার অর্থাৎ চাকুরীদ্বাতার অর্থনৈতিক অবস্থা এবং এমপ্লোয়ার ট্রেন্ডস্ এন্ড জব সেন্টিমেন্টস (চাকুরীদ্বাতার ঝোঁক এবং চাকুরী দেয়ার মনোভাব)।

আরএকটি ব্যাপার তা হল সকল চাকুরীদ্বাতাই চাকুরী দেয়ার উদ্দেশ্যে পত্রিকায় বা অনলাইনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন না। এছাড়াও চাকুরিদ্বাতা নিজেও অথবা তার কর্মী দিয়েও সিভি শর্টলিস্ট করাতে পারেন। সেক্ষেত্রে আবারও দুটি কাজ করতে হবে। তা হল এমপ্লোয়ার ট্রেন্ডস্ (চাকুরীদ্বাতার ঝোঁক) এবং তার এসিস্ট্যান্ট কর্মীর মাধ্যমে সিভি শর্ট লিস্ট করা হলে তার ট্রেন্ডস্ বা ঝোঁক/প্রবণতা বুঝতে হবে।

১. এমপ্লোয়ার ট্রেন্ডস্ এন্ড জব সেন্টিমেন্টস (চাকুরীদ্বাতার ঝোঁক এবং চাকুরী দেয়ার মনোভাব) বুঝার ওপায়।: প্রথমত, চাকুরিদ্বাতার সম্পূর্ণ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ভালভাবে পড়তে হবে। পড়লে দেখা যাবে সেখানে তিনি বিশেষ বিশেষ কিছু শর্ত আরোপ করে দেন। এই শর্তসমূহের নূন্যতম ৯৫% শর্ত আপনাকে ফিল আপ করতে হবে। শর্তসমূহ কিভাবে পূরণ করবেন:

১. উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে সকল কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি ও বেসরকারিভাবে তিন গ্রেডের হয়ে থাকে যেমন- ফার্স্ট গ্রেড, সেকেন্ড গ্রেড, থার্ড গ্রেড বা বিলো থার্ড গ্রেড।

বাংলাদেশের কোম্পানিসমূহের নাম বলতে চাচ্ছিনা তাহলে কোন না কোন ভাবে পক্ষপাত হয়ে যেতে পারে।

(ক) সর্ব প্রথম শর্ত হল: কর্মী মাসিক বেতন

ফার্স্ট গ্রেড (বেসরকারি) (সরকারি বেতনের স্কিল একটু ভিন্নভাবে ক্যালকুলেট করা হয়) ফ্রেশার বা অনভিজ্ঞ: (৩৫,০০০ - ৪৫,০০০ টাকা)

মিডেল এক্সপেরিয়েন্সড বা মাঝামাঝি অভিজ্ঞ: ( ১ থেকে ১.৫ লক্ষ) হাই এক্সপেরিয়েন্সড বা সর্বোচ্চ অভিজ্ঞ: (৩ থেকে ৫ লক্ষ)

সেকেন্ড গ্রেড (বেসরকারি)

ফ্রেশার বা অনভিজ্ঞ: (২০,০০০ - ২৫,০০০ টাকা) মিডেল এক্সপেরিয়েন্সড বা মাঝামাঝি অভিজ্ঞ: ( ৬০ থেকে ৮০ হাজার) হাই এক্সপেরিয়েন্সড বা সর্বোচ্চ অভিজ্ঞ: (১.৫ থেকে ২ লক্ষ)

থার্ড গ্রেড (বেসরকারি)

ফ্রেশার বা অনভিজ্ঞ: (১৫,০০০ - ২০,০০০ টাকা) মিডেল এক্সপেরিয়েন্সড বা মাঝামাঝি অভিজ্ঞ: ( ৪০ থেকে ৫০ হাজার) হাই এক্সপেরিয়েন্সড বা সর্বোচ্চ অভিজ্ঞ: (৮০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ)

বিলো থার্ড গ্রেড (বেসরকারি)

ফ্রেশার বা অনভিজ্ঞ: (৫,০০০ - ১২,০০০ টাকা) মিডেল এক্সপেরিয়েন্সড বা মাঝামাঝি অভিজ্ঞ: ( ২০ থেকে ৩০ হাজার) হাই এক্সপেরিয়েন্সড বা সর্বোচ্চ অভিজ্ঞ: (৪০ থেকে ৫০ হাজার) অতএব, আপনি যদি এখন কোন কোম্পানিতে আপনার পজিশন বা যোগ্যতা অনুসারে আবেদন করতে যান আর আপনার এক্সপেকটেড সেলারি যদি কোম্পানির গ্রেডের অনুপাতে অনেক বেশি অথবা খুবই কম হয় তাহলে নিশ্চয় আপনি চাকুরীদ্বাতার নিকট হতে কোন প্রকার ইন্টাভিউ কল পাবেন না।

(খ) দ্বিতীয় শর্ত হল: শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতা: শিক্ষাগত যোগ্যতা হল অন্যতম প্রধান হাতিয়ার কোন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর আবেদন করার নূন্যতম যোগ্যতা হিসেবে। আর অভিজ্ঞতা আর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক যেটি অনেক সময় শিক্ষগত যোগ্যতাকেও হার মানায়।তবে শিক্ষা হল মানুষের নৈতিক আচরণ ও মনুষত্ববোধের সৃষ্টি করে এবং আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটায়।তাই শিক্ষা অর্জণ বাধ্যতামূলক হওয়া উচিৎ।ফ্রেসার অর্থাৎ যারা এখনও চাকুরি পাননি তারা ইনটার্ন জব করতে পারেন যেখানে একটু্ হলেও অভিজ্ঞতা অর্জণ করা সম্ভব।

চাকুরি কিভাবে পাব বা কিভাবে ইন্টারভিউ কল পাব:

প্রবাদে আছে "কষ্ট ছাড়া কেষ্ট মিলে না" অর্থাৎ আপনি যদি পরিশ্রমি না হোন তাহলে ভালো কিছু অর্জন করতে পারবেন না। বর্তমানে চাকুরীর বাজার খুবিই কম্পিটিটিভ, আর তাই আপনাকে আপনার স্বপ্নের চাকুরী পাওয়ার জন্যে বাকী সবার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে কঠোর পরিশ্রমি হতে হবে, কৌশলি হতে হবে।

চাকরী বাজার বর্তমানে এত সহজ না আর। তার চেয়ে কঠিন আপনি যেখানে চাকরী দিতে যাবেন তারা অর্থাৎ যারা ইন্টারভিউ নিবেন। তারা কেমন প্রশ্ন করবেন কেমন উত্তর দিতে হবে এই বিষয় আরও জটিল। জটিল এই কারণেই কারণ বর্তমানে চাকরীর প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারাও নিত্যনতুন পদ্ধতিতে বের করেন চাকরী দেওয়ার জন্যে। তারাও সিভি দেখার সময় এমন প্রার্থী চান যাদের সাথে কম্পানির চাহিদা ম্যাচ করে আরও এক্সট্রা কিছু থাকবে। তাই আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু চাকরীদ্বাতার নিকট হতে কিভাবে ইন্টারভিউ এর জন্যে কল পাওয়া যায়।

মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে আমাদের জানা উচিত চাকরী কি?

চাকুরী একটি কর্মকাণ্ড বা কাজ যা সাধারণত নিয়মিত করা হয় এবং অর্থ বিনিময়ের মাধ্যম তাতে যুক্ত হতে হয় অর্থাৎ টাকার সাথে সম্পর্কিত হতে হয়| চাকরী মানে আরো বোঝায় একজন ব্যক্তি যেভাবে আয় রোজগার করে বা তার টাকা ইনকামের পদ্ধতি। চাকরি মানে আরো বোঝায় যে একজন ব্যক্তি কারোর কর্মচারী হয়ে কাজ করে তার কাছ থেকে বেতন পায়।

উদাহরণস্বরূপঃ একজন শিক্ষক শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ককে শিক্ষা দিয়ে থাকেন কিন্তু বিনিময়ে তিনি একটি নির্দিষ্ট অর্থ পেয়ে থাকেন, একজন ট্যাক্সি চালক যাত্রী এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে যায় এবং তার জন্য ভাড়া পাঁয়। এভাবে মানুষ সমাজে প্রচিলিত উপায়ে যে টাকা ইনকাম করে তাই চাকরী। এবার আসা যাক মূল বিষয়ে। আমাদের বাংলাদেশে দুই ধরণে চাকরী মানুষ খুঁজে;

১. সাধারণ চাকরী
২. ডিফেন্স

সাধারণ চাকরী আবার তিন রকমের হয়ে থাকে যেমনঃ সরকারী, প্রাইভেট ও বিসিএস। ডিফেন্সের আলাদা নিয়ম। সরকারী বা বিসিএস এই জবগুলোর জন্যে আপনাকে প্রিলি, রিটেন দিয়ে তারপর মেইন ভাইভাতে যেতে হবে। এই টপিকে অন্য একদিন বিষধ আলোচনা করা যাবে। রয়ে গেল প্রাইভেট চাকরী। এই জবের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় আগে ইন্টারভিউ এর জন্যে ডাকে। আর সেই জন্যে আপনাকে সিভিতে অনেক বেশি কৌশলি হতে হবে। সাধারণত এই জবগুলো বিডি জবসের মাধ্যমে মানুষ অ্যাপ্লাই করে থাকে।

আজকাল বেশির ভাগ মানুষ উচ্চ শিক্ষিত। সমস্যা হয়েছে এই জায়গায়, সবাই শিক্ষিত হওয়ায় ক্যান্ডিডেটের মধ্যে যে বেশি গুণ সম্পন্ন তাকেই ডাকা হয়। কিছু গুণ আছে যা জানা আবশ্যক, তা নিম্নে তুলে ধরা হলো এই গুণ গুলো যদি আপনার মধ্যে থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই ইন্টারভিয়ের জন্যে ডাক পাবেন;

১. কম্পিউটার জানাঃ বর্তমানে ছোট কিংবা বড়, সরকারি কিংবা বেসরকারী যেকোন চাকরীর ক্ষেত্রে কম্পিউটার জানা থাকাটা আবশ্যক। কোন কোন চাকরীর স্যারকুলারে ক্ষেত্রে তো কম্পিউটার জানা আবশ্যক এটা লিখেই দেয়। এখন আপনি জিজ্ঞেস করতেই পারেন কম্পিউটারের কোন বিষয়গুলো উপর সাধারণ প্রাধান্য দিয়ে থাকে? কম্পিউটারে মাইক্রোসম্ফটের এম.এস, এক্সসেল, পাওয়ার পয়েন্ট এই তিনটা কাজ জানা আপনার জন্যে আবশ্যক। বিশেষ করে এক্সেল এর কাজ আজকাল সকল ক্ষেত্রে প্রয়োজন পরে। কারণ এই এক্সসেলে দৈনন্দিন সকল কিছু হিসাব রাখা হয়।

ছোট কিংবা বড় প্রতিষ্ঠান হোকা না কেন হিসাব রাখা ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। কারণ হিসাব যদি না রাখেন তাহলে লাভ বা ক্ষতি বুঝবে কি করে? আর বড় বড় মাল্টিনেশনাল কম্পানির ক্ষেত্রে পাওয়ার পয়েন্টে কাজ জানাটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা আপনি আবশ্যক ও বলতে পারেন।

যেমনঃ চায়না কোন কম্পানির সাথে আপনি ১ কোটি টাকার কোন প্রজেক্ট করতে যাচ্ছেন হতে পারে সেটা কোন দর্শনীয় স্থান যা কিনা যৌথ উদ্যযোগে হবে এবং লভ্যাংশ দুই দেশই নিবে। এখন আপনি এই প্রজেক্টটা কিভাবে দেখাবেন? খাতায় কলমে? নিশ্চয় না এটা আপনাকে পাওয়ার পয়েন্টে করে কম্পিউটারে স্ক্রিনে করে দেখাতে হবে কেননা এটাই স্ট্যান্ডার মেথড। পুরু বিশ্ব এইভাবেই চলছে। তাই আপনাকে সেই সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে।

কি ভাবছেন? তাহলে এক্সসেল আর পাওয়ার পয়েন্টের কাজ জানলেই হবে? মাইক্রোস্ফট এম.এস এর কাজ আর জানতে হবে না? অবশ্যই জানতে হবে। না একদমই নয়, আপনাকে এম.এস এর কাজও জানতে হবে। ধরেন আপনার অফিসের বস আপনাকে বললো কামাল সাহেব একটা কম্পানির জন্যে একটা ফরমাল লেটার লিখে নিয়ে আসুন। এখন আপনি এটা এক্সসেল কিংবা পাওয়ার পয়েন্টে লিখতে পারবেন না, লিখতে হবে এম.এস এ।

আর আপনি এম.এস এর কাজ জানেনও না, তখন আপনাকে অন্য কলিগের উপর ভরসা করতে হবে। কিন্তু না কি আপনি আপনার বসকে বলতে পারবেন? তাহলে আপনার জন্যে উপরের তিনটি কাজ জানাই আবশ্যক। আর যদি জানেনে তাহলে সিভিতে কম্পিউটার এক্সিলেন্সি এক্সিলেন্ট দিবেন। আর এতে করে আপনার ইন্টারভিউ কল পাওয়া সম্ভাবনা অন্য সবার চেয়ে বেড়ে যায়।

২. এক্সট্রাকারিকুলাম একটিভিটিসঃ যদি ধরেন আপনার জবটা হয় মার্কেটিং এর সেই ক্ষেত্রে আপনাকে ট্রাভেল করতে হবে, ভালো করে কথা বলতে হবে। তাহলে আপনার যদি ডিবেটের অভিজ্ঞতা থাকে, এবং আপনি ঘুরতে ভালবাসেন সেটা আপনার জন্যে প্লাস পয়েন্ট হবে।

আপনি লিখবেন আপনি ডিবেটর, আপনি ঘুরতে ভালবাসেন, আপনারা তারাতারি নতুন কিছু শিখতে পারেন এবং সর্বশেষ আপনি দলভুক্ত হয়ে কাজ করতে পারেন কারণ আপনার মতে লিড দেওয়ার গুণ রয়েছে কারণ আপনি ধৈর্য্যশীল মানুষ। আবার আপনাকে যদি কোন ইনোভেটিভ কাজের জন্যে ডাকে তাহলে আপনার মধ্যে ক্রিয়েটিভ কি গুণ আছে সেটা ওনারা দেখবে। তাহলে এই গুণগুলো আপনার মধ্যে এক্সট্রা যা অন্য কারও মাঝে নাই, সেই ক্ষেত্রে আপনার ইন্টারভিউ কল পাওয়া সম্ভাবনা অন্য সবার চেয়ে বেড়ে যায়।

৩. ইংরেজীর উপর ভালো দক্ষতা থাকাঃ ইংরেজী আন্তর্জাতিক ভাষা হওয়ায়, এই ভাষার গুরুত্ব অধিক। শুধু কি ইংরেজি কথা বলা? না ইংরেজি বলা, লিখা ও শুনতে পারা প্রত্যেকটি বিষয়ের দক্ষতার গুরুত্ব অনেক।

এখন অনেক স্যারকুলারে লিখেই দেয় গুড কমান্ড ওভার ইংলিশ। যারা ইংরেজি ভাল জানে তাদের ইন্টারভিউ কল পাওয়া সম্ভাবনা অন্য সবার চেয়ে বেড়ে যায়। যেমনঃ আজকাল বেশির ভাগ কম্পানিই আছে যারা বাহিরের দেশের সাথে ডিল করে থাকেন। তাহলে সেই ক্ষেত্রে বস নিশ্চয় সব সময় নিজে করবেন না। বস উনার অধিভুক্ত কর্মচারীকে দিবেন। আর কর্মচারী যদি ঠিকমত বুঝাতে ব্যর্থ হোন তাহলে প্রজেক্টটা ফেইল হয়ে যাবে। সেই ক্ষেত্রে কম্পানির অনেক টাকার লস হয়ে যাবে তাই মালিক আগে থেকেই চান ইংরেজী ফ্লুয়েন্টলি কথা বলতে পারেন, এমন কেউ আসুক তার কম্পানিতে। তাহলে কম্পিউটারে যদি আপনি ভালো হোন তাহলে সেই ক্ষেত্রে আপনার ইন্টারভিউ কল পাওয়া সম্ভাবনা অন্য সবার চেয়ে বেড়ে যায়।

৪. বহু ভাষায় দক্ষতাঃ আবার এমন যদি হয় আপনি ইংরেজীর পাশাপাশি উর্দু, হিন্দি কিংবা কোরিয়ান ভাষায় দক্ষ মানে হচ্ছে আপনি অনর্গল কথা বলতে পারেন বুঝতে পারেন তাহলে এটাও আপনার জন্যে প্লাস পয়েন্ট এবং ইন্টারভিউ হোল্ডারদের জন্যে বাড়তি পাওয়া।

কারণ আপনার সিভি দেওয়া কম্পানি যদি হয় মাল্টিনেশনাল এবং তাদের বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে বাণিজ্য হয়ে থাকে তাহলে তাদের এমন এমপ্লয়ি লাগবে যারা কিনা অনেক ভাষায় কথা বলতে পারেন। আজকাল এই বহুভাষায় দক্ষ প্রার্থীদের অন্য সাধারণ প্রার্থী থেকে অনেক বেশি প্রায়ুরিটি দেওয়া হয় ফলে ঔই সব প্রার্থীদের ইন্টারভিউ কল পাওয়া সম্ভাবনা অন্য সবার চেয়ে অধিক পরিমাণে বেড়ে যায়।

৫. আলাদা কোন বিষয়ে ট্রেইনিং থাকাঃ কম্পিউটার বা যদি অন্য কোন বিষয়ে ট্রেনিং থাকে তাহলে সেটা চাকরী ইন্টারভিউ কল পাওয়ার জন্যে একটা প্লাস পয়েন্ট। যেমন হতে পারে আপনার তথ্য প্রযুক্তি কিংবা কোন মহান ব্যক্তি বর্গ যারা সাধারণত যুগপোযগী বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার করেন এবং আপনি যোগ দিয়েছেন তাহলে সেই সার্টিফিকেট আপনি চাইলে অ্যাড করতে পারেন।

এছাড়া অনার্স কিংবা মাস্টার্স এর পর বিষয় ভিত্তিক বিষয় ভিত্তিক বিষয়ের ওপর আলাদা কোর্স ছয়মাস কিংবা বছর ভিত্তিক করতে পারেন যেটা কিনা আপনি সিভিতে যুক্ত করতে পারেন ফলে আপনার ইন্টারভিউ কল পাওয়া সম্ভাবনা অন্য সবার চেয়ে বেড়ে যায়।

৬. ভালো রেফারেন্স দেওয়াঃ সিভি সমাজে উচ্চ পদস্ত মানুষের যারা আপনাকে চিনে হতে পারে ভার্সিটি টিচার কিংবা কোন সরকারি প্রথম প্রর্যায়ের অফিসার তাদের রেফারেন্স দিতে পারেন। ফলে এটা আপনার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময় উচ্চ পদস্ত মানুষের রেফারেন্স দেখলেও আপনার ইন্টারভিউ কল পাওয়া সম্ভাবনা অন্য সবার চেয়ে বেড়ে যায়।

যেহেতু আমাদের সমাজে বর্তমানে উচ্চ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাই বেশি তাই আপনাকে নিজের মধ্যে আলাদা কিছু পরিপূর্ণ করতে হবে। যাতে করে সিভি দেখা মাত্রই ইন্টারভিউ বোর্ডের মানুষ আপনাকে ডাকে ভাইভা নিতে। মনে রাখতে হবে যোগ্য মানুষ কখনো হেরে যান না, হাজারো মানুষের ভিড়ে তারা তাদের স্থান ঠিকিই করে নেন। আশা করি উপরের ছয়টি বিষয় যদি আপনার সিভিতে থাকে তাহলে অবশ্যই ইন্টারভিউয়ের জন্যে ডাকবে, ইন শা আল্লাহ।

কোন চাকুরী না পেলে কি বেকার থাকবো নাকি কোন ব্যবসা শুরু করে দেব? অথবা কি করবো ?

কোন চাকুরী না পেলে কি বেকার থাকবো নাকি কোন ব্যবসা শুরু করে দেব? অথবা কি করবো ?

আমাদের জীবনকে সুন্দর ভাবে গড়ে তোলার জন্য প্রতিনিয়তই আমরা কোনো না কোনো কাজের উপর নির্ভরশীল। কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে আমরা পরিবারের চাহিদাগুলো পূরন করার চেষ্টা করি। অনেকে পরিবারের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্থ উপার্জন করে আবার অনেকে তুলনামূলক খুব কম অর্থ উপার্জন করে। এই অর্থ আয়ের যে প্রক্রিয়াটা সেটা পুরোটাই নির্ভর করে কাজের উপর। আপনি কি কাজ করেন, কোন ধরনের কাজ করেন, কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেন, সেই প্রতিষ্ঠানের পরিধি কেমন, বিস্তার কতটা এসব কিছুর উপর নির্ভর করে যে আপনার কতটুকু লাভ হচ্ছে।

✔ এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে ব্যবসায় না চাকুরি কোন কাজের মাধ্যমে আপনি অর্থ উপার্জন করছেন আর সেটা আপনার জন্য কতটা লাভজনক হয়েছে।
✔ অনেকের মাঝেই এমন প্রশ্ন বিদ্যমান থাকে যে আসলে ব্যবসায় আর চাকুরির মধ্যে কোনটা করলে আমি বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবো।
✔ তাই আজ আমরা ব্যবসায় এবং চাকুরি নিয়ে আলোচনা করবো এবং বিস্তারিত জানবো যে কোনটির মাধ্যমে আমাদের খুব বেশি অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কিভাবে লাভবান হওয়া যায় ??

ব্যবসায় হচ্ছে বিভিন্ন পন্য, শিল্প, নিয়ে গঠিত। যার ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক তৈরি হয় লেনদেনের মাধ্যমে। যে কোনো ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্যই থাকে মুনাফা অর্জন। এবং তাদের লক্ষ্য থাকে জনগনের চাহিদা ও প্রয়োজনমতো যেকোনো পন্য সরবরাহ করা। ফলে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অনেক কম সময়ে তাদের আয় বৃদ্ধি করতে পারে।

☑ ব্যবসায়কে কাজে লাগিয়ে কিভাবে লাভবান হওয়া যায় :

▪ জনগনের চাহিদাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে পন্য সরবরাহ।
▪ পণ্য আকর্ষনীয় করার জন্য প্রয়োজনীয় প্যাকেজিং, স্লোগান ও লগো তৈরি।
▪ প্রয়োজনে অধিক পন্য সংরক্ষন, সংযোজন যাতে জনগন চাওয়া মাত্রই পন্য দেওয়া সম্ভব হয়।
▪ শুধুমাত্র একটি পন্য নয়, চাহিদা সম্পন্ন বিভিন্ন পন্য নিয়ে কাজ করা। এভাবে পূর্ব পরিকল্পনার মাধ্যমে সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করলে খুব সহজেই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান লাভবান হতে পারে। যদিও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গুলোর অনেক সময় বিভিন্ন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। তাই উচিত ঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রনয়ণ।

চাকুরি ক্ষেত্রে কিভাবে লাভবান হওয়া যায় ??

চাকুরি হচ্ছে কোনো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থেকে সেই প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা। চাকুরি ক্ষেত্রে যে অর্থ উপার্জন করা হয় সেটা নির্দিষ্ট সময়ে বৃদ্ধি পায়। তাই এখানে লাভবান হওয়ার সুযোগ খুবই কম। তবে চাকুরির মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। এই চাকুরি দুই রকমের হয়ে থাকে যেমন:

1. সরকারি চাকুরি।
2. বেসরকারি চাকুরি।

সরকারি চাকুরি :- এই চাকুরির অর্থ সরকার দ্বারা প্রদত্ত তাই এই চাকুরিতে অর্থজনিত ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। মাসভিত্তিক সময় মতো অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা সবসময় বিদ্যমান। বরং এখানে নানা রকম সুবিধা রয়েছে। যেমন: প্রধান ধর্মীয় উৎসবে বোনাস, বিভিন্ন ভাতা, প্রতি বছরে বেতন কিছুটা করে বৃদ্ধি পাওয়া এবং চাকুরি শেষকালীন সময়ে পেনশন। তাই এই চাকুরিতে অর্থগত ঝুঁকি বা লোকসান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

বেসরকারি চাকুরি:- এই চাকুরি যে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত তাই যদি কোনো প্রতিষ্ঠানটি কোনো রকম অর্থজনিত ক্ষতির সম্মুখীন হয় তাহলে সেখানে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি কর্মচারীদের কিছু সময়ের জন্য অর্থজনিত সমস্যায় পরতে হয়। কারন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পন্য বা শিল্পের সাহায্যে ভোক্তা বা জনগনদের সেবা প্রদান করে অর্থ আয় করে । বিদেশে পন্য রপ্তানি করেও অর্থ আয় করে। এরকম অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে আমাদের দেশে। সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাও অনেক এক প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্য প্রতিষ্ঠানের। যে প্রতিষ্ঠান যত ভালো সার্ভিস দিতে পারে সেই প্রতিষ্ঠান ততটাই লাভবান হতে পারে। ফলে সব প্রতিষ্ঠান সবসময় সমানভাবে আয় করতে পারে না কখনো কম বা কখনো বেশি । এমনকি অনেক সময় অনেক বড় বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় যার জন্য কর্মচারীদের কয়েক মাসের বেতন দিতে অক্ষম হয়ে যায় প্রতিষ্ঠান। সেই সময় কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ চালু রাখে আর কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখে কয়েক মাস বা বছরের জন্য। তখন কর্মচারীদের অর্থজনিত সমস্যা বৃদ্ধি পায়। এমনকি চাকুরি চলে যাওয়ার ও সম্ভাবনা থাকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যখন অনেক পরিমানে লোকসান দেখা যায়। যে কাজের মাধ্যমে কর্মচারীরা অর্থ উপার্জন করে। সেই কাজ যখন বন্ধ হয় তখন পরিবারের বহন খরচ তাদের জন্য দুরূহ হয়ে পরে। এভাবেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজের মাধ্যমে কখনও লাভবান হয় আবার কখনও অনেক ক্ষতির সম্মুখীন ও হয়। লাভবান হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায় ও চাকুরি কাজের মাধ্যমে কি একে অন্যের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত ??

হ্যাঁ, নীতিগত ভাবে যেকোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান চাকুরির সাথে সম্পর্কিত কারণ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অনেক কর্মচারীরা চাকুরিরত অবস্থায় থাকেন। এমনকি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো কাজের মাধ্যমে কর্মচারিদের নির্দিষ্ট সময়ে বেতন প্রদান করে। অনেক সুবিধাও গ্রহন করেন কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে। প্রধান ধর্মীয় উৎসবে বোনাসও পায় কর্মচারিরা তাই বলা যায় ব্যবসায় চাকুরির সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত। তবে সব চাকুরি ব্যবসায়ের সাথে সম্পর্কিত নয়। এমন অনেক চাকুরি রয়েছে যা মানুষেকে সেবা দেওয়ার মাধ্যমে অর্থ আয় করে থাকে। যেমন : ডাক্তার, শিক্ষক । নীতিগত দিক দিয়ে ডাক্তারি এবং শিক্ষকতার চাকুরি কোনো রকম ব্যবসায়ের বা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন নয়। এই পেশার কর্মরত ব্যক্তিরা সরকারি ও বেসরকারি দুই রকম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে সেবা প্রদান করেন। তাই বলা যায় ব্যবসায় ও চাকুরি একে অন্যের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত থাকলেও সবরকম চাকুরি ব্যবসায়ের সাথে জড়িত নয় কিন্তু সব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান চাকুরির সাথে জড়িত। তাই লাভবান হওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও চাকুরি একে অন্যের সাথে জড়িত।

✔ ব্যবসায় ও চাকুরি মানুষ দ্বারা সংগঠিত। অনুকূল ও প্রতিকূল পরিবেশকে কেন্দ্র করে কাজ করা হয় প্রতিটা প্রতিষ্ঠানেই। তাই যেকোনো সময় পরিস্থিতি ভালো হতে পারে মন্দও হতে পারে, এই সবকিছুর উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠনের আয়-ব্যয়, লাভ-লোকসান, ঝুঁকি ইত্যাদি ।

✔ অর্থাৎ, চাকুরির তুলনায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে লাভবান হওয়াটা সহজ তবে ব্যবসায়ে লাভ-লোকসান, ঝুঁকি নিয়ে সংগঠিত ফলে সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে যেকোনো সময় লাভের অর্থ লোকসানে পরিনত হতে পারে । কিন্তু চাকুরিতে তেমন কোনো ঝুঁকি থাকে না । যদি বেসরকারি চাকুরি হয় তবে সেখানে কিছু ঝুঁকি থাকে তার মধ্যে রয়েছে, সময় মতো বেতন না পাওয়া এবং যেকোনো সময় চাকুরি শেষ হয়ে যাওয়া।

উপসংহার...

পরিশেষে বলা যায় আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে কাজই করি না কেন সেটা ব্যবসায় হোক বা চাকুরি এই দুটোই আসলে একে অন্যের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত থেকে লাভবান হওয়ার জন্য কাজ করে। আসলে আমরা একে অন্যের সাথে এতোটাই তুলনা করতে অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছি তাই সবসময় আমরা ভাবি যে কোন কাজ ভালো, কোন কাজ মন্দ, কোন কাজে অধিক অর্থ উপার্জন করা যায়, কোন কাজে কম অর্থ উপার্জন হয়, তবে আমরা ভুলে যাই যে যেকোনো কাজই প্রকৃতপক্ষে পরিশ্রমকে কেন্দ্র করে সংগঠিত হয়। কিছু কাজে খুব বেশি পরিশ্রম করতে হয় এবং কিছু কাজে তুলনামূলক পরিশ্রম কম। কিন্তু পরিশ্রম করতেই হবে সেটা হোক ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বা চাকুরির ক্ষেত্রে। তাই বলা যায়, সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিশ্রম করেই যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে লাভবান করা সম্ভব।


Offer Source: Plz, click here to show
Offer Id: 922
Company Name: Habib IT & English Solution Center
Contact No.: 01823660266
E-mail: selltoearn.com@gmail.com
Business Type: Education/Training
Location: GAZIPUR
Offer Title: ইংরেজি ও কম্পিউটার শেখানো হয় !!!

Offer Details: ইংরেজি ও কম্পিউটার শেখানো হয় !!!
ঠিকানা: সাহেব বাজার, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মোবাইল নং: 01823-660266, 01920-325316
বিস্তারিত আরও জানতে ভিজিট করুন: Web & FB/Selltoearn.com
Offer Source: Plz, click here to show
Offer Id: 921
Company Name: Selltoearn.com
Contact No.: 01823660266
E-mail: habiburpali@gmail.com
Business Type: Career
Location: GAZIPUR
Offer Title: বিক্রয়কর্মী ও কম্পিউটার অপারেটর আবশ্যক

Offer Details: বিক্রয়কর্মী কাম কম্পিউটার অপারেটর আবশ্যক (পুরুষ ও মহিলা)
কর্মস্থল: সাহেব বাজার, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
পদের সংখ্যা: ০২ ।
যোগ্যতা: নূন্যতম এসএসসি পাশ।
অন্যান্য: ইন্টারনেট ও কম্পিউটার চালানো জানতে হবে ।
বেতন ও অন্যান্য সুবিধা: আলোচনা সাপেক্ষে।
ই-মেইলের মাধ্যমেও পাঠানো যাবে নিচের এই ঠিকানায়:
 selltoearn.com@gmail.com
 info@selltoearn.com
আবেদনপত্র, সিভি (অবশ্যই মোবাইল নাম্বার উল্লেখ করতে হবে), সম্প্রতি তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙ্গিণ ছবি, নিজের এবং পিতামাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি অথবা
জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি সরাসরি জমা দেয়া যাবে নিচের নাম্বারে কল করে (ঠিকানা: সাহেব বাজার, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।):
 01823-660266
 01920-325316
সেলটুআর্ন ডট কম।
সাহেব বাজার, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
Offer Source: Plz, click here to show
Offer Id: 920
Company Name: Selltoearn.com
Contact No.: 01823660266
E-mail: selltoearn.com@gmail.com
Business Type: Education/Training
Location: Anywhere in Bangladesh
Offer Title: হতাশা বা মানসিক অবসাদ কি ? বর্তমানে এই কঠিন পরিস্থিতে হতাশা থেকে নিজেকে কিভাবে মুক্ত রাখবেন ?

Offer Details:

হতাশা বা মানসিক অবসাদ কি ? বর্তমানে এই কঠিন পরিস্থিতে হতাশা থেকে নিজেকে কিভাবে মুক্ত রাখবেন ?

হতাশা বা মানসিক অবসাদ কি ? বর্তমানে এই কঠিন পরিস্থিতে হতাশা থেকে নিজেকে কিভাবে মুক্ত রাখবেন ?

হতাশা শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ হল হত+আশা = হতাশা। অর্থাৎ প্রত্যাশিত কোন কিছু হতে যে বিপরীত বা হত আশার পুন:জন্ম হয় তাই হতাশা। মানুষ অনেক ক্ষেত্র হতে হতাশাগ্রস্ত হয়। ব্যাপক প্রাপ্তির আশায় বুক বেধে মানুষ যখন নিরাশ হয় তখন সে বরই অসহায় হয়ে পরে। আর হতাশার পরিমান যখন সর্বোচ্চ অবস্থায় অবস্থিত হয় তখন মানুষ এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার ইচ্ছা ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলে আর তখনই সে ঘটায় মারাত্মক দুর্ঘটনা এমনকি হতে পারে আত্মহত্যা যা আমাদের কারোও ক্ষেত্রে কাম্য নয়। মনিষিগণ বলে থাকেন “আপনি কখনই হতাশ হবেন না; মনে রাখবেন আজ হয়তো আকাশে অনেক মেঘ, কাল কোন সূর্য্যের অস্তিত্ব দেখা যাবে না কিন্তু অবশ্যই এমনও একটি দিন আসবে যে দিন আকাশে কোন মেঘ থাকবে না এবং সূর্য্য দেখা যাবে খুব ভালভাবে”

হতাশা নামক এই ব্যাধির সবচেয়ে প্রধান প্রতিষেধক হল নিজেকে সব সময় কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত রাখা।

প্রতিটি মানুষের জীবনে উথ্যান পতন রয়েছে। যে জীবনে ঝুঁকি, প্রত্যাশা, অপ্রাপ্তি, ব্যর্থতা, পরাজয় নেই সে জীবনে সাফল্যের মধ্যে প্রকৃত সুখ নেই।

হতাশা বা মানসিক অবসাদ বা depression এই প্রত্যেকটি শব্দ একটি শব্দের সমার্থক শব্দ যা কিনা যেকারো জীবনে বিনা অনুমতিতে এসে তার জীবন এর রং পাল্টে দিয়ে যায়। করোনা মহামারীর মত হতাশাও এক ধরণের মহামারীর মত হয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশে। পত্রিকার পাতা খুললে এমন কোন দিন পাওয়া দুষ্কর যেদিন হতাশায় পরে মানুষ আত্নহত্যা করে নি!!

এই হতাশায় ভুগতে দেখা যায় আজকাল স্কুল ও কলেজের ছেলেমেয়েদের, কিন্তু তাদের কিসের হতাশা যাদের জীবনের শুরুই এখনও হয়নি?

কি এই হতাশা? (What is depression?) কি কারণে মানুষ হতাশায় পরে? কি করে বোঝতে পারবো কেউ হতাশায় আছে? কি এমন হয় যে মানুষ হতাশায় ডুবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটা জীবন ত্যাগ করতেও কুন্ঠিত বোধ করে না? যদিও সে জানে যে তার আর এই পৃথিবীতে ফিরে আসার কোন সুযোগ নেই। এর থেকে মুক্তির কি উপায়?হতাশাকে যদি বইয়ের ভাষায় সংজ্ঞায়িত করি তাহলে দাঁড়ায়, কোন কিছুর ইচ্ছেপূরণ না হলে বা কাজের আশানুরূপ ফল না পেলে যে মানসিক অবসাদের সৃষ্টি হয় তাই হলো হতাশা। মানুষের তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব না হলে হাল ছেড়ে দেয়ার প্রবণতা-ই হতাশার লক্ষণ।

হতাশা একটি মানবিক অনুভূতি যার মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি কখনও মানসিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে যার ফলাফল সরূপ সে তার জীবন শেষ করে দেয় বা অনেক সময় অনেক অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে থাকে। বর্তমান সময়ে মানুষ নানা কারণে হতাশায় পড়ে থাকে। আমরা সকলেই এক বীভৎস সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যা থেকে চাইলে রাতারাতি উৎরানো সম্ভব না৷ এই কারণে অনেকেরই চাকরী চলে গেছে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের (আইএলও) তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি।

নিম্নে হতাশার কিছু কারণ উল্লেখ করা হলো;
১.বিশাল সংখ্যক বেকার মানুষদের নতুন কর্মসংস্থান না পাওয়ার হতাশা,
২.নতুন চাকরী প্রার্থীদের চাকরী পরীক্ষা না দিতে পারার হতাশা,
৩.ছেলমেয়েদের মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ার হতাশা,
৪.টিকটক ভিডিও গেমস না খেলতে দেওয়ার হতাশা,
৫.উচ্চাকাঙ্ক্ষা,
৬.প্রেমে ব্যর্থ হওয়া,
৭.নুতন চাকরি শুরু করা,
৮.নতুন কোনো স্কুলে যাওয়া, বা শিক্ষা জীবন শেষ করা,
৯.বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বা বিবাহ বিচ্ছেদ ইত্যাদি নানান কারনে মানুষ হতাশ হয়ে থাকে।

এই হতাশা এক ধরণের সামাজিক অবক্ষয়। যার ফলে ব্যক্তি একা ক্ষতিগ্রস্থ হোন না, সাথে তার পরিবারও সামাজিক লোকলজ্জার মুখে পড়েন। তবে সকল সময় শুধু ব্যক্তি একা দোষী থাকেন না, কখনো পরিবারও সমান ভাবে এই হতাশার পিছনে দায়ী থাকেন। কখনও পরিবারের অতিউচ্চ চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়েও মানুষ এই হতাশা নামক সমস্যার মুখে পড়ে।

কী কী লক্ষণ দেখে বুঝতে পারবো কেউ হতাশাগ্রস্থ?

একজন হতাশাগ্রস্থ মানুষের মাঝে নিম্ন লিখিত সিমটমগুলো দেখা যায়;
১। যারা হতাশায় থাকে তাদের মেজাজ সাধারণত খিটখিটে হয়ে যাওয়া।
২। একজনের রাগ অন্য জনের উপর মেটায় কারণ তারা অন্যমনস্ক থাকে সাধারণত।
৩। মন খারাপ করে বসে থাকা।
৪। সবসময় উদাসীন থাকা।
৫। অতিরিক্ত চা কিংবা কফি খাবে।
৬। সবসময় মন খারাপ থাকা।
৭। কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।
৮। নিজেকে মূল্যহীন ভাবা
৯। কথা বলতে তাড়াহুড়ো করা ইত্যাদি

এখন প্রশ্ন হলো হতাশায় পড়লে কি করবো? যাতে জীবন নাশের মত ঘটনা থেকে বেঁচে থাকা যায়? বা অন্য মানুষকেই বা আমরা কি উপদেশ দিতে পারি? হতাশা কাটানোর নানান ধরণের উপায় আছে।

নিম্নে ১১ ধরণের উপায়ের কথা উল্লেখ করা হলো যা কিনা আপনার হতাশা কাটানোর ঔষধ হতে পারে;

১.বই পড়াঃ

বই পড়া একটা ভালও মাধ্যম হতে পারে হতাশা কাটানোর। আপনি বিভিন্ন ধরণের বই যেমনঃ উপন্যাস, ভ্রমণ কাহিনি কিংবা সাইন্স ফিকশন ইত্যাদি বই পড়তে পারেন। আবার সফলতার কিংবা ব্যর্থতার বইও পড়তে পারেন। এতে করে আপনি যখন বই পড়বেন নতুন কিছু জানার সাথে সাথে আপনি চরিত্রগুলো ভিতরে ঢুকে যাবেন যা কিনা আপনার সাময়িকভাবে হতাশা কাটানোর সহায়ক হতে পারে।

২.গান শুনাঃ

গান শোনাও একটি চমৎকার মাধ্যম হতে পারে হতাশা কাটানোর। বিভিন্ন ধরণের গান যেমনঃ কষ্টের গান, সুখের গান অথবা দেশাত্নবোধক গান শুনতে পারেন। যখন আপনার মুড অফ থাকে তখন গান শুনলে আপনার মুড সুইং হয় আপনি আলাদা একটা জগৎ এ থাকেন যা কিনা আপনাকে হতাশা থেকে দূরে রাখে। আপনার খেয়াল অন্যদিকে থাকে।

৩.নতুন পরিবেশে ঘুরে আসাঃ

যদি আপনার অনেক ওয়ার্কলোড থাকে বা কোন কারণে মন খারাপ অথবা আপনার কোন কাজেই মন বসছে না তাহলে সাময়িকভাবে সময় নিয়ে কোথাও থেকে ঘুরে আসতে পারেন। ফ্রেশ এয়ার আপনার মন ও শরীরের জন্যে খুবিই উপকারী, সাথে সাথে নতুন জায়গা নতুন কিছু শিখার মাধ্যম। আপনার কাছের কেউ যার সাথে কমফোরটেবল কাছে কিংবা দূরে কোথাও থেকে ঘুরে আসলে তা আপনাকে হতাশা থেকে মুক্তি দিবে।

৪. মেডিটেশন করাঃ

মেডিটেশন মানে হচ্ছে আপনি বর্তমানে যা আছে ভুলে কোন একটা স্পেসিফিক বিষয়ে কনসেনট্রেট করা অর্থাৎ আপনি আলাদা কিছুতে বেশি মনোযোগী হয়ে যাবেন যার ফলে আপনি হতাশা থেকে দূরে থাকবেন। মেডিটেশন শুধুমাত্র আপনাকে মনোযোগী করে তোলবে না। প্রতিদিন মেডিটেশন করা ব্যক্তি কাজের প্রতি অধ্যাবসায়ি, ধৈর্য্যশীল ও সংযোমি হয়। এটা অনেকটা একের ভেতর দশ টাইপের। প্রতিদিন মেডিটেশন আপনাকে অনেক কিছু দিবে।

৫.বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়াঃ

বন্ধু একটা বেস্ট মাধ্যম হতে পারে আপনার হতাশা কাটানোর জন্যে। ভাল বন্ধু অনেকটা ঘরের পিলারের মত। তারা সময়ে ও অসময়ে আপনার পাশে সব সময় থাকবে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলে, তাদের সাথে খোশগল্পে মেতে থাকলে, হাসাহাসি করলে আপনার মাইন্ড অনেক রিলাক্স হয় যা আপনাকে হতাশা থেকে দূরে রাখে।

৬. ইসলামিক গজল শোনা ও বই পড়াঃ

ইসলামিক অনেক গজল আছে যেগুলো শুনলে মন অনেক হালকা হয়ে যায়। আবার অনেক বই আছে হতাশা থাকে রিকোভার করার যা পড়লে আপনার হতাশা দূর হয়ে যাবে। হতাশা থেকে মুক্তি পেতে একটা দোয়া আছে আপনি চাইলে তা পড়তে পারেন। দোয়াটি নিম্নরূপ; উচ্চারণঃ ইয়া- হাইয়ু ইয়া- ক্বাইয়ূ-মু বিরাহমাতিকা আস্তাগিছ। অর্থঃ ‘হে চিরঞ্জীব! হে চিরস্থায়ী! আপনার রহমতের মাধ্যমে আপনার নিকটে সাহায্য চাই।’[ তিরমিজি, মুসতাদরেকে হাকেম, মিশকাত ]

৭. ডাক্রারের কাছে যাওয়া বা কাছের কারও কাছে সমস্যার কথা খুলে বলাঃ

অনেক সময় কথা চেপে রাখা থেকে প্রেশার বেড়ে যায়, এমনকি প্রচন্ড রকমের হতাশায় মানুষ সাময়িক স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে ফলে উল্টা পাল্টা কথা বলে। তাই চরম পর্যায়ে যাওয়ার আগে ভাল কোন সাইকায়েট্রিস্ট দেখাতে পারেন, যার কাছে আপনি সব কথা খুলে বলতে পারবেন। তারপর ওই ডাক্তার আপনাকে একটা ভাল সমাধানের পথ দেখাবে। অথবা আপনার কাছের কেউ যার কাছে আপনি সব কথা শেয়ার করেন, যে আপনাকে একটা ভাল সমাধানের পথ দেখাবে তার কাছে সব সমস্যার কথা খুলে বলুন। তবে এমন কাউকে না বলাই উত্তম যে কিনা সমাধান দেওয়ার বদলে মজা নিবে।

৮. নিয়মিত খেলাধুলা করাঃ

নিয়মিত খেলাধুলা শরীর ও মন উভয়কেই ভাল রাখে। আপনি হতাশায় থাকলে, নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারেন যাকিনা আপনাকে নতুন কিছুতে নিজেকে মত্ত রাখার মাধ্যমে হতাশা থাকে দূরে রাখবে। খেলাধুলা এক ধরণের মেডিসিন হিসেবে কাজ করে বিষন্নতার জন্যে।

৯. সবসময় নিজেকে ব্যস্ত রাখাঃ

কথায় আছে অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। আপনি যখন অলস থাকবেন তখন নানান রকম হতাশার চিন্তা মাতায় ঘুরে। তাই আপনি নানান ধরণের কাজের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। ঘরের কাজ করতে পারেন, বিভিন্ন ধরণের শিক্ষনীয় মুভি দেখতে পারেন যার ফলে আপনি ব্যস্ত থাকবেন আর হতাশা আপনার কাছ থেকে দূরে থাকবে।

১০. পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোঃ

অনেক সময় ব্যস্ততায় পড়ে, মানসিক অবসাদ থেকে কিংবা অতিরিক্ত টেনশন থেকে ঠিক মত ঘুম আসে না, ফলে সারাক্ষণ মেজাজ খিটখিট হয়ে থাকে। আর এই ঘুম না আসা থেকে মানসিক এক ধরণের অবসাদের তৈরী হয় যাকিনা হতাশার কারণ। ডাক্তারের হিসেব অনুযায়ী একজন মানুষের দৈনিক ৮-৯ ঘন্টা ঘুমানোর প্রয়োজন। তাই পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবেও আপনার হতাশা তৈরী হতে পারে।

১১. গাছ লাগাতে পারেনঃ

পরিবেশ মানুষের মন পরিবর্তনের একটা বড় মাধ্যম। হতাশা থেকে মুক্তি পেতে আপনি আপনার বাড়ির পাশে কিংবা বাড়ির ছাদে গাছ লাগাতে পারেন। যা কিনা আপনাকে ব্যস্ত রাখার পাশাপাশি আপনাকে সতেজ রাখবে আর যদি শাকসবজি লাগান তাহলে তা আপনার খাদ্যেরও একটা মাধ্যম হয়।

পরিশেষে…

ইংরেজীতে একটা কথা আছে "দ্যা শো মাস্ট গো অন" অর্থাৎ আপনার যাই হোক না কেন জীবনের এই যুদ্ধে আপনাকে লড়ে যেতে হবে। আপনি হেরে গেলেন তো অন্য কারও জিতার সম্ভাবনা বেড়ে গেল, অন্য কেউ আপনার জায়গা দখল করে নিল। হতাশায় পড়ে জীবন নাশ বা থেমে থাকা কোনও উপায় হতে পারে না। যাই হোক না কেন আপনাকে হতাশ হওয়া চলবে না। মনে রাখবেন আলেকজ্যান্ডার ছয়বার হারার পর সপ্তম বারে জয়ী হয়েছিল, মুকেশ আম্বানি রাতারাতি বড়লোক হয় নি, সুপারস্টার হওয়ার জন্যে শাহরুখকে কত রাত রাস্তার পাশে কাটাতে হয়েছে!!, এভারেস্ট জয়ের জন্যে এডমন্ড হিলারি কে অনেক ব্যর্থতার মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছিল! কিন্তু তারা কি হতাশ হয়ে জীবন শেষ করে দিয়েছে? নাকি থেমে গিয়েছিল? যদি থেমে যেত, তাহলে কি তারা আজকে আমার আপনার আইডল হতে পারতো? হতাশা সবার জীবনেই আসে কিন্তু সবাই ভেঙ্গে পড়ে না তখন আপনাকে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে উঠে দাড়াতে হবে। সব কিছুই আপনার কাছে এক নতুন সম্ভাবনা হয়ে আসবে আপনাকে শুধু সঠিক পথ সঠিক সময়ে খুঁজে নিতে হবে। তাহলেই আপনি সফল হবেন, ইন শা আল্লাহ।


Offer Source: Plz, click here to show
Offer Id: 919
Company Name: Selltoearn.com
Contact No.: 01823660266
E-mail: selltoearn.com@gmail.com
Business Type: IT/Telecommunication
Location: Anywhere in Bangladesh
Offer Title: DRESS SEO কি ? মানুষ কিভাবে আপনার লেখা/পোস্টটি খুব সহজে দেখবে??

Offer Details:

DRESS SEO কি ? মানুষ কিভাবে আপনার লেখা/পোস্টটি খুব সহজে দেখবে??

DRESS SEO কি ? মানুষ কিভাবে আপনার লেখা/পোস্টটি খুব সহজে দেখবে??

DRESS SEO এর সম্পূর্ণ মানে হল-
D=Direct Address Wise Website Browsing/SMS/Leaflet/Visiting Card etc.
R=Referral Website Browsing/Display Ads via Website Browsing
E=Email Via Website Browsing
S=Social Site Via Website Browsing
S=Search Engine Via Website Browsing
সুতরাং এই DRESS SEO হল একটি আংশিক Off page SEO (Search Engine Optimization) আপনার কোন পোস্ট/লেখা অথবা ভিডিও যদি আপনি অনলাইনে প্রচার করে থাকেন এবং যদি আপনি চান তা অনেক মানুষ দেখুক তাহলে উপরের DRESS SEO পদ্ধতিটি আপনাকে অনুসরণ করতে হবে।

Direct Method:

1. অর্থাৎ সেই পোস্ট/লেখাটিকে আরও প্রমোট করার জন্য আপনাকে প্রিন্ট মিডিয়ার সাহায্য নিতে হবে। টিভি/রেডিও/মাইকিং (সাউন্ড) মিডিয়ার সাহায্যেও আপনি আপনার ওয়েবসাইট বা ওয়েব এড্রেসের ব্যাপারে প্রমোশন করতে পারেন।

Referral Method/Display Ads Method:

2. আপনি চাইলে ব্যাকলিং ক্রিয়েট করা এবং অন্য কোন স্বনামধন্য ওয়েব সাইটের সাহায্যে আপনার ওয়েব এড্রেসের লিংক একটি বেনার এড অথবা ডিসপ্লে এডের মাধ্যমে আপনার ওয়েব এড্রেসের ট্রাফিক বাড়াতে পারেন।

Email Method:

3. ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে কাস্টমারের কাছে আপনার বিজনেস প্রোপোজাল পাঠিয়ে আপনি আপনার ওয়েব এড্রেসের ট্রাফিক বাড়াতে পারেন।

Social Site Method:

4. সামাজিক যোগাযোগের জন্য অনেক সাইট রয়েছে যেমন: ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন ইত্যাদি এখানে ফ্রি একাউন্ট খুলতে হবে।এবং সেখানে আপনার পোস্টটি শেয়ার করতে হবে তাহলে কাস্টমার ঐ লিংকের মাধ্যমে আপনার ওয়েব ঠিকানায় ভিজিট করবে।

Search Engine Method:

5. এই প্রক্রিয়াটি কিছুটা অন পেজ এসইও এর আওতাভুক্ত কেননা এখা্নে গুগল কিংবা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনের কিছুটা নির্দেশনা অনুসারে আপনার ওয়েব পেজকে অপটিমাইজ বা সাজাতে হয়। যেমন: টাইটেল, মেটা টেগ, হেডার ওয়ান - হেডার সিক্স, গুগলের নিকট থেকে প্রাপ্ত সাইট ভেরিফিকেশন কোড ইত্যাদি। এই কাজগুলো সম্পাদন হলে গুগলে সার্চ করা মাত্রই আপনার ওয়েব ঠিকানাতে চলে আসবে কাস্টমার আর এভাবেই আপনি আপনার সাইটের ট্রাফিক বাড়াতে পারবেন।

নোট: সর্বোপরি একটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে যে, আপনার লেখা বা কনটেন্টটি যেন একটি ইউনিক বা ব্যাতিক্রমধর্মী হয় আর তা থেকে একজন ক্লায়েন্ট বা পাঠক যেন সম্পূর্ণ সমাধান পান তাহলে গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন আপনার লেখাটিকে তার প্রথম পেইজের সর্ব প্রথমে দেখাতে বাধ্য।

এবার আসা যাক কিভাবে গুগলের প্রথম পেজে নিজের সাইট বা ব্লগ নিয়ে আসবেন:

একজন প্রফেশনাল ওয়েবসাইট বা ব্লগ লেখক মাত্রই তার স্বপ্ন থাকে যে, তার লিখা গুগলে সার্চ করলে প্রথম পেইজে দেখাক। কারণ একজন লেখকের স্বার্থকতা তার লিখা পড়া এবং সেটা থেকে টাকা ইনকাম করার উপর নির্ভর করে। বেশি মানুষ লিখা পড়বে অর্থাৎ যত বেশি ট্রাফিক হবে তার ওয়েবসাইট বা ব্লগে ততই ইনকাম। তাই স্বভাবতই মনে প্রশ্ন আসে কি কৌশল অবলম্বন করলে মানে কিভাবে লিখলে গুগলে প্রথম পেইজে ওয়েবসাইট বা ব্লগকে নিয়ে আসা যায়?

আর তাই কী-ওয়ার্ড রিসার্চের পর আমাদের আজকের আলোচনা সময় উপযোগী খুবিই গুরত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে আর তা হলো; কীভাবে গুগলের প্রথম পেইজে আপনি আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ নিয়ে আসবেন তা নিয়ে?

আপনার ওয়েবসাইট আছে কিংবা আপনি ব্লগ লিখেন কিন্তু আপনার লিখা কি করে গুগলে রেঙ্ক করাবেন তার কৌশল আপনার জানা নেই এটা অনেকটা ঢাল তলোয়ার ছাড়া যুদ্ধ করার মতন। তাহলে যুদ্ধে যাওয়া আর ওয়েবসাইট বা ব্লগ লিখা আপনার জন্যে একিই রকম। কারণ এখানে আপনার হার নিশ্চিত।

গুগলে র্যা ঙ্ক করার মাধ্যমেই আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ গুগলে প্রথম পেইজে আসে। যার ফলে একজন কাঙ্খিত ব্যক্তি ইন্টারনেট সার্চ করা মাত্রই গুগল তার প্রথম পেইজে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটি দেখবে। বিভিন্ন ধরণের সাইটের মধ্যে যেমনঃ গুগল, পিপীলিকা, আস্ক ডটকম, গিফি, লাইব্রেরিজ ডট আইও, বিং ইত্যাদি। তবে এদের মধ্যে গুগল হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ সার্চ ইঞ্জিন। তাই যারা লিখালিখি করেন বা নিজস্ব ওয়েবসাইট চালিয়ে টাকা ইনকাম করতে চান তাদের জন্যে গুগল হতে পারে একটা সেরা প্ল্যাটফর্ম।

এখন প্রশ্ন আসে গুগল কেন বা কী করে আপনার পেইজের লিখাকে প্রথমে নিয়ে আসবে ?

প্রতিযোগিতার এই বাজারে টিকে থাকতে হলে অন্যান্য মানুষ যা ভাবছে তার চেয়ে একটু ডিফারেন্ট অ্যাংগেলে ভাবতে হবে আপনাকে। স্রোতের উল্টো পথে হাটতে হবে আপনাকে, তাহলেই আপনি সফল হতে পারবেন। যেমনঃ গুগলে কীভাবে লিখলে পেইজ র্যাং কিংয়ে আসবে তার চেয়ে বেটার হয় যদি আপনি এভাবে ভাবেন যে,

গুগল কোন ধরণের লিখাকে ফার্স্ট পেইজে দেয়? কি কি বিষয় তারা দেখে?

গুগলে প্রথম পেইজে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ আসার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আপনি ঠিক মত কী-ওয়ার্ড রিসার্চ করেছেন কিনা, এসইও বেইজড কিনা, গুগল ফ্রেন্ডলি কিনা এগুলোর উপর। আমরা আজকে ধাপে ধাপে সবগুলো নিয়ে আলোচনা করব। যেই সব ওয়েবসাইট বা ব্লগের সাথে সার্চকৃত ব্যক্তির কী-ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি রিলেভেন্ট হয় গুগল সাধারণত ওই সব লিখাকে ফার্স্ট পেইজে দেয়। অর্থাৎ যেই ব্যক্তি সার্চ করলো, তার সাথে

আপনার লিখার কী-ওয়ার্ড বেশি মিলে গেলে তখন গুগল ওই পেজকে ফার্স্টে রাখবে।

আবার যদি এমন হয় যে, সার্চকৃত ব্যক্তির কী-ওয়ার্ডের সাথে একমাত্র আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে লিখা থাকে অন্য কোন ওয়েবসাইট বা ব্লগে লিখা না থাকে তাহলেও গুগল আপনার পেইজ কে ফার্স্ট পেইজে দেখাবে।

তবে কম্পিটিটিভ এই বাজারে অনেকেই একিই টপিকে লিখে থাকে। তাহলে আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে সেই ক্ষেত্রে গুগল কোন ওয়েবসাইট বা ব্লগকে সর্ব প্রথমে নিয়ে আসে বা ফার্স্ট পেইজে দেখায়? এটা খুবিই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

সেই ক্ষেত্রে গুগল একটা নির্দিষ্ট অ্যালগরিদমে কাজ করে। এই অ্যালগরিদমকে আবার কনট্রোল করে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। অর্থাৎ আপনি যদি আপনার সাইটে ঠিকমত অপটিমাইজেশন করতে পারেন তাহলে গুগল নামক সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পাতায় আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ আসার সম্ভাবনার হার বেশি থাকবে।

এখন প্রশ্ন আসে এই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কি? Or, What is SEO?

এসইও (SEO) সম্পর্কে আমাদের পূবের আর্টিকেলটিতে বিস্তারিত বলা রয়েছে। তার পরও বলছি, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট বা ওয়েবপৃষ্ঠাকে অনুসন্ধান ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের

অনুসন্ধান ফলাফলের তালিকায় প্রথম দিকে দেখানোর চেষ্টা করা বা সর্বোচ্চকরন করা যাতে এটি অনুসন্ধান করলে ফলাফলে প্রায়শই দেখা যায়। তবে এই এসইও কোন একক কাজ নয় বরং একটি সমন্বিত পদ্ধতি বলা যায় কারণ বহুক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকে এটি।

সাধারণত একটি অনুসন্ধান ইঞ্জিনের ওয়েব স্ক্রলার বা সার্চ রোবট বা সার্চ স্পাইডার প্রায় সবসময় ওয়েবে থাকা একটি ওয়েবপৃষ্ঠা অন্য ওয়েবপৃষ্ঠায় ও একই ভাবে এক ওয়েবসাইট থেকে অন্য ওয়েবসাইটে ঘুরে বেড়ায়।

এই রোবট বা স্পাইডা্র বা স্ক্রলারসমূহ কাজ হলো বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে নিদির্ষ্ট শ্রেণীতে সজ্জিত করা, অতঃপর অনুসন্ধান ইঞ্জিন ব্যবহারকারীর খোজকৃত শব্দ বা শব্দগুচ্ছ মানে keyword অনুসারে অনুসন্ধান ইঞ্জিনের ফলাফল পাতায় প্রদর্শন করে। তবে এই ক্রলার বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্ব প্রদান করে। বিষয় সমূহকে তিন ভাগে শ্রেণীবদ্ধ করা যায়।

১.পৃষ্ঠার মধ্যে, ২. প্রযুক্তিগত এবং ৩.পৃষ্ঠার বাইরে।

পৃষ্ঠার মধ্যে বা ওয়েবসাইটের ভিতরকার এসইওর বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল; পৃষ্ঠার ভিতরের এসইও কে অনলাইন এসইও বলা হয়। তার মানে অনলাইনে মাধ্যমে কি করে আপনার পেইজে সার্চ বাড়তে পারে। কি করে সবচেয়ে বেশি মানুষ আপনার লিখা পড়বে। ● যা লিখবেন সেই ওয়েবসাইটের শিরোনাম বা নাম
● ওয়েবসাইটের মোটা বিবরণ মানে বোল্ড করে দেওয়া
● ওয়েবসাইটের মোটা কিওয়ার্ড ট্যাগ অর্থাৎ বিশেষ লিখাগুলোকে আলাদা করে বোল্ড করা
● ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলোর শিরোনাম বা নাম
● ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলোর অল্ট ট্যাগ
● ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলোর ক্যাপশন
● ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পৃষ্ঠার মধ্যে অন্তঃসংযোগ
● ওয়েবসাইটের সাথে অন্য ওয়েবসাইটের বহিসংযোগ।
● সংযোগকৃত শব্দ ইত্যাদি

প্রযুক্তিগত এসইওর বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল;

প্রযুক্তিগত এসইও (SEO) আপনি যেই সাইটে লিখবেন সেই সাইটের গতি, মোবাইল-বান্ধব, ইনডেক্সিং, ক্রাউলাবিলিটি, সাইট আর্কিটেকচার মানে সাইটাকে আপনি ডেভেলআপ করেছেন, কাঠামোবদ্ধ উপাত্ত এবং নিরাপত্তা বিষয়গুলো খেয়াল করে থাকে।

পৃষ্ঠার বাহিরে বা ওয়েবসাইটের বাহিরের এসইওর বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল;

পৃষ্ঠার বাহিরের এসইও কে অফলাইন এসইও বলা হয়। তার মানে হলো আপনি আপনার ওয়েবসাইটের বা ব্লগের লিংক বিভিন্ন পেইজে বা গ্রুপে বা আপনার ফেইসবুকে শেয়ারের মাধ্যমে আপনি আপনার পেইজের রিচ বাড়াতে পারেন মানে আপনার পেইজে ট্রাফিক বাড়বে।

উপরের সবগুলো বিষয় নিশ্চিত করে ওয়েবসাইটকে অনুসন্ধান করে তা ইঞ্জিনের কাছে দৃষ্টিগোচর করার কাজটিই এসইও'র মূল কাজ পরিগণিত হয়। এছাড়াও ওয়েবসাইটকে বিভিন্ন অনুসন্ধান ইঞ্জিনের কাছে সমর্পণ, বিভিন্ন সম্ভাবনাময় ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন স্থাপন বা আদান-প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমেও এসইও কাজ করে থাকে।

সম্প্রতি অনুসন্ধান ইঞ্জিনগুলো যেকোন ওয়েবপৃষ্ঠা বা ওয়েবসাইটের সামাজিক প্লাটফর্মের ওপর গুরুত্ব দিয়ে র্যাং কিং প্রদান করছে। এক্ষেত্রে যে ওয়েবপৃষ্ঠা বা সাইটের সামাজিক প্লাটফর্ম যত উন্নত সে সাইটটি অনুসন্ধান ইঞ্জিনের প্রথম দিকে থাকার সম্ভবনা তত বেড়ে যায়, গুগল ওই ওয়েবসাইট বা ব্লগ গুলোকেই সামনে নিয়ে আসে।

এবারে keyword নিয়ে আলোচনা করা যাক। কী-ওয়ার্ড নিয়ে আমাদের পেইজে পূর্বেই সম্পূর্ণ একটি ব্লগ আপলোড করা রয়েছে, আপনি সেটি পড়লে পুরো ধারণা পেয়ে যাবেন। সংক্ষিপ্ত করে আমি এখানে আলোচনা করছি। লিখার আগে আমাদের টপিক সিলেক্ট করতে হয়। টপিক আপনি ইচ্ছেমত সিলেক্ট করতেই পারেন কিন্তু কেমন হয় যদি আপনি ইউজার কি চায় এর উপর ভিত্তি করে টপিক সিলেক্ট করেন তারপর লিখেন? ভাবছেন কি করে জানবেন ইউজার কি চায়?

ভয় নেই, Google Trends সহ আরও বেশ কিছু সাইট রয়েছে (আমাদের পূর্বের ব্লগে এর নাম দেওয়া আছে) যার মাধ্যমে আপনি জানতে পারেন এই মুহূর্তে মানুষ কি বেশি সার্চ করে দেখছে। যেই শব্দ দিয়ে সার্চ করছে তাই কী-ওয়ার্ড (keyword), আর এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি হলো কী-ওয়ার্ড রিসার্চ (keyword research)।

গুগল অ্যানালিটিক্স ( what is google analytics)।

গুগলের একটি সেবা রয়েছে যেখানে কিনা আপনি আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ সম্পর্কিত বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট তথ্য পেয়ে থাকবেন অর্থাৎ আপনার পেইজকে উন্নত করার তথ্য পেয়ে থাকবেন একেই গুগল অ্যানালিটিক্স বলা হয়। ধরুণ আপনার ওয়েবসাইট বা লিখাতে সঠিক কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করেছেন, এসইও ব্যবহারও ঠিকমত করেছে তা স্বত্ত্বেও আপনার লিখা গুগলে প্রথম পেইজে আসছে না তখন গুগল অ্যানালিটিক্স আপনাকে সাহায্য করবে।

গুগল এনালিটিক্স হল এমন একটা প্লাটফর্ম যেটি ওয়েব থেকে ডেটা কালেকশন করে, অতঃপর সেই ডেটা সমুহকে রিপোর্ট আকারে প্রকাশ করে, যাতে যা যা সমস্যা আছে তা বোঝতে পারা যায় সহজেই।
এবার আপনি যদি আপনার ওয়েবপেইজের সমস্যা গুলো দেখতে চান বা আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইট ডেটাকে এনালিটিক্স রিপোর্ট আকারে পেতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে, গুগল অ্যানালিটিক্স সাহায্য করবে।

তবে সেই ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই গুগল অ্যানালিটিক্স একটি একাউন্ট খুলতে হবে এবং ছোট্ট একটা ট্রাকিং কোড আপনার ওয়েব পেইজে যুক্ত করে নিতে হবে । এরপর গুগল অ্যানালিটিক্স এর কাজ হবে আপনার সাইট ভিজিট করা এবং ইন্সটল করা ঐ কোডটি সকল ইউজারের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে অ্যানালিটিক্স রিপোর্ট আকারে প্রদান করবে। যেমনঃ কি পরিমানে ট্রাফিক হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটে, বাউন্স রেট কত, কোন রিজিয়নের মানুষের বেশি দেখে আপনার লিখা, দেশ নাকি দেশের বাহিরের মানুষ বেশি দেখে আপনার লিখা ইত্যাদি।

এই উপরের সকল বিষয় গুলো গুরত্বের সাথে করার মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে ইউজার ফ্রেন্ডলি করতে পারেন। ইউজার ফ্রেন্ডলি করার অর্থই হলো, যখনই কোন ইউজার এই একিই তথ্যের জন্যে গুগলে সার্চ করবে তখন তারা সহজেই আপনার লিখা পেয়ে যাবে অর্থাৎ পেতে কোন সমস্যা হবে না।

পরিশেষে…

আপনি তখনই লিখবেন যখন আপনি সেটা থেকে বেনিফিটেড হবেন। তার একজন ইউজার তখনই আপনার লিখা পড়বে যখন সে এখানে আপনার লিখা পড়ে উপকৃত হবেন। তাই তথ্য সমন্বিত লিখার পাশাপাশি আপনার উচিত আপনার ওয়েবসাইটকে মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার জন্যে উপরের কৌশলগুলো যথাযথভাবে অবলম্বন করা। তা না হলে মানুষ আপনাকে কেয়া সুপের মত ইউটিউবে দেখে স্বরণ করবে, ব্যবহার আর করতে পারবে না। আর যদি কৌশলি হোন তাহলে লাক্সের মত ব্যবহার করে স্বরণ করবে। শুভকামনা রইলো।
Offer Source: Plz, click here to show

Offer Id: 918
Company Name: Selltoearn.com & Urnisha Jaman Mohona
Contact No.: 01823660266
E-mail: selltoearn.com@gmail.com
Business Type: Education/Training
Location: Anywhere in Bangladesh
Offer Title: পর্দানশীল নারী | কর্ম ক্ষেত্রে পর্দানশীল নারীর বৈষম্য ||

Offer Details:

পর্দানশীল নারী | কর্ম ক্ষেত্রে পর্দানশীল নারীর বৈষম্য ||

পর্দানশীল নারী | কর্ম ক্ষেত্রে পর্দানশীল নারীর বৈষম্য ||

প্রথমেই সকলের কাছ থেকে ক্ষমা ও সালাম নিয়ে নিচ্ছি এই জন্য যে, নিচের লেখায় যদি কারও মনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এই আর্টিকেলটি পড়ার সময়। যদিও আর্টিকেলটির উদ্দেশ্য হল সামাজিক ও অথনৈতিক সচেতনতা।

শুরুর কথা:

যার যার ধর্ম তার তার কাছে বড়। পৃথিবীতে শীর্ষ কয়েক ধরনের ধর্ম রয়েছে যেমন: ইসলাম, খ্রিষ্ঠান, হিন্দু, ইহুদী, বোদ্ধ ইত্যাদি। আল্লাহর নিকট হতে প্রাপ্ত ১০৪ খানা আসমানি কিতাবের মধ্যে বড় চার খানা কিতাব হল তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও সর্বশেষ চুড়ান্ত আসমানি কিতাব হল কোরআন শরীফ। আর পবিত্র কোরআন শরীফ নাজিল হয় আমাদের প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম এর উপর। আর এই কোরআন শরীফ নাজীল হয়েছে সমগ্র মানব জাতীর জন্য এবং সকল ধর্মালম্বিদের জন্য যার কথা কোরানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।আর কোরআন ও মহানবী হযরত (সাঃ) এর হাদীসের অনুসারীদের বলা হয় মুসলিম। যে সলক ব্যক্তি এটা মনে প্রানে বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং হযরত মুহাম্দদ (সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত রাসুল তারা হলেন মুসলিম।আর একজন সংসম্পূর্ণ মুসলিমের দায়িত্ব ও কর্তব্য হল আল্লাহর নাজিলকৃত প্রবিত্র কোরআন এবং নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর হাদীসের অনুসারে তার সমগ্র জীবন জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অতিবাহিত করা।

পৃথিবীর জীবন হল ক্ষণস্থায়ী আর আখিরাতে জীবন হল অসীম ও অনন্ত। পৃথিবীর জীবন হল আখিরাতের জন্য একটি পরীক্ষা। তাই এই জীবনে কোরআন ও হাদীসের আলোকে জীবন যাপন করা আমাদের সকলের জন্য বাধ্যতামূলক।আমাদের ৫ ওয়াক্ত নামা পড়া বাধ্যতামূলক যা না পড়লে গুনা হবে। আর এই গুনার জন্য অনন্ত কাল দোযখের আগুনে পুড়তে হবে। এটা যেনেও আমরা নামাজ কাজা করে থাকি। এছাড়াও আমরা মনে অজান্তে, জেনে না জেনে অথবা অবচেতনেও অনেক পাপ কাজ করে থাকি। যেমন: ইসলামিক নিয়ম অনুসারে পুরুষদের দারি রাখতে হবে এটি নবীজির সুন্নত যা তিনি করতে বলে গিয়েছেন। পায়ের টাকনার ওপরে কাপড় রাখতে হবে (পুরুষদের)। মহিলাদের পর্দানশীল হতে হবে। অর্থাৎ তাদের লজ্জাস্থানের সুষ্ঠু হেফাজত করতে হবে। সুদ, ঘোষ, হারাম খাবার খাওয়া যাবে না। অন্যায়ভাবে কারও উপর জুলুম করা যাবে না।

বাংলাদেশ নয় শুধুমাত্র পৃথিবীতে এমনও অনেক স্থান রয়েছে যেখানে যদি পুরুষদের দারি রাখতে দেয়া না হয় কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানে তবে এই সকল বলিষ্ঠ পুরুষগণ সেই কোম্পানিতে চাকুরিতো দূরের কথা সেই কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের ধারের কাছেও ভিরে না। আবার দেশে কিছু কিছু বাধ্যতামূলক প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে নিয়মিত ক্লিন শেভ দিতে হয়। এটা তাদের অফিসিয়াল পলিসি হতে পার। কিন্ত আমার কথা হল যে কাজের জন্য আমাকে পরকালে শাস্তি পেতে হবে সেই কাজ আমি কখনই করবো না। এমনকি যদি দিন মজুরের কাজও যদি হয় তাই করবো তবুও ইসলামের দেখানো পথ ব্যাতিত অন্য কোন পথের নিকট নিজের ব্যক্তিত্বকে বিসর্জন দেব না।

ঠিক তেমনি যদি এমন হয় মহিলাদের পর্দানশীল না হয়ে পশ্চিমা কালচার ফলো করে কাস্টমার আকর্ষণের জন্য পর্দাহীনভাবে কাজ করতে আমি মনে করি মুসলিম হয়ে ঐ সলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করারই প্রয়োজন নেই। নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত, পর্দানশীলতা, সুন্নতি লেবাজে যে সকল প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী যদি বাধা বিপত্তির কারণ হয়ে দাড়ায় তবে বুঝতে হবে ইহকালে ক্ষণিকের সুখ পাবেন কিন্ত পরকালে অনন্ত সময় কাটাতে হবে দোযখের যন্ত্রণাকে সাথী করে। আরও একটু বলছি যে শুধু বাংলাদেশ নয় সমগ্র পৃথিবীতে সকল প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিই খারাপ নয়। এর মধ্যে ভাল কোম্পানিও রয়েছে যেখানে ইসলামের সম্পূর্ণ বিধি বিধান অনুসারে সকল কার্য পরিচালনা করা হয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন যদি অন্যায় দেখ হবে হাত দ্বারা তার প্রতিবাদ কর; যদি তা না পার তবে মুখ দ্বার থামানোর চেষ্টা করা আর যদি তাও না পার সেখান থেকে সরে গিয়ে তার প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন কর। এই কথার মানে হল আপনি যদি চাকুরীপ্রার্থী হন আর পুরো কোম্পানির অন্যায়ের প্রতিবাদ যদি আপনি না করতে পারেন তবে অন্তত তার প্রতি মনে মনে নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং তার কাছ থেকে নিজেকে সড়িয়ে নিন।

এবার আসা যাক একটি মুসলিম দেশ হয়েও বাংলাদেশে কর্পোরেটে নারীদের পর্দানশীলতার ক্ষেত্রে কেমন বৈষম্যের স্বীকার হতে হয় ??

বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ । এখানে বসবাস করেন অনেক ধর্মের মানুষ যার মধ্যে ৯০ শতাংশ মানুষই মুসলিম। সেই সুবাধে এই দেশে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য যতটা সম্ভব সফলতার উচ্চ স্থানে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সব রকম সুযোগ সুবিধা দেওয়াটাই কাম্য। কিন্তু সেই তুলনায় কয়েকটা পেশা ছাড়া পর্দানশীল নারীরা তেমন কোনো সুযোগ পাচ্ছে না। এটি একটি মুসলিম দেশ হওয়া সত্বেও এখানে পর্দানশীল নারীদের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টি সবার মুখের কথার মধ্যেই শুধু বিদ্যমান থাকে। প্রফেশনাল জীবনে কয়েকটা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশ কর্পোরেটে পর্দানশীল নারীদের তুচ্ছ মনে করে। কারন তাদের জন্য পর্দার মধ্যে থাকা নারীরা সেকেলে, কোনো স্মার্টনেস বা পারসোনালিটি পর্দানশীল নারীদের মধ্যে নেই। এসব ধারনাই মূলত পোষন করে থাকেন। তবে দিনশেষে তাদেরই ঘরের মা, বোন, স্ত্রীদের পর্দানশীল হওয়ার উপদেশ দেন।

কিভাবে পর্দানশীল নারীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ??

আমাদের সমাজে সবাই যার যার নিজ ধর্ম, সংস্কৃতি, আচার-অনুষ্ঠানের সহিত জীবন যাপন করছে। কিন্তু এসব কিছুর মধ্যে বঞ্চিত হচ্ছে পর্দানশীল নারীরা। তাদের জন্য বর্ধিত রয়েছে মাদরাসায় শিক্ষকতা, বাসায় টিউশনি করা, বাসায় বসে সেলাইয়ের কাজ করা তালিম দেওয়া, যা খুবই সীমিত। তাদের উপার্জনের স্থান এটুকুর মধ্যেই কেন বিদ্যমান থাকবে। তাদের কাছে উচ্চ পদে যাওয়ার মতো যোগ্যতা, সার্টিফিকেট থাকা সত্বেও কোনো পর্দানশীল নারীদের সেল্স ডিপার্টমেন্টে নিয়োগ দেওয়া হয়না, মার্কেটিং প্রসেস এর যেকোনো কাজই পর্দানশীল নারীদের দিয়ে করানো হয় না, ব্যবসায় সংক্রান্ত কোনো মিটিং বা কনফারেন্স কক্ষে পর্দার সহিত কোনো প্রেজেন্টেশন করতে দেওয়া হয়না। কোনো কর্পোরেট ফাংশন, পার্টী বা অনুষ্ঠানে তাদেরকে ব্যবসায় সম্পর্কিত বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয় না।

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান গুলো কিভাবে চাকুরি প্রত্যাশিত পর্দানশীল নারীদের অবহেলা করে ??

যারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান গুলো সম্পর্কে ধারনা রেখেছে তাদের মধ্যে কম বেশি সবাই জানে যে অফিসিয়াল কোনো কাজে পর্দানশীল নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয় না। তাদের নিয়োগ পত্রের মধ্যে উল্লেখ করা থাকে যে সুন্দর, স্মার্ট, ফরমাল ড্রেস যেমন.. প্যান্ট, শার্ট, কোর্ট পরিধানে অভ্যস্থ, নিজেকে ক্লায়েন্টদের সম্মুখে উপস্থাপন করতে পারবে এমন কেউ আগ্রহী থাকলে চাকুরিতে আবেদন করতে পারবে। তবে সব প্রতিষ্ঠানে ফরমাল ড্রেসের কথা উল্লেখ না থাকলেও পর্দানশীল নারী বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানই নিয়োগ দেন না। কারন বাংলাদেশের ৯৯ - ১০০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পর্দানশীল নারীদের নিয়োগ দেওয়ার মতো মন-মানসিকতা নেই আর কখনও তৈরিও হয়নি। তবে বোঝার অপেক্ষা রাখে না যে বাংলাদেশের মানুষরা ইসলাম ধর্মের সংস্কৃতি, নীতির বিরুদ্ধে। অবহেলা করা হয় গোটা মুসলিম জাতিকে, মুসলমান নারীদেরকে, যে সমাজ মুসলিমদের সাধুবাদ জানায় তাদের আদব-কায়দার, এবং

নারীদের পর্দার সহিত জীবন যাপন করার জ্ঞান দেন। সেই সমাজই অফিসিয়াল কাজে মেয়েদের প্যান্ট, শার্ট পরায় বেপর্দা হতে বাধ্য করে। অর্থ উপার্জনের তাগিদে মেয়েরা বেপর্দা হয়ে কাজতো করে কিন্তু নাছোড়বান্দা সমাজ সেই নারীদের চাল-চলনে দোষ দেখায়। বেপর্দা হওয়ার কারন খোঁজে। কতটা জটিল আমাদের সমাজ ব্যবস্থা পর্দানশীল নারীদের প্রতি। আর যদি প্রতিষ্ঠান গুলোতে প্রশ্ন করা হয় যে কেনো পর্দানশীল নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয় না, তখন তাদের কাছে থেকে শুনতে হয় যে, কাস্টোমার বা ক্লায়েন্টদের সামনে নিজেকে উপস্থাপন না করতে পারলে তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আকর্ষীত হয় না। ফলে যে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা ক্লায়েন্টদের আকর্ষন করতে পারে তারা লাভবান হয়। এমনকি বিদেশ থেকে কোনো ভিসিটর আসলে তাদের মতো করে উপস্থাপন না হলে বিভিন্ন প্রযেক্ট ব্যবসায়ীক ডিল অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যায়। এসব প্রশ্নের সমাধানকল্পে উত্তর.. যা সম্পূর্ন ভুল একটি ধারনা।

বাংলাদেশের (মুসলিম দেশের) প্রতিষ্ঠান হয়ে কেন বিদেশি কালচার অনুসরন করতে হবে?? বিদেশে যারা বসবাস করেন তারা কি কখনো অন্যদের কালচার অনুসরণ করার মাধ্যমে সফলতা অর্জন করে... একেবারেই নয়। বরং সবাই নিজের দেশের সর্বচ্চোটাকে তুলে ধরার চেষ্ঠা করে। ক্লায়েন্ট বা কাস্টোমার দের যদি আকর্ষণ করাতে হয় তাহলে প্রতিষ্কানের পন্যকে আকর্ষীত করা উচিত। মানুষদের বা মানুষের পরিধানকৃত পোষাককে নয়। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান গুলোতে কি পর্দানশীল পরিবারের সদস্যরা পন্য ক্রয় করতে যান না ??

যদি পর্দানশীল পরিবারের সদস্যদের কাছে পন্য বিক্রয় করতে সমস্যা না থাকে তাহলে যে কর্মচারী পন্য বিক্রয় করবে সে কেন পর্দানশীল হতে পারবে না ?? কি পরিধান করে আছে সেটা বড় বিষয় নয় আপনার পন্য কেমন, কি নিয়ে আপনি ব্যবসায় করছেন, পন্যের মান উন্নত কি না সেটাই প্রকৃত আকর্ষন ।

পর্দানশীল নারীদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কি কি বিষয় বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে ??

আমাদের দেশ, সমাজ, সমাজ ব্যবস্থা, নিয়ম-নীতি এবং যারা এসব নিয়ম-নীতি তৈরি করেছেন তারাই পর্দানশীল নারীদের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি করছে। যদিও পর্দানশীল নারীদের বিরুদ্ধে সবার মতামত একরকম নয়। তবে বিভিন্ন স্থানে এর প্রচুর বিরোধিতা রয়েছে। আর তার সবচেয়ে বড় উদাহারন হচ্ছে... বড় বড় কিছু প্রতিষ্ঠান, প্রফেসনাল জায়গায়, অফিসিয়াল কার্যকলাপে, বিভিন্ন ব্যবসায়ে, শীর্ষে স্থান নেওয়া কিছু কোম্পানিতে। এসব স্থানে প্রাধান্য পায় বিদেশি সংস্কৃতি ধারনকৃত ব্যক্তিরা। তাদের পরিধানকৃত ফরমাল..

প্যান্ট, শার্ট, কোর্ট ইত্যাদি। যেখানে ইসলাম ধর্মের সংস্কৃতিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত সেখানে রয়েছে অবহেলা। অপরদিকে বাংলাদেশের মতোই এমন অনেক মুসলিম দেশ রয়েছে যারা ইসলাম ধর্মের সংস্কৃতিকে অনুসরন করেই বিভিন্ন কর্মকান্ডে সফলতা অর্জন করছে যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পর্দানশীল নারীরা। পর্দার মধ্যে থেকে তারা অফিসে যাচ্ছে, অফিসিয়াল কাজ কর্মে নিজেদের যুক্ত রাখছে কিন্তু ইসলামিক শিক্ষার সীমার মধ্যে থেকে। অন্যান্য মুসলিম দেশের নারীদের যদি এমন সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে বাংলাদেশর পর্দানশীল নারীদের জন্য এই সুযোগ দেওয়া হবে না কেন। অন্যান্য দেশে যদি মুসলিমদের সংস্কৃতিকে ধরে রেখে পর্দানশীল নারীদের সাবলম্বী হওয়ার সুযোগ থাকে। তাহলে বাংলাদেশে এমন সুযোগ প্রতিটা পর্দানশীল নারীদের জন্য দেওয়া উচিত। অন্য দেশের সংস্কৃতিকে ধরে রেখে কি হবে যদি নিজের দেশের সংস্কৃতিকে সম্মানের সহিত অন্য দেশের কাছে উপস্থাপন না করা যায়। প্রতিটা দেশের ভিন্নতার যেমন কিছু নির্দিষ্ট চিহ্ন বা প্রতীক থাকে ঠিক তেমনি সংস্কৃতির ভিন্নতা বোঝার সুবিধার্থে ভিন্ন ও নতুনত্ব কিছু পদক্ষেপ বাংলাদেশকে নতুন রুপে উপস্থাপন করবে।

কেন পর্দানশীল নারীদের সুযোগ দেওয়া উচিত ???

বাংলাদেশের এমন অনেক পরিবার রয়েছে যেই পরিবারে কোনো পুরুষ উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই এমনকি পরিবারের মহিলা সদস্যরাও পর্দানশীল। সেক্ষেত্রে তাদের বাহিরে বের হয়ে উপার্জন করা ছাড়া কোনো উপায় থাকেনা। তারা যখন কোনো চাকুরির খোঁজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাজ চায় তখন তাদের কোনো কাজ দেওয়া হয় না। আর যদিও কাজ দেওয়া হয় সেগুলো হয় : পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ, জিনিসপত্র ধোয়ার কাজ, ইত্যাদি এসব কাজ করে পরিবারের খরচ চালানো দুঃসাধ্য হয়ে পরে। এমন অনেক পর্দানশীল নারীরা আছেন যারা রাস্তায় মানুষের ধারে ভিক্ষে করে যা আমরা সচরাচর দেখে থাকি। তাই তাদের ভালো ও সুস্থ জীবন যাপন করার সুবিধার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করার সুযোগ দেওয়া অতীব জরুরি। যখন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পরিবারের পর্দানশীল নারীরা নিয়োগ প্রাপ্ত হবে তখন অনায়াসে দেশের দারিদ্রতা হ্রাস পাবে।

যদি পর্দানশীল নারীদের চাকুরি দেওয়া হয় তাহলে কী তারা অন্যান্য নারী ও পুরুষদের সাথে সাচ্ছ্যন্দে কাজ করতে পারবে ??

পর্দানশীল নারীরা যদি সমাজে বসবাসরত প্রতিটি মানুষের সাথে বসবাস করতে পারে, নিজেদের সংযত রেখে জীবন বৃত্তান্ত প্রতিটি পদক্ষেপ অতিক্রম করতে পারে। তাহলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার তারনা তাদেরকে কাজ করতে আগ্রহী করে তুলবে, এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার তাগিদ ও ইচ্ছা শক্তি তাদের মধ্যে বিরাজমান থাকলে অবশ্যই যেকোনো পরিবেশে পরিস্থিতিকে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে সাচ্ছ্যন্দে কাজ করতে পারবে।

পর্দানশীল নারীরা কী অফিসিয়াল যেকোনো কাজ করতে সক্ষম ??

নারীরা যদি পরিবার, সংসারের পাশাপাশি চাকুরি করতে পারে। তাহলে তারা অবশ্যই পর্দানশীল অবস্থায় অফিসিয়াল যেকোনো কাজ করতে পারবে যদি তাদের মধ্যে কাজটি করার জন্য দৃঢ় মনোবল থাকে। পর্দানশীল নারীরা অন্যান্য নারীদের মতোই। অন্যান্য নারী ও পর্দানশীল নারীদের মধ্যে পার্থক্য শুধু পোষাকে। তাই পর্দাহীন নারীরা যেভাবে কাজ করতে পারে। পর্দানশীল নারীরাও ঠিক সেভাবেই কাজ করতে পারবে যদি তারা সুযোগ পায়। কারণ অফিসিয়াল কাজ গুলো করার জন্য যা যা প্রয়োজন যেমন : প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, দ্রুত কাজ বোঝা ও করার মতো ক্ষমতা, কাজটাকে ভালো ভাবে উপস্থাপন করা, প্রয়োজনে কাজের গতি বারানো, যত বেশি সম্ভব কাজ সম্পর্কে ধারনা বৃদ্ধি করা, কম্পিউটার সম্পর্কে অভিজ্ঞ থাকা ইত্যাদি এসবই অফিসিয়াল কাজ করতে সাহায্য করে যা চাইলেই পর্দানশীল নারীরা করতে পারে।

পর্দানশীল নারীদের মেধাকে বিকশিত করার জন্য কি করণীয়??

❏ অন্যান্য নারীদের মতো পর্দানশীল নারীদেরও বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গুলোতে চাকুরি প্রদান করা।
❏ শোরুমে অন্যান্য কর্মীদের মতোই প্রাধান্য দেওয়া
❏ চাকুরি দেওয়া হলে পর্দাহীন হতে বাধ্য না করা।
❏ প্রয়োজন হলে চাকুরিরত সকল মুসলিম নারীদের জন্য ফরমাল ড্রেস কোড হিসেবে বোরখা, হিজাব, নেকাব প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি করে দেওয়া।
❏ যদি যোগ্যতা থাকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্ম বিষয়ক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া।
❏ সম্মানের সহিত তাদের সম্বোধন করা।

বাংলাদেশে পর্দানশীল নারীদের যদি তাদের মেধাকে বিকশিত করার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে কী অর্থায়নে বা দারিদ্রতায় কোনো পরিবর্তন আসতে পারে ??

অবশ্যই পর্দানশীল নারীদের মেধা বিকশিত করার সুযোগ দেওয়া হলে বাংলাদেশের দারিদ্রতা অনেকটা কমে আসবে। কারন এমন অনেক পরিবার আছে যেখানে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মৃত্যুবরন করেছেন, অনেকে অসুস্থতায় শয্যায়ীত অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন, অনেকের পরিবারে বৃদ্ধ বাবা মার ভরোনপোষনের দায়িত্ব তার পর্দানশীল মেয়ের উপর। সে অবস্থায় মাদরাসায় শিক্ষকতা, বাসা বাড়িতে টিউশনি, সেলাইয়ের কাজ করে কতটুকুই বা উপার্জন করা যায়। সেক্ষেত্রে যদি পর্দানশীল
মেয়েরা তাদের যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে কোনো অফিসিয়াল কাজে, সেল্স ডিপার্টমেন্টে, রিসিপশনিস্টে, বড় বড় ব্যবসায়ীক প্রতিষ্টানে, নাম করা কোম্পানীতে পর্দার সহিত কাজ করার সুযোগ পায় তাহলে তারা সাবলম্বী হয়ে উঠবে। পর্দানশীল হওয়ার জন্য চাকুরি না পাওয়া অবস্থা থেকে যখন তারা মুক্তি পাবে তখন তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে তারা আপ্রান চেষ্টা করবে তাদের দরিদ্র অবস্থা থেকে উন্নতির দিকে এগিয়ে যেতে।

❏ ফলে অন্য কারো উপর তাদের নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না।
❏ কেউ তাদের তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য বা অবহেলা করবে না।
❏ তাদের প্রতি মানুষের ব্যবহার, মন্দ দৃষ্টিভঙ্গি, খারাপ মন-মানসিকতা পরিবর্তন হবে।
❏ দেশের মানুষের চিন্তা-ভাবনা উন্নত হবে সেই সাথে দেশেরও উন্নতি সাধন হবে। ❏ অর্থায়নে পরিবর্তন আসবে, দেশের আয় বৃদ্ধি পাবে। পর্দানশীল নারীদের মধ্যে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান থাকে তাই তারা যেকোনো কাজ করলে সেখানে মানবিকতা, মূল্যবোধ, সততা, সৎ ইচ্ছা, প্রবল চেষ্টা বিদ্যমান রেখে যেকোনো কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে। যদিও এটা সবার ক্ষেত্রে নয় কেননা সব পর্দানশীল নারীদের চিন্তা-ভাবনা এক রকম হয়না। যেমনটা অন্যান্য যেকোনো ব্যক্তি একে অন্যের থেকে ভিন্ন ও

ভিন্ন চিন্তা ও মন-মানসিকতার অধিকারী। সেক্ষেত্রে আমাদের উচিত মন্দ চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, খারাপ আচরন নিজে থেকে পরিবর্তন করা। একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা ও বিশ্বাস স্থাপন করা। দেশের প্রতিটা মানুষ একে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসবে, দেশের মানুষের হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাবে, সেই দিন বাংলাদেশ সহ বাংলাদেশের মানুষরাও প্রকৃত অর্থে ডিজিটাল হবে। এমনকি দারিদ্রতাও হ্রাস পাবে।

উপসংহার...

আমরা বাংলাদেশের মানুষরা যদি চেষ্টা করি দেশের উন্নয়নের জন্য পর্দানশীল নারীদের কর্মস্থলে নিয়ে আসার কর্মক্ষেত্রে তাদের পাশে দারানোর, তাহলে খুব সহজেই বাংলাদেশের দারিদ্রতা হ্রাস পাবে। এমনকি যেকোনো প্রতিষ্ঠান চাইলেই পর্দানশীল নারীদের জীবন যাপন সহজ করার ক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত করে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে। পর্দানশীল
নারীদের জন্য হিজাব, নেকাব, বোরখাই হতে পারে সবচেয়ে সুন্দর, মার্জিত, ফরমাল ড্রেস। ফলে বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের সহযোগিতায় দেশটি ক্রমশ নতুনত্বের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে। পরিধানকৃত পোষাক নয় মেধাই হোক প্রকৃত লক্ষ্য যার মধ্যে থাকবে না কোনো ভেদাভেদ। সবাই সমান অধিকারের সাথে আপন করে নিবে দেশের সকল সংস্কৃতিকে । প্রাধান্য দেওয়া হবে সকল অবহেলিত ব্যক্তিদের। কেউ আর অনাহারে অন্যের উপর নির্ভর করে দিন অতিবাহিত করবে না।


Offer Source: Plz, click here to show


মিডিয়া এসটিএন**** info@selltoearn.com***

মিডিয়া এসটিএন

Kaliakair, Gazipur, Dhaka, Bangladesh.
https://www.selltoearn.com

প্রধান উপদেষ্টা সম্পাদক: Selltoearn.com

E-mail:selltoearnmoney@gmail.com

উপদেষ্টা সম্পাদক: Selltoearn.com

কারিগরি সহযোগীতায় :
হেমাস আইটি http://www.selltoearn.com

E-mail: info@selltoearn.com

মিডিয়া এসটিএন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার মিডিয়া এসটিএন